
সরস্বতী পুজোর আগে রীতি অনুযায়ী কুল খাওয়া নিষেধ।কারণ এটি দেবীর প্রিয় ফল এবং পুজোর আগে খেলে তাঁর অমর্যাদা হয় বলে বিশ্বাস করা হয়, যা বিদ্যা ও বুদ্ধি লাভে বাধা দেয়। পাশাপাশি, মাঘ মাসে কুল কাঁচা ও কষযুক্ত থাকায় তা খেলে ঠান্ডা লাগা ও হজমের সমস্যা হতে পারে, যা স্বাস্থ্যগত কারণেও এই প্রথার প্রচলনকে সমর্থন করে, যদিও এটি মূলত একটি লোকাচার।
* দেবীর প্রিয় ফল: বিশ্বাস অনুযায়ী, কুল (বদর ফল) সরস্বতী দেবীর অত্যন্ত প্রিয় ফল, যা তিনি প্রসন্ন হয়ে ব্যাসদেবকে দিয়েছিলেন। তাই পুজোর আগে সেই ফল খেয়ে ফেললে দেবীর প্রতি অসম্মান দেখানো হয় বলে মনে করা হয়। * বিদ্যা ও জ্ঞানের প্রতীক: কুলকে জ্ঞান ও বুদ্ধির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। পুজোর আগে এটি খেলে লেখাপড়ায় মন বসে না বা বিদ্যায় বাধা আসে এমন ধারণা প্রচলিত আছে। * নৈবেদ্যের গুরুত্ব: সরস্বতী পুজোর অন্যতম প্রধান নৈবেদ্য হল কুল। পুজোর পর প্রসাদ হিসেবে এই কুল বিতরণ করা হয়, যা দেবীর আশীর্বাদ বহন করে।
* কাঁচা ও কষযুক্ত ফল: মাঘ মাস (সরস্বতী পুজোর সময়) কুলের মরসুমের শেষ দিক। এই সময়ে কুল পুরোপুরি পাকে না এবং এতে কষ বা টক ভাব বেশি থাকে, যা হজমের সমস্যা, গলা খুসখুস বা পেটের অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। * শীতের প্রভাব: সরস্বতী পুজো বসন্তের শুরুতে হয়। এই সময়ে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ঠান্ডা লাগার প্রবণতা থাকে। ঠান্ডা প্রকৃতির ফল হিসেবে কুল এড়িয়ে চলা স্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হয়। * শাস্ত্রীয় নির্দেশ: আয়ুর্বেদ ও শাস্ত্রেও মাঘ মাসে কুল বা বদরি ফল এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে, যা স্বাস্থ্যগত কারণের দিকে ইঙ্গিত করে।
* এই প্রথাটি মূলত একটি লোকাচার হিসেবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে আসছে। এর পেছনে ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্বাস্থ্যগত যুক্তির এক মিশ্রণ রয়েছে, যা বাঙালি সংস্কৃতিতে মিশে গেছে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News