
ভ্রমণপিপাসু বাঙালি খুঁজে নিয়েছে ওড়িশার এক নতুন রত্ন, পরিখী সৈকত। কলকাতার খুব কাছেই বালেশ্বর জেলায় অবস্থিত এই সমুদ্রসৈকতটি এখনও তথাকথিত আধুনিক পর্যটনের বাণিজ্যিক ছোঁয়া থেকে মুক্ত। ফলে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আজও অমলিন। ওড়িশার বালেশ্বর জেলায় অবস্থিত পরিখী (Parikhi) সমুদ্রসৈকত বর্তমানে পর্যটকদের কাছে একটি নতুন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু, যা দিঘা বা পুরীর ভিড় এড়িয়ে নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য একদম উপযুক্ত। কলকাতা থেকে কাছেই ঝাউবনের আড়ালে লুকানো এই সৈকতটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শান্ত পরিবেশ এবং লাল কাঁকড়ার দলের জন্য পরিচিত।
পরিখী সৈকতের বিশেষত্ব ও বিস্তারিত আলোচনা:
* অবস্থান ও পরিবেশ: এটি বালেশ্বর শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং দুগ্লাদি বা বাগদা বিচের কাছাকাছি। এটি বুধাবলঙ্গা এবং পঞ্চুপাড়া নদীর মাঝে অবস্থিত একটি নির্জন উপকূলীয় স্থান।
* প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: সৈকত জুড়ে রয়েছে ঘন ঝাউবন এবং সোনালী বালুকাময় তীর, যা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা দেয়। এখানে লাল কাঁকড়ার আনাগোনা সৈকতের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তোলে।
* নিরিবিলি পরিবেশ: দিঘা-পুরীর ভিড়ভাট্টা এবং কোলাহল থেকে দূরে, সমুদ্রের গর্জন এবং শান্ত পরিবেশ আপনার মন ভালো করে দেবে।
* থাকা ও খাওয়ার সুবিধা: পরিখীতে থাকার জন্য বেশ কিছু ছোট-বড় ইকো-রিসর্ট এবং ক্যাম্প রয়েছে, যেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। স্থানীয় ওড়িশি স্বাদের টাটকা সামুদ্রিক মাছের পদ এখানে বিশেষ আকর্ষণ।
* লাল কাঁকড়ার রাজত্ব: সৈকতজুড়ে চোখে পড়বে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার লুকোচুরি। মানুষের পায়ের শব্দ পেলেই তারা গর্তে লুকিয়ে পড়ে, যা এক অপূর্ব দৃশ্য।
* সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: এখানকার আকাশ পরিষ্কার থাকলে সমুদ্রের বুক চিরে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য সারাজীবন মনে রাখার মতো।
* কীভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে বালেশ্বর (Balasore) পর্যন্ত ট্রেন বা গাড়িতে গিয়ে সেখান থেকে সহজেই পরিখী পৌঁছানো যায়। শহর থেকে কাছেই ২-৩ দিনের ছুটিতে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে চাইলে পরিখী হতে পারে আপনার সেরা গন্তব্য।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News