
Health News: বয়স বাড়লে ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যখন এই ভুলে যাওয়া রোজকার জীবনকে অচল করে দেয়, কাছের মানুষকে চিনতে না পারা, রাস্তা ভুলে যাওয়া শুরু হয়, তখন সেটা অ্যালঝাইমার্স। আর পরিবারে একজনের হলে আতঙ্ক তৈরি হয়, 'আমারও কি হবে?'
চিকিৎসকরা বলছেন, দু ধরনের অ্যালঝাইমার্স হয়।
১. সাধারণ বা Sporadic অ্যালঝাইমার্স (৯৫% ক্ষেত্রে): এটা ৬৫ বছরের পর হয়। এর জন্য কোনও একটি জিন দায়ী নয়। বয়স, জীবনযাপন, ডায়াবেটিস, প্রেসার, ধূমপান, স্থূলতা - অনেক কারণ মিলে হয়। পরিবারে একজনের থাকলে আপনার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় দেড় থেকে দুই গুন বাড়ে, কিন্তু হবেই এমন নয়। দাদু-ঠাকুমার থাকলে আপনার হবে, এমন কোনও গ্যারান্টি নেই।
২. বংশগত বা Familial অ্যালঝাইমার্স (৫% এরও কম): এটা খুব বিরল। ৩০-৫০ বছর বয়সেই শুরু হয়। APP, PSEN1, PSEN2 নামে ৩টে জিনের মিউটেশনের জন্য হয়। যদি বাবা বা মায়ের এই জিন থাকে, তাহলে সন্তানের হওয়ার সম্ভাবনা ৫০%। পরিবারে যদি পরপর দুই-তিন প্রজন্মে ৪৫ বছরের আগে অ্যালঝাইমার্স হয়, তখনই এটা সন্দেহ করা হয়।
এছাড়া APOE-e4 নামে একটি রিস্ক জিন আছে। এটা থাকলে অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি তিন-চার গুন বাড়ে, কিন্তু এটা থাকলেই রোগ হবে এমন নয়।
যদি দাদু-ঠাকুমার ৮০ বছর বয়সে অ্যালঝাইমার্স হয়ে থাকে, আপনার ঝুঁকি সামান্য বেশি, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। যদি বাবা-মা বা ভাই-বোনের ৬৫ বছরের আগে হয়ে থাকে, তাহলে ঝুঁকি মাঝারি। যদি পরিবারে দু'জনের বেশি সদস্যের ৬০ বছরের আগে হয়ে থাকে, তাহলে নিউরোলজিস্টের সঙ্গে জেনেটিক কাউন্সেলিং করুন।
অ্যালঝাইমার্সের এখনও কোনও সম্পূর্ণ চিকিৎসা নেই, কিন্তু প্রতিরোধ সম্ভব। গবেষণা বলছে, ৪০% ক্ষেত্রে জীবনযাপন বদলালে রোগ এড়ানো যায়।
১. মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখুন: নতুন ভাষা শেখা, বই পড়া, দাবা, গান শেখা - মস্তিষ্কের ব্যায়াম করুন। মোবাইলে রিল না দেখে বই পড়ুন।
২. হার্টের যত্ন নিন, ব্রেন ভালো থাকবে: প্রেসার, সুগার, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ভাজাভুজি, ধূমপান, মদ এড়িয়ে চলুন।
৩. ঘুম ও ব্যায়াম: রোজ ৩০ মিনিট হাঁটা, সাত-আট ঘণ্টা গভীর ঘুম মস্তিষ্কের টক্সিন পরিষ্কার করে।
৪. সামাজিক থাকুন: একা থাকবেন না। বন্ধু, পরিবারের সঙ্গে গল্প করুন, আড্ডা দিন। একাকীত্ব অ্যালঝাইমার্সের বড় কারণ।
৫. কানে কম শুনলে যন্ত্র ব্যবহার করুন: গবেষণায় দেখা গেছে, কানে কম শোনা থেকে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
মনে রাখবেন, পরিবারে অ্যালঝাইমার্স থাকা মানেই আপনার ভবিষ্যৎ অন্ধকার নয়। সচেতন জীবনযাপন আর ৪০ বছর বয়সের পর নিয়মিত ব্রেন হেলথ চেকআপই পারে আপনাকে সুরক্ষিত রাখতে। যদি ঘন ঘন ভুলে যাওয়া, একই প্রশ্ন বারবার করা, চেনা রাস্তা ভুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখেন, দেরি না করে নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News