
উত্তরবঙ্গের “কাশ্যেম” (সম্ভবত কালিম্পং বা সংলগ্ন অঞ্চলের কোনো অফবিট গ্রাম) হলো পাহাড়ের কোলে নিভৃত, শান্ত ও সবুজে ঘেরা এক প্রাকৃতিক স্বর্গরাজ্য, যা জন কোলাহল থেকে দূরে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য আদর্শ। এর মতে, এই ধরণের গ্রামগুলো রূপকথার মতো সুন্দর, যেখানে মেঘ-পাহাড়ের খেলা এবং নিরিবিলি পরিবেশ মুগ্ধ করে।
* প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: হিমালয়ের কোলে অবস্থিত, পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা পাইন ও ফারের জঙ্গল এবং আকাশছোঁয়া কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য।
* অফবিট ডেস্টিনেশন: ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে শান্ত পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য এসব জায়গা চমৎকার। এখানে হোমস্টে-তে থেকে স্থানীয় জনজীবন ও সংস্কৃতি জানা যায়।
* সংস্কৃতি ও শিল্প: অনেক গ্রামেই স্থানীয় শিল্পীদের তৈরি কারুশিল্প দেখা যায়, যেমন রাঢ় বাংলার গ্রামগুলোতে রুরাল ক্রাফট হাব বা বিশেষ ধরণের শিল্পকর্ম থাকে, যা এর সূত্র অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীদের কাজ প্রদর্শন করে।
* ভ্রমণের সেরা সময়: অক্টোবর থেকে মার্চ মাস, অর্থাৎ শীতকাল এই ধরনের পাহাড়ি গ্রাম ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, যখন আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ স্পষ্ট দেখা যায়।
এই ধরণের গ্রামগুলি মূলত প্রকৃতিপ্রেমী ও ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি আদর্শ জায়গা।
কাশ্যেমের প্রাণ হল কাঞ্চনজঙ্ঘা। হোমস্টের বারান্দায় বসেই দেখতে পাবেন সকাল-দুপুর-সন্ধ্যায় পাহাড়ের রঙ বদলের জাদু। আশেপাশে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের পুরনো গির্জা, পরিত্যক্ত সিঙ্কোনা কারখানা আর পাহাড় বেয়ে নেমে আসা ঝরনার জল-যেখানে পা ডুবিয়ে বসে থাকতেই মন জুড়িয়ে যায়।
বনের পথ ধরে হেঁটে বেড়ানো, রামিতাদাড়া ভিউ পয়েন্ট থেকে উপত্যকার দৃশ্য দেখা কিংবা হিমালি পার্কে রঙিন ফুলের মাঝে সময় কাটানো-সব মিলিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে একান্ত সময় কাটানোর সুযোগ।
শিয়ালদহ থেকে ট্রেন বা বাসে নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছনোই সবচেয়ে সুবিধাজনক। সেখান থেকে গাড়িতে সরাসরি কাশ্যেম যাওয়া যায়। চাইলে কালিম্পং হয়েও আসতে পারেন। পাহাড়ি পথ হলেও যাত্রাটা দারুণ সুন্দর।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News