
আয়নার সামনে দাঁড়ালেই মন খারাপ? গরমের শুরু থেকে কপালে ভাঁজ, চোখের কোণে ফাইন লাইন, গালে পিগমেন্টেশন? পার্লারে হাজার হাজার টাকা ঢালছেন, কিন্তু দুদিন পরেই যে কে সেই?
আসল খেলা হয় ভেতর থেকে। গরমে শরীর থেকে জল বেরিয়ে যায়, UV রে কোলাজেন ভেঙে দেয়, আর ফ্রি-র্যাডিক্যাল কোষের বারোটা বাজায়। তাই ক্রিম মেখে লাভ নেই। পেটে যা যাবে, ত্বক তাই বলবে।
১. শসা: ন্যাচারাল হাইড্রেশন + সিলিকা বুস্টার শসার ৯৬% জল। গরমে ডিহাইড্রেশনই স্কিন ঝুলে যাওয়ার ১ নম্বর কারণ। রোজ ১টা গোটা শসা খেলে শরীর ভেতর থেকে হাইড্রেট থাকে। ম্যাজিক কী আছে: শসার খোসায় ‘সিলিকা’ থাকে। সিলিকা কোলাজেন তৈরি করে। কোলাজেন মানেই টানটান স্কিন। এছাড়া ভিটামিন-K চোখের তলার কালি কমায়। কীভাবে খাবেন: খোসা না ছাড়িয়ে সকালে খালি পেটে বা দুপুরে ভাতের সাথে। বিটনুন দেবেন না, সোডিয়াম জল টেনে নেয়।
২. পাকা টমেটো: সস্তার সানস্ক্রিন + বোটক্স গরমে UV রে-ই বয়সের ছাপের আসল ভিলেন। টমেটোতে আছে ‘লাইকোপিন’। এটা ন্যাচারাল SPF-এর কাজ করে। হার্ভার্ডের স্টাডি বলছে, রোজ টমেটো খেলে সানবার্ন ৪০% কম হয়। ম্যাজিক কী আছে: লাইকোপিন ফ্রি-র্যাডিক্যাল মেরে ফেলে। ফলে নতুন বলিরেখা পড়ে না। ভিটামিন-C কোলাজেন বানায়। কীভাবে খাবেন: কাঁচা নয়, হালকা সেদ্ধ বা ভাপানো টমেটো। তেল দিয়ে রান্না করলে লাইকোপিন ৪ গুণ বেশি শোষণ হয়। রোজ দুপুরে ১টা।
3. পাতিলেবু: ভিটামিন-C বোমা + ডিটক্স ১টা পাতিলেবুতে দিনের ৩০% ভিটামিন-C থাকে। ভিটামিন-C ছাড়া শরীর কোলাজেন বানাতেই পারে না। গরমে ঘাম হয়ে টক্সিন জমে, লেবু সেটা ফ্লাশ আউট করে। ম্যাজিক কী আছে: লেবুর ‘সাইট্রিক অ্যাসিড’ ডেড সেল তুলে স্কিন ব্রাইট করে। পিগমেন্টেশন, ট্যান হালকা করে। কীভাবে খাবেন: সকালে খালি পেটে ১গ্লাস হালকা গরম জলে অর্ধেক পাতিলেবু, চিনি ছাড়া। দাঁতে লাগাবেন না, স্ট্র দিয়ে খান। ইনামেল ক্ষয় হবে না।
4. টক দই: প্রোবায়োটিক গ্লো + ল্যাকটিক অ্যাসিড স্কিন খারাপের আসল কারণ ‘গাট হেলথ’। পেটে ব্যাড ব্যাকটেরিয়া বাড়লেই ব্রণ, র্যাশ, বুড়োটে ছাপ পড়ে। টক দইয়ের প্রোবায়োটিক পেট পরিষ্কার রাখে। ম্যাজিক কী আছে: দইয়ের ‘ল্যাকটিক অ্যাসিড’ ভেতর থেকে স্কিন এক্সফোলিয়েট করে। জিঙ্ক সেবাম কন্ট্রোল করে, ব্রণ আটকায়। B2, B5, B12 নতুন কোষ গজায়। কীভাবে খাবেন: দুপুরে ভাতের পর ১ বাটি, চিনি-নুন ছাড়া। শসা গ্রেট করে রায়তা বানালে ডবল লাভ। রাতে নয়, মিউকাস বাড়াবে।
৫. তরমুজ: গ্লুটাথিয়ন + পানির পাওয়ারহাউস গরমের ফল মানেই তরমুজ। ৯২% জল, সাথে ‘গ্লুটাথিয়ন’। গ্লুটাথিয়নকে বলে ‘মাস্টার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট’। দামি গ্লুটাথিয়ন ইনজেকশনের কাজ সস্তায় করে দেবে। ম্যাজিক কী আছে: গ্লুটাথিয়ন লিভার ডিটক্স করে, মেলানিন কমায়। ফলে স্কিন ২শেড ফর্সা লাগে, স্পট হালকা হয়। ভিটামিন-A রিপেয়ার করে। কীভাবে খাবেন: বিকেলে টিফিন হিসাবে ২-৩ পিস। খালি পেটে বা ভরা পেটে নয়। বীজ সহ খান, ম্যাগনেসিয়াম পাবেন।
সকাল ৭টা: খালি পেটে লেবু-জল বেলা ১১টা: ১টা গোটা শসা দুপুর ২টো: ভাতের সাথে সেদ্ধ টমেটো + ১ বাটি টক দই বিকেল ৫টা: ২পিস তরমুজ সাথে: দিনে ৩ লিটার জল মাস্ট। রোদে ছাতা-সানগ্লাস। রাত ১১টার মধ্যে ঘুম।
১. চিনি: কোলাজেনকে ‘গ্লাইকেশন’ করে ভেঙে দেয়। ১টা রসগোল্লা = ৭ দিনের কোলাজেন লস। ২. ভাজাভুজি: তেল ফ্রি-র্যাডিক্যাল বাড়ায়। ফুচকা, চপ, বেগুনি কমান। ৩. প্যাকেটজাত জুস: লেখে ‘রিয়াল ফ্রুট’। আসলে ৯০% চিনি।
শেষ কথা: কোনো ক্রিম আপনাকে ২০ বছর বয়স দেবে না। আপনার রান্নাঘরই আসল পার্লার। এই ৫টা খাবার মিলে মাসে ৩০০ টাকাও খরচ হবে না। কিন্তু ৩০ দিন পর আয়না নিজেই চমকে যাবে।
আজ বাজার থেকে কী আনছেন? শসা না তরমুজ? কমেন্টে জানান। আর এই ডায়েট শুরু করার পর ১৫ দিনে সেলফি তুলে রাখুন, তফাৎ নিজেই দেখবেন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News