Sneezing: ঘুম থেকে উঠেই হাঁচি শুরু? রাতের এই ১টা কাজেই মুশকিল আসান

Published : May 18, 2026, 09:21 PM IST
Sneezing Style

সংক্ষিপ্ত

একবার শুরু হলে ১০-১৫ টা হাঁচি একসাথে? নাক-চোখ চুলকাচ্ছে, মাথা ধরছে, কিন্তু সর্দি-জ্বর নেই? এটা অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের সিগন্যাল।

হাঁচির দমক উঠলেই কী করবেন? ৭টা ইনস্ট্যান্ট টোটকা:

১. জিভ দিয়ে তালুতে চাপ দিন, ৫ সেকেন্ডেই ব্রেক হাঁচি আসছে বুঝলেই জিভের ডগা দিয়ে মুখের তালুর ঠিক মাঝখানে জোরে চাপ দিয়ে ধরুন ৫-১০ সেকেন্ড। হাঁচির সিগন্যালটা ব্রেনে যায় ট্রাইজেমিনাল নার্ভ দিয়ে। জিভের চাপ সেই নার্ভকে ‘ডিস্ট্র্যাক্ট’ করে দেয়। হাঁচি আর আসবে না। এটা সবচেয়ে ফাস্ট কাজ করে।

২. নাকের নিচে আঙুল দিয়ে চেপে ধরুন বুড়ো আঙুল দিয়ে নাকের ঠিক নিচে, ঠোঁটের উপরে যে খাঁজ আছে সেটায় জোরে ১০ সেকেন্ড চেপে ধরুন। একিউপ্রেশারের এই পয়েন্ট হাঁচির রিফ্লেক্স থামায়। পাবলিক প্লেসে এটাই সবচেয়ে সহজ।

৩. নাক দিয়ে জল টানুন, নেটি ক্রিয়া একটা বাটিতে হালকা গরম জল নিন। তাতে এক চিমটে লবণ মেশান। এক নাক বন্ধ করে অন্য নাক দিয়ে জলটা টেনে মুখ দিয়ে ফেলুন। ২-৩ বার করুন। নাকে জমা ডাস্ট, পোলেন, অ্যালার্জেন সব ধুয়ে বেরিয়ে যাবে। হাঁচির মূল কারণটাই চলে গেল। রোজ সকালে করলে ক্রনিক হাঁচি ৭০% কমে।

৪. গরম জলের ভাপ নিন, ২ মিনিটে নাক খুলবে: এক বাটি গরম জলে ২ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল বা ভিক্স ফেলুন। মাথায় তোয়ালে চাপা দিয়ে ২ মিনিট ভাপ নিন। গরম ভাপ নাকের ভেতরের মিউকাস মেমব্রেনকে শান্ত করে। নাক খুলে যায়, চুলকানি কমে, হাঁচি বন্ধ হয়। সাইনাসের হাঁচিতেও দারুণ কাজ দেয়।

৫. আদা-তুলসীর চা, হিস্টামিন ব্লকার ১ কাপ জলে ৪-৫ টা তুলসী পাতা, ১ ইঞ্চি আদা থেঁতো করে ৫ মিনিট ফোটান। ১ চামচ মধু মিশিয়ে গরম গরম খান। তুলসী আর আদা দুটোই ন্যাচারাল অ্যান্টি-হিস্টামিন। অ্যালার্জির রিঅ্যাকশন কমায়। দিনে ২ বার খেলে হাঁচির ফ্রিকোয়েন্সি কমবে।

৬. ঘি দিয়ে নাকের ভেতর ম্যাসাজ কড়ে আঙুলে একটু খাঁটি গাওয়া ঘি নিন। নাকের দুটো ফুটোর ভেতরে হালকা করে লাগিয়ে দিন। ঘুমানোর আগে করবেন। ঘি নাকের ভেতরের ড্রাইনেস কমায়, একটা প্রোটেক্টিভ লেয়ার তৈরি করে। ফলে ধুলো, ঠান্ডা হাওয়া ঢুকে চুলকানি কম হয়। আয়ুর্বেদে একে ‘নস্য’ বলে।

৭. চোখের পাতা টানুন বা ব্রাইট লাইট দেখুন: অদ্ভুত শোনালেও ৬০% লোকের ‘ফোটিক স্নিজ রিফ্লেক্স’ থাকে। মানে ব্রাইট লাইট দেখলে হাঁচি পায়। আবার উল্টোটাও হয়। হাঁচি এলে সূর্যের দিকে বা টিউব লাইটের দিকে ৩ সেকেন্ড তাকান। ব্রেনের অন্য পার্ট অ্যাকটিভ হয়ে হাঁচি ক্যানসেল করে দেয়।

কী করলে হাঁচি বাড়বে? এই ৪টে জিনিস এড়িয়ে চলুন: ১. পারফিউম, রুম ফ্রেশনার: স্ট্রং গন্ধ সবচেয়ে বড় ট্রিগার। ২. পুরনো বই, কার্পেট, লেপ: এতে ডাস্ট মাইট থাকে। রোদে দিন। ৩. AC-র ঠান্ডা হাওয়া সরাসরি মুখে: AC 24-26°C রাখুন, ফ্যান ফুল স্পিডে নয়। ৪. নাকে আঙুল দেওয়া, জোরে নাক ঝাড়া: এতে ভেতরের পর্দা আরও ইরিটেট হয়, হাঁচি বাড়ে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন? ১. হাঁচির সাথে জ্বর, গা-হাত-পা ব্যথা, গন্ধ না পাওয়া, ৭দিনের বেশি। ২. নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা সবুজ-হলুদ ঘন সর্দি। ৩. শ্বাসকষ্ট, বুকে সাঁই সাঁই আওয়াজ। এটা অ্যাজমার লক্ষণ হতে পারে।

শেষ কথা: হাঁচি শরীরের ডিফেন্স মেকানিজম। কিন্তু দিনে ২০-৩০ টা হাঁচি নর্মাল নয়। ওষুধের আগে ট্রিগার খুঁজুন। ধুলো, পোলেন, পোষা প্রাণীর লোম, কোনটা থেকে হচ্ছে দেখুন। ঘর পরিষ্কার রাখুন, নাক ঢেকে ঝাঁট দিন।

আর হাঁচির দমক উঠলেই জিভের টোটকাটা মারুন। ৫সেকেন্ডে ম্যাজিক দেখবেন।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Health News: মা ঠিকই বলতেন, খেতে বসে জল খাওয়া মানে হজমে কেরোসিন ঢালা, বন্ধ না করলে পস্তাবেন
Health: বয়স অনুযায়ী কত পা হাঁটবেন? ১০ হাজার নয়, আসল সংখ্যাটা জানুন