
Bay Leaf Water: ১৪ দিনে রোগ সেরে যাবে - শুনেই চমকে উঠেছেন তো? ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে রোজ এমন মেসেজ আসে। "সকালে খালি পেটে তেজপাতা জল, সব রোগ গায়েব"। তেজপাতা রান্নার স্বাদ বাড়ায়, এটা সবাই জানে। কিন্তু ওষুধের বিকল্প? এখানেই থামতে হবে। কোনো একটা জিনিস খেয়ে "জটিল রোগ" সেরে যাওয়া ম্যাজিক না, মিথ। চলুন বিজ্ঞান আর আয়ুর্বেদ দুই দিক থেকেই দেখি।
তেজপাতার জলে আসলে কী আছে? তেজপাতা বা Bay Leaf এ আছে ইউজেনল, সিনিওল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন A আর C। গরম জলে ফোটালে এই উপাদানগুলো জলে মেশে।
আয়ুর্বেদ কী বলে: হজমের গ্যাস, পেট ফাঁপা, ঠান্ডা লাগা, গলাব্যথায় তেজপাতা চা ব্যবহার হয়। এটা হজম এনজাইম বাড়াতে সাহায্য করে। বিজ্ঞান কী বলে: ল্যাব টেস্টে তেজপাতার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ পাওয়া গেছে। কিন্তু "১৪ দিনে সুগার/কোলেস্টেরল সেরে যাবে" - এমন ক্লিনিক্যাল প্রমাণ মানুষের শরীরে নেই। ইঁদুরের ওপর কিছু প্রাথমিক স্টাডি আছে, সেটাই শেষ কথা না।
তাহলে "জটিল রোগ সেরে যাবে" - এটা কি সত্যি? না, এটা ভুল এবং বিপজ্জনক দাবি। সুগার, হাই প্রেশার, থাইরয়েড, হার্টের রোগ - এগুলো লাইফস্টাইল আর ওষুধ দিয়ে কন্ট্রোল করতে হয়। শুধু তেজপাতার জল খেয়ে ইনসুলিন বন্ধ করে দিলে সুগার বেড়ে কোমা পর্যন্ত হতে পারে। "ম্যাজিক রেমেডি" ভেবে ডাক্তারের ওষুধ বন্ধ করবেন না। কোনো খাবারই ওষুধের বিকল্প না।
তেজপাতার জল কারা খেতে পারেন, কীভাবে? সুস্থ মানুষ হজমের জন্য মাঝে মাঝে খেতে পারেন। এটা টক্সিক না।
বানানোর নিয়ম: ২-৩টা শুকনো তেজপাতা ১ গ্লাস জলে ৫ মিনিট ফোটান। ছেঁকে হালকা গরম খান। দিনে একবার, খাওয়ার পর। কে খাবেন না: গর্ভবতী, বুকের দুধ খাওয়ানো মা, বাচ্চা, অপারেশনের আগে পরে রোগী - তেজপাতা রক্ত পাতলা করতে পারে। সুগারের ওষুধ খেলে হাইপো হতে পারে। কিডনি স্টোনের রোগীরা ডাক্তারকে জিজ্ঞেস না করে খাবেন না।
তেজপাতার আসল ৩টি কাজ হজমে সাহায্য: খাওয়ার পর পেট ভার, গ্যাস হলে এক কাপ তেজপাতা চা আরাম দেয়। ঠান্ডা-কাশিতে: গরম তেজপাতা জলের ভাপ নিলে নাক বন্ধ ছাড়ে। চা খেলে গলাব্যথা কমে। রান্নার স্বাদ: বিরিয়ানি, মাংসে ফ্লেভার আনে। এটাই তেজপাতার আসল কাজ।
শেষ কথা তেজপাতার জল "ম্যাজিক" না, এটা একটা ভালো ঘরোয়া ড্রিংক। হজম আর ঠান্ডার জন্য কাজে লাগে। কিন্তু ইউটিউবে দেখা "১৪ দিনে জটিল রোগ সারবে" - এই কথা বিশ্বাস করে ওষুধ বন্ধ করবেন না।
শরীরের কোনো জটিল সমস্যা থাকলে, সুগার-প্রেশারের ওষুধ খেলে, বা নতুন কিছু ট্রাই করার আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। আপনার শরীর আপনার দায়িত্ব।
নোট: সুগার, কোলেস্টেরল, থাইরয়েড, হার্টের রোগ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদী অসুখ থাকলে নিজে থেকে কোনো ঘরোয়া টোটকা শুরু করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা প্রাণঘাতী হতে পারে। কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে ডাক্তার দেখান। এটা সাধারণ তথ্য, চিকিৎসার বিকল্প না।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News