Travel Spot: বর্ষায় মন ভালো নেই? ভারতের এই ৬ জলপ্রপাত দেখলে সব ক্লান্তি ধুয়ে যাবে

Published : Jun 16, 2026, 09:03 PM IST
Best waterfall india monsoon trip season travel places Nature trip monsoon

সংক্ষিপ্ত

গরমের শেষে আকাশ কালো করে মেঘ ডাকলেই বাঙালির মন উড়ু উড়ু করে। বর্ষা মানেই সবুজ, মানেই জলপ্রপাতের গর্জন। ভারত জুড়ে ছড়িয়ে আছে এমন ৬টা অসাধারণ জলপ্রপাত যা বর্ষাকালেই আসল রূপে ধরা দেয়।

বর্ষায় জলপ্রপাত দেখার মজাই আলাদা। বর্ষাকাল এলেই পাহাড়-জঙ্গল সবুজ হয়ে ওঠে। শুকনো ঝর্ণাগুলো হঠাৎ জেগে ওঠে। জলের তোড়, ঠান্ডা হাওয়া আর মাটির গন্ধ - শহরের ক্লান্তি এক নিমেষে ধুয়ে যায়। গরমকালে যে ঝর্ণায় শুধু টিপটিপ জল পড়ে, বর্ষায় সেটাই হয়ে ওঠে ১০ ফুটের দৈত্য। ছবি তুলুন, ভিজুন, প্রকৃতির গর্জন শুনুন। বর্ষায় জলপ্রপাত দেখার ফিলিংসটাই আলাদা। ভারতের এই ৬টি জলপ্রপাত বর্ষার জন্য একদম পারফেক্ট।

১. অথিরাপল্লি জলপ্রপাত - "দক্ষিণ ভারতের নায়াগ্রা"

কোথায়: কেরলের ত্রিশুর জেলায়

বিশেষত্ব: চালাকুডি নদীর জল ৮০ ফুট উপর থেকে গর্জন করে নামছে। চারপাশে ঘন জঙ্গল। "বাহুবলি" সিনেমার শুটিং এখানেই হয়েছিল।

কেন বর্ষায় যাবেন: জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই ঝর্ণার আসল রূপ দেখা যায়। জলের তোড় এত বেশি যে সামনে দাঁড়ানো যায় না। জলকণা এসে গা ভিজিয়ে দেবে।

কীভাবে যাবেন: কোচি এয়ারপোর্ট থেকে ৭০ কিমি। গাড়ি ভাড়া করে সহজেই যাওয়া যায়। কাছেই ভাজাচল জলপ্রপাতও দেখে নিতে পারবেন।

২. ডুডসাগর জলপ্রপাত - "সাগরের দুধের স্রোত"

কোথায়: গোয়া-কর্ণাটক বর্ডারে, ভগবান মহাবীর স্যাংচুয়ারিতে

বিশেষত্ব: ৩০ মিটার উপর থেকে ৪টে ধারায় জল পড়ছে। দেখলে মনে হবে দুধের নদী পাহাড় বেয়ে নামছে। নামের মানেও তাই।

কেন বর্ষায় যাবেন: বর্ষায় মাণ্ডবী নদী ফুলে ফেঁপে ওঠে। তখন ডুডসাগরের রূপ ভয়ঙ্কর সুন্দর। ট্রেনে গেলে ঝর্ণার উপর দিয়েই ট্রেন যায় - সে এক আলাদা অভিজ্ঞতা।

কীভাবে যাবেন: পানাজি থেকে জিপ সাফারি বুক করুন। ট্রেক করেও যাওয়া যায়। তবে বর্ষায় ট্রেক রিস্কি, গাইড নিয়ে যাবেন।

৩. নোহকালিকাই জলপ্রপাত - "মেঘের দেশের কান্না"

কোথায়: মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে

বিশেষত্ব: ভারতের সবচেয়ে উঁচু প্লাঞ্জ ওয়াটারফল। ৩৪০ মিটার উপর থেকে একটানা জল নিচের সবুজ গর্তে পড়ছে। নিচে একটা নীলচে সবুজ কুণ্ড তৈরি হয়েছে।

কেন বর্ষায় যাবেন: চেরাপুঞ্জি মানে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃষ্টির জায়গা। বর্ষায় এখানে মেঘ-কুয়াশা-জল একাকার। ঝর্ণার জল দেখা যায় না, শুধু গর্জন শোনা যায়। একদম অন্যরকম ফিল।

কীভাবে যাবেন: শিলং থেকে ৫৪ কিমি। সকাল সকাল বেরোলে একদিনেই ঘুরে আসা যায়। ভিউ পয়েন্ট থেকে দেখাই বেস্ট।

৪. যোগ জলপ্রপাত - "চার ধার রাজা"

কোথায়: কর্ণাটকের শিমোগা জেলায়

বিশেষত্ব: শরাবতী নদীর জল ৮৩০ ফুট উপর থেকে ৪টে ধারায় ভাগ হয়ে পড়ছে। রাজা, রানি, রোয়ার, রকেট - এই চারটে নামে পরিচিত।

কেন বর্ষায় যাবেন: বর্ষা ছাড়া যোগ জলপ্রপাত দেখা যায় না। অক্টোবর-নভেম্বরে জল কমে গেলে ঝর্ণা শুকিয়ে যায়। বর্ষায় প্রতিটা ধারাই পূর্ণ গতিতে নামে। আওয়াজে কান পাতা দায়।

কীভাবে যাবেন: বেঙ্গালুরু থেকে ৪০ কিমি। শিমোগা হয়ে যেতে হয়। ভিউ পয়েন্টে যাওয়ার রাস্তা একটু খারাপ, তবে ভিউ তার জন্য ওয়ার্থ ইট।

৫. ভীমশঙ্কর জলপ্রপাত - "মহারাষ্ট্রের লুকানো রত্ন"

কোথায়: মহারাষ্ট্রের পুনে জেলায়, ভীমশঙ্কর ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারির ভিতরে

বিশেষত্ব: সহ্যাদ্রি পাহাড়ের কোল বেয়ে নেমে আসা এই ঝর্ণা ঘন জঙ্গলে ঢাকা। ভীমশঙ্কর মন্দিরও কাছেই। প্রকৃতি আর ভক্তি একসাথে।

কেন বর্ষায় যাবেন: জুলাই-আগস্টে এখানে ল্যান্ডস্কেপ পুরো বদলে যায়। চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ। ঝর্ণার জল মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে যায়। একদম পিসফুল জায়গা।

কীভাবে যাবেন: পুনে থেকে ১০ কিমি। গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায়। মন্দির দর্শন আর ঝর্ণা - দুটোই এক ট্রিপে হয়ে যাবে।

৬. চিত্রকোট জলপ্রপাত - "ভারতের নায়াগ্রা"

কোথায়: ছত্তিশগড়ের বস্তার জেলায়, ইন্দ্রাবতী নদীর উপর

বিশেষত্ব: ১০০ ফুট চওড়া আর ৩০ ফুট উঁচু। ঘোড়ার ক্ষুরের মতো বাঁক নিয়ে জল পড়ছে। বর্ষায় পুরো নদীটাই ঝর্ণা হয়ে যায়। রাতে চাঁদের আলোয় "মুন রেইনবো" দেখা যায়।

কেন বর্ষায় যাবেন: বর্ষায় ইন্দ্রাবতী নদীতে জল এত বাড়ে যে ঝর্ণার গর্জন ৫ কিমি দূর থেকেও শোনা যায়। নৌকা নিয়ে কাছে যাওয়া যায়। জলের ছাঁটে সারা শরীর ভিজে যাবে।

কীভাবে যাবেন: জগদলপুর থেকে ৩৮ কিমি। রায়পুর বা বিশাখাপত্তনম থেকে ট্রেনে জগদলপুর আসুন।

বর্ষায় জলপ্রপাত ঘুরতে যাওয়ার ৩টি জরুরি টিপস :

নিরাপত্তা প্রথম: বর্ষায় পাথর পিছল থাকে। ঝর্ণার খুব কাছে যাবেন না। সেলফি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনা হয় সবচেয়ে বেশি। বাচ্চা আর বয়স্কদের নিয়ে এক্সট্রা সাবধান।

জিনিসপত্র: রেইনকোট, এক্সট্রা জামা, ওয়াটারপ্রুফ মোবাইল কভার আর ভালো গ্রিপের জুতো মাস্ট। লিচ-জোঁকের জন্য নুন রাখুন ব্যাগে।

সময় বাছুন: বর্ষার পিক টাইম জুলাই-আগস্ট। তবে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও জল ভালো থাকে, ভিড় কম থাকে। উইকেন্ড বাদ দিয়ে উইকডে গেলে শান্তিতে ঘুরতে পারবেন।

শেষ কথা

বর্ষা শুধু কাদা আর ট্র্যাফিক না। বর্ষা হলো প্রকৃতির রিসেট বাটন। আর জলপ্রপাত হলো সেই রিসেটের মেইন সুইচ। এই ৬টা জায়গার যে কোনো একটা ঘুরে আসুন। মন-শরীর দুটোই চাঙ্গা হয়ে যাবে। ফোনের গ্যালারি ভরে যাবে, মন ভরে যাবে শান্তিতে।

বর্ষায় পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার রিস্ক থাকে। যাওয়ার আগে ওয়েদার ফোরকাস্ট আর লোকাল নিউজ চেক করে নিন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলে জোর করবেন না। নিরাপত্তা সবার আগে।

 

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

প্রথম ডেটেই "সোলমেট" ভেবে ফেলছেন? মনোবিদদের মতে এই ৩ কারণে এখনই ব্রেক লাগান
Lifestyle Tips: ঘাম-গরমে হাঁপিয়ে উঠছেন? স্নানের এই ৭টা কৌশলেই কমবে চুলকানি-ব্রণ-ঘামাচি, ফিরবে স্বস্তি