Lifestyle Tips: গ্রীষ্মে ঘাম জমে শরীর চুলকানো, পিঠ-বুকে ব্রণ আর ঘামাচি এখন ঘরে ঘরে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়মে স্নান করলে ৮০% সমস্যা ঘরেই মিটে যায়। জলের তাপমাত্রা, সাবান-বডিওয়াশ সিলেকশন, স্নানের সময় ও পরবর্তী যত্ন - এই ৪টে স্টেপ মানলেই ত্বক থাকবে ফ্রেশ, ব্রণ-চুলকানি দুই কমবে। সাথে রইল ডাক্তারের কাছে কখন যাবেন তার গাইডলাইন।
Lifestyle Tips: বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের আগে থেকেই ঘামে ভেজা ভ্যাপসা গরম। আর ঘামের সাথে পাল্লা দিয়ে আসে অশান্তি - ঘাড়-পিঠ-কুঁচকিতে লাল লাল চাকা, মুখে ছোট ছোট ব্রণ, রাতে ঘুমোতে না পারার মতো চুলকানি। এসি চালিয়েও ঘাম থামে না, বরং এসির শুকনো হাওয়ায় ত্বক আরও ডিহাইড্রেট হয়ে ব্রণ বাড়ায়। ক্রিম-মলম কিনে পকেট ফাঁকা না করে, আগে নিজের স্নানের রুটিনটা চেক করুন। ডার্মাটোলজিস্টরা বলছেন, ঠিক নিয়মে স্নান করলেই এই সব "গরমের রোগ" থেকে ৮০% মুক্তি মেলে।

স্নানের ৭টা গোল্ডেন কৌশল:
১. জলের তাপমাত্রা ঠিক করুন: গরম জল = ব্রণের আমন্ত্রণ
অনেকের ধারণা গরম জলে স্নান করলে ঘামের রোমকূপ বন্ধ হয়ে যাবে। এটা ভুল। গরম জল ত্বকের সেবাম বা প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে দেয়। তখন ত্বক "সেফটি মোডে" গিয়ে আরও বেশি তেল তৈরি করে। ফল? T-Zone চকচক করে, ব্রণ পেকে ওঠে। বেস্ট হল কুসুম গরম বা সাধারণ ট্যাপের জল। তীব্র গরমে ঠান্ডা জল ব্যবহার করুন। ঠান্ডা জল রোমকূপ সাময়িক বন্ধ করে, ঘাম কমায়, চুলকানিতেও আরাম দেয়।
২. সাবান-বডিওয়াশ চুজ করতে ভুল করবেন না
গন্ধওয়ালা সাবান ঘামের ব্যাকটেরিয়া মারতে পারে না। বরং পারফিউম থেকে অ্যালার্জি হয়।
Medicated Bodywash ঘামাচি, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, চুলকানির জন্য এগুলো বেস্ট।
মুখের জন্য: Salicylic Acid 0.5% - 2%, Benzoyl Peroxide 2.5% বা Niacinamide যুক্ত ফেসওয়াশ। তৈলাক্ত ত্বক আর ব্রণের জন্য ডাক্তাররাই এগুলো সাজেস্ট করেন।
নিয়ম: মুখের ফেসওয়াশ দিয়ে গা ধোবেন না। গায়ের বডিওয়াশ মুখে লাগাবেন না। দুটোর pH লেভেল আলাদা।
৩. "প্যাট ড্রাই" করুন
চুলকাচ্ছে বলে ঝামা পাথর বা শক্ত লুফা দিয়ে ঘষলে ত্বকের Protective Barrier নষ্ট হয়। তখন ব্যাকটেরিয়া-ফাঙ্গাস সহজে ঢুকে ইনফেকশন করে। সবসময় নরম হাত বা সিলিকন বডি ব্রাশ ব্যবহার করুন। ঘাড়ের ভাঁজ, বগল, কুঁচকি, পিঠের নিচের অংশ - ঘাম জমে এমন জায়গায় ৩০ সেকেন্ড এক্সট্রা সময় দিন, কিন্তু ঘষবেন না।
৪. স্নানের সময় ও ফ্রিকোয়েন্সি মেইনটেইন করুন:
সারাদিন বাইরে থাকলে রাতে শোওয়ার আগে একবার স্নান বাধ্যতামূলক। সকালে বেরোনোর আগেও একবার। দিনে ২ বারের বেশি স্নান করলে ত্বক ডিহাইড্রেট হয়ে যায়। আর ২০ মিনিট ধরে গান শুনে স্নান করাও বাদ দিন। ৫-৭ মিনিটের কুইক শাওয়ারই যথেষ্ট। বেশি সময় জলে থাকলে ত্বক কুঁচকে যায়, চুলকানি বাড়ে।
৫. শ্যাম্পু-কন্ডিশনার থেকে সাবধান:
মাথা ধোয়ার সময় শ্যাম্পু-কন্ডিশনারের ফেনা যেন পিঠ-কাঁধে না নামে। এগুলোর Sulfate আর Silicone পিঠে, কপালে ছোট ছোট "Fungal Acne" বা Pityrosporum Folliculitis তৈরি করে। শ্যাম্পু করার পর শেষে এক মগ পরিষ্কার জল দিয়ে পিঠটা ধুয়ে নিন।
৬. স্নানের পর ৩ মিনিটের রুল মানুন
ভেজা গায়ে ফ্যানের হাওয়া খাবেন না। সুতির নরম তোয়ালে দিয়ে চেপে চেপে জল মুছুন, ঘষবেন না। স্নান সেরে ৩ মিনিটের মধ্যে হালকা, Non-comedogenic, Gel-based ময়েশ্চারাইজার বা খাঁটি অ্যালোভেরা জেল লাগান। ঘাম বসে ত্বক শুকিয়ে গেলেই চুলকানি আর ব্রণ দুই বাড়ে। পাউডার ব্যবহার করলে কর্নস্টার্চ বেসড বা Prorash পাউডার বেছে নিন। ট্যালকম পাউডার রোমকূপ বন্ধ করে দেয়।
৭. জামা-কাপড় ও অন্যান্য অভ্যাস বদলান :
১. সিন্থেটিক, টাইট জামা বাদ দিয়ে ১০% সুতি, ঢিলা জামা পরুন। ঘাম শুষে নেবে, বাতাস চলাচল করবে।
২. বালিশের কভার, তোয়ালে ২-৩ দিন অন্তর কেচে নিন। ঘাম-ময়লা জমে ব্রণের ফ্যাক্টরি হয়ে যায়।
৩. মুখে বারবার হাত দেবেন না। ফোনের স্ক্রিনও দিনে একবার স্যানিটাইজ করুন।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন? রেড ফ্ল্যাগ:
স্নান-যত্ন করেও যদি ৭ দিনের বেশি চুলকানি থাকে, লাল গোল গোল রিং ওঠে, পুঁজ-জল বের হয়, বা ব্রণের সাথে জ্বর-গা হাত-পা ব্যথা আসে, তাহলে দেরি করবেন না। এগুলো Tinea Corporis বা Folliculitis এর লক্ষণ। তখন Clotrimazole বা Fusidin এর মতো প্রেসক্রিপশন ক্রিম লাগবে। নিজে থেকে স্টেরয়েড ক্রিম লাগাবেন না, ত্বক পাতলা হয়ে যাবে।
শেষ কথা:
গরমে স্বস্তি মানেই দামি এসি বা দামি ক্রিম নয়। স্বস্তি মানে নিজের ত্বককে বোঝা আর সঠিক যত্ন করা। ঠিক নিয়মের স্নানই হতে পারে আপনার সবচেয়ে কার্যকরী আর সস্তার "স্কিন ডক্টর"।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


