‘প্যাথোলজিক্যাল লায়ার’! এটা কি কথার কথা নাকি সত্যিই মানসিক অসুখ? জেনে নিন

Published : Nov 02, 2026, 10:45 PM IST
pathological liar is pathological lying a disease psychologist explains manipulation

সংক্ষিপ্ত

টলিপাড়ায় নতুন বিতর্ক। অভিনেতা ভরত কলের বিস্ফোরক অভিযোগ, সৃজলা গুহ একজন 'প্যাথোলজিক্যাল লায়ার'। তাঁর দাবি, সৃজলা ক্যামেরার সামনে একরকম, আড়ালে আরেকরকম। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য গল্প বানিয়ে অন্যদের প্রভাবিত বা ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করেছেন তিনি। এই শব্দটা শুনেই নেটিজেনদের প্রশ্ন, প্যাথোলজিক্যাল লায়ার কি সত্যিই কোনও রোগ?

টলিপাড়ায় নতুন বিতর্ক। অভিনেতা ভরত কলের বিস্ফোরক অভিযোগ, সৃজলা গুহ একজন 'প্যাথোলজিক্যাল লায়ার'। তাঁর দাবি, সৃজলা ক্যামেরার সামনে একরকম, আড়ালে আরেকরকম। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য গল্প বানিয়ে অন্যদের প্রভাবিত বা ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করেছেন তিনি। এই শব্দটা শুনেই নেটিজেনদের প্রশ্ন, প্যাথোলজিক্যাল লায়ার কি সত্যিই কোনও রোগ?

প্যাথোলজিক্যাল লায়ার আসলে কী?

মনোবিদরা বলছেন, সাধারণ মিথ্যে আর প্যাথোলজিক্যাল লায়ারের মিথ্যের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ।

আমরা সবাই মাঝে মাঝে ভয়ে বা লজ্জায় মিথ্যে বলি। কিন্তু প্যাথোলজিক্যাল লায়ার বা Mythomania-তে আক্রান্ত ব্যক্তি কোনও কারণ ছাড়াই, অভ্যাসবশত ক্রমাগত মিথ্যে বলে।

এর ৩টি প্রধান লক্ষণ:

১. কোনও লাভ ছাড়াই মিথ্যে: সাধারণ মানুষ লাভের জন্য মিথ্যে বলে। কিন্তু এরা এমনকি ধরা পড়ে যাবে জেনেও, কোনও লাভ নেই এমন বিষয়েও গল্প বানায়।

২. নিজেই নিজের গল্প বিশ্বাস করে: এরা এতবার মিথ্যে বলে যে, একসময় নিজের বানানো গল্পকেই সত্যি বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে।

৩. ম্যানিপুলেশন: ভরত কল যেমন বলেছেন, এরা মিথ্যে দিয়ে অন্যদের সহানুভূতি আদায়, পরিস্থিতি নিজের দিকে ঘোরানো এবং অন্যদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। এরা নিজেকে সবসময় ভিকটিম হিসেবে দেখায়।

এটা কি অসুখ? কী বলছেন মনোবিদরা?

মনোবিদদের মতে, 'প্যাথোলজিক্যাল লাইং' নিজে কোনও আলাদা রোগ নয়, এটি অন্য মানসিক সমস্যার উপসর্গ।

কলকাতার বিশিষ্ট মনোবিদদের মতে:

- এটি কোনও অফিসিয়াল মেন্টাল ডিসঅর্ডার নয়, DSM-5-এ এর আলাদা কোনও রোগ হিসেবে উল্লেখ নেই।

- তবে এটি প্রায়শই Narcissistic Personality Disorder, Borderline Personality Disorder, Antisocial Personality Disorder বা Factitious Disorder-এর সঙ্গে যুক্ত থাকে।

- ছোটবেলায় অতিরিক্ত অবহেলা, ট্রমা, কম আত্মবিশ্বাস বা সবার মনোযোগ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে এই অভ্যাস তৈরি হয়।

একজন মনোবিদ জানান, "একজন প্যাথোলজিক্যাল লায়ার মিথ্যে বলে আনন্দ পায় না, সে বাধ্য হয়। এটি একটি কম্পালসিভ বিহেভিয়ার। তাকে ঘৃণা না করে থেরাপির প্রয়োজন।"

ভরত বনাম সৃজলা বিতর্কে আসল সত্য কী?

এখানে একটি কথা মনে রাখা জরুরি। কাউকে 'প্যাথোলজিক্যাল লায়ার' বলা একটি গুরুতর অভিযোগ এবং এটি নির্ণয় করার অধিকার একমাত্র একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত মনোবিদ বা মনোচিকিৎসকের আছে, কোনও সহ-অভিনেতার নয়।

ভরত কলের অভিযোগ যদি ব্যক্তিগত তিক্ততা থেকে আসে, তাহলে সেটি একটি পেশাদারি দ্বন্দ্ব। আর যদি সত্যিই সৃজলার মধ্যে এই ধরনের আচরণ থেকে থাকে, তাহলে সেটি তাঁর জন্য সহানুভূতি ও চিকিৎসার বিষয়, পাবলিক ট্রায়ালের নয়।

তাই কোনও পক্ষ না নিয়ে, এই ঘটনা আমাদের একটা বিষয় শিখিয়ে দেয় - কর্মক্ষেত্রে কারও কথায় অন্ধভাবে প্রভাবিত না হয়ে, তথ্য যাচাই করে চলা উচিত।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

শোকসংবাদ শুনেই হার্ট অ্যাটাক! সিনেমার গল্প নয়, বাস্তবেও হয় - কীভাবে দুঃসংবাদেই থেমে যায় হৃদস্পন্দন?
নেইলপলিশের বোতল ঝাঁকালে ভিতরে খটখট শব্দ হয় কেন? বোতলের ভিতরের এই ছোট্ট জিনিসটি নখের জন্য ভালো না খারাপ?