
ভূত-প্রেত, পেত্নী, শাঁকচুন্নি কিংবা ব্রহ্মদৈত্য বাংলার লোককথা, গ্রামবাংলার গল্প এবং প্রচলিত বিশ্বাসে এমন নানা ধরনের অতিপ্রাকৃত সত্তার উল্লেখ পাওয়া যায়। ছোটবেলা থেকে দাদু-ঠাকুমার মুখে শোনা এই গল্পগুলি আজও বাঙালির সংস্কৃতি ও সাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
কিন্তু বাংলায় ঠিক কত ধরনের ভূতের কথা প্রচলিত রয়েছে? তাদের নামই বা কী কী? লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, একেক ধরনের ভূতের পরিচয়, স্বভাব এবং অবস্থানের বর্ণনাও একেক রকম। যদিও ভূতের অস্তিত্বের কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবু বাংলার লোকসংস্কৃতিতে এই বিশ্বাসগুলির বিশেষ জায়গা রয়েছে।
চলুন, জেনে নেওয়া যাক বাংলার লোককথায় পরিচিত কয়েকটি ভূতের নাম ও তাদের পরিচয়।
বাংলার লোককথায় পরিচিত ১১ ধরনের ভূত
১. পেত্নী
লোকবিশ্বাসে অবিবাহিত অবস্থায় বা অপূর্ণ ইচ্ছা নিয়ে মারা যাওয়া নারীর আত্মাকে পেত্নী বলা হয়। নির্জন গাছপালা, পুকুরপাড় ও বাঁশবাগানের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে রয়েছে।
২. শাঁকচুন্নি
প্রচলিত বিশ্বাসে বিবাহিত নারীর অতৃপ্ত আত্মা হল শাঁকচুন্নি। হাতে শাঁখা, সিঁথিতে সিঁদুর এবং লাল পাড় সাদা শাড়ি তার পরিচিত রূপ।
৩. ব্রহ্মদৈত্য
লোককথায় ব্রাহ্মণের মৃত আত্মাকে ব্রহ্মদৈত্য বলা হয়। বেলগাছ বা অশ্বত্থগাছে তার বাস বলে প্রচলিত। অন্যান্য ভূতের তুলনায় তাকে অনেক গল্পে জ্ঞানী ও উপকারী হিসেবেও দেখানো হয়।
৪. মেছো ভূত
মাছের প্রতি অদ্ভুত আকর্ষণ রয়েছে এই ভূতের। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, পুকুরপাড়, মাছের বাজার কিংবা মাছ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তার দেখা মিলতে পারে।
৫. মামদো ভূত
বাংলার লোককথায় মুসলিম ব্যক্তির মৃত আত্মাকে মামদো ভূত বলা হয়। গ্রামবাংলার বিভিন্ন ভূতের গল্পে এই চরিত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়।
৬. নিশি
নিশি নাকি গভীর রাতে পরিচিত মানুষের কণ্ঠে নাম ধরে ডাকে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে গেলে বিপদ হতে পারে—এমন বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে।
৭. স্কন্ধকাটা
মাথাবিহীন ভূত হিসেবেই পরিচিত স্কন্ধকাটা। লোককথায় দুর্ঘটনায় বা অন্য কোনও কারণে মাথা হারানো মানুষের আত্মাকে এই নামে ডাকা হয়।
৮. আলেয়া
জলাভূমি বা জলা জায়গায় রাতের বেলা ভাসমান রহস্যময় আলোকে আলেয়া বলা হয়। বিশেষ করে বাংলার জেলে ও গ্রামীণ মানুষের লোককথায় এর উল্লেখ রয়েছে।
৯. বাঘো ভূত
সুন্দরবন ও জঙ্গলঘেরা অঞ্চলের লোকবিশ্বাসে বাঘের সঙ্গে সম্পর্কিত অতিপ্রাকৃত সত্তার উল্লেখ পাওয়া যায়। বাঘের আক্রমণে মৃত মানুষের আত্মার সঙ্গে এই নামকে যুক্ত করা হয় কিছু লোককথায়।
১০. গেছো ভূত
নাম থেকেই বোঝা যায়, গাছের সঙ্গে এই ভূতের সম্পর্ক। প্রচলিত গল্পে বড় গাছের ডালপালা বা নির্জন গাছের আশপাশে তার বাস বলে মনে করা হয়।
১১. বাঁশো বা বাঁশবাগানের ভূত
বাঁশবাগানকে ঘিরে বাংলার গ্রামাঞ্চলে নানা ভৌতিক গল্প প্রচলিত। নির্জন বাঁশঝাড়ে অদ্ভুত শব্দ বা ছায়াকে ঘিরে এই ধরনের ভূতের ধারণা তৈরি হয়েছে।
মেদিনীপুরের লোককথায় আরও কিছু ভূতের নাম
মেদিনীপুর অঞ্চলের ভূতকেন্দ্রিক লোককথা নিয়ে ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে আরও কয়েকটি নামের উল্লেখ রয়েছে। যেমন—
কুপুরুষ ও সুপুরুষ
মামদো ভূত
হনুমান ভূত
গোমুয়া ভূত
চিরকিন ভূত
সাতবহিনী
অর্থাৎ, বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ভূতের নাম ও পরিচয়ে যথেষ্ট বৈচিত্র্য রয়েছে। বাংলায় ঠিক কত প্রকার ভূত রয়েছে? এর কোনও নির্দিষ্ট বা সর্বজনস্বীকৃত সংখ্যা নেই। কারণ বাংলার ভূতসংক্রান্ত বিশ্বাস মূলত লোককথা, আঞ্চলিক সংস্কৃতি ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News