Carrot Benefits: ছোটবেলা থেকেই আমরা শুনে আসছি গাজর খেলে চোখ ভালো থাকে। গাজরের বিটা-ক্যারোটিন ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়ে চোখের স্বাভাবিক কাজকর্মে সাহায্য করে, এটা সত্যি। কিন্তু এর পেছনের অতিরঞ্জিত ধারণাগুলোর আসল সত্যিটা জেনে নিন।
ছোটবেলা থেকে আমরা প্রায়ই একটা কথা শুনি: গাজর খেলে নাকি চোখ ভালো থাকে। এই ধারণাটা বেশ জনপ্রিয়। কথাটা কিছুটা সত্যি। গাজর চোখের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি কিছু পুষ্টি জোগায়। কিন্তু গাজর খেলেই দৃষ্টিশক্তি বেড়ে যাবে বা চশমা পরা বন্ধ করা যাবে, এমন দাবিগুলো ঠিক নয়। গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে পরিণত হয়। এই ভিটামিন এ স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তির জন্য, বিশেষ করে কম আলোতে দেখার জন্য খুব জরুরি।
26
গাজরের মধ্যে থাকা সেই জরুরি উপাদানটি কী?
গাজরের কমলা রঙের জন্য দায়ী মূল যৌগগুলোর মধ্যে একটি হলো বিটা-ক্যারোটিন। এটি এক ধরনের ক্যারোটিনয়েড। আমরা যখন গাজর খাই, তখন আমাদের শরীর এই বিটা-ক্যারোটিনের কিছু অংশকে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত করে। এই ভিটামিন এ চোখের আলো-সংবেদনশীল কোষগুলোকে ঠিকমতো কাজ করতে সাহায্য করে। এটি অন্ধকারে দেখার ক্ষমতা বাড়ায় এবং চোখের উপরিভাগকে সুরক্ষিত রাখে। আমেরিকার এন.আই.এইচ (NIH)-এর মতো সংস্থাগুলো চোখের স্বাভাবিক কাজের জন্য ভিটামিন এ-র গুরুত্বকে স্বীকার করে। আরও পড়ুন :
36
তাহলে গাজর খেলে কি দৃষ্টিশক্তি বেড়ে যায়?
‘গাজর খেলে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে’—এই ধারণাটা পুরোপুরি সত্যি নয়। আগে থেকেই স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি থাকা কোনো ব্যক্তির চোখ গাজর খেলে হঠাৎ করে আরও ভালো হয়ে যাবে না। গাজর খেলে কাছের বা দূরের জিনিস দেখার সমস্যা ঠিক হয় না। এন.ই.আই (NEI)-এর মতো প্রথম সারির স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো নিশ্চিত করে যে, গাজরের ভিটামিন এ চোখের স্বাভাবিক কাজে সাহায্য করে। কিন্তু তারা এটাও স্পষ্ট করে যে, ভালো দৃষ্টির জন্য ভিটামিন এ জরুরি হলেও, শুধুমাত্র এটিই যথেষ্ট নয়। দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গাজর উপকারী হলেও, এটিই একমাত্র সুপারফুড নয়। সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাবার খুব জরুরি। পালং শাক, বাঁধাকপির মতো সবুজ শাকসবজিতে থাকা লুটেইন এবং জিয়াজ্যানথিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে চোখকে বাঁচায়। এন.ই.আই (NEI) জানায়, স্যালমনের মতো তৈলাক্ত মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চোখের শুষ্কতা প্রতিরোধ করে। এছাড়াও সাইট্রাস ফল ও বেরিতে থাকা ভিটামিন সি এবং আখরোট ও সূর্যমুখীর বীজে থাকা ভিটামিন ই চোখের জন্য প্রয়োজনীয়। তাই একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে, বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার তালিকায় রাখুন।
56
গাজর কীভাবে খাওয়া যেতে পারে?
গাজরকে সহজেই আপনার রোজকার খাবারে যোগ করতে পারেন। স্যালাডে কাঁচা খেতে পারেন, বা সবজির তরকারিতে রান্না করেও খেতে পারেন। গাজরের স্যুপ বা স্মুদিও বানানো যায়। চোখের জন্য রোজ ঠিক কত গ্রাম গাজর খেতে হবে, তার কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ নেই। পরিমিত পরিমাণে, আপনার নিয়মিত খাবারের অংশ হিসেবে এটি যোগ করাই যথেষ্ট। গাজর একটি পুষ্টিকর সবজি, তবে এর জন্য অন্য জরুরি সবজি বা ফল বাদ দেওয়ার দরকার নেই। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে গাজর খাওয়াটাই সেরা উপায়।
66
গাজর ভালো, কিন্তু আসল সত্যিটা এটাই!
সংক্ষেপে বলতে গেলে, গাজর চোখের জন্য ভালো। কিন্তু এটা বুঝতে হবে যে, এটি কোনো জাদুকরী খাবার নয় যা দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়ে দেবে। গাজরের বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়ে চোখের স্বাভাবিক কাজ এবং কম আলোতে দেখতে সাহায্য করে। সুষম খাবারের অংশ হিসেবে গাজর খাওয়া একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। যদি দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, হঠাৎ দৃষ্টি পরিবর্তন বা চোখে ব্যথার মতো সমস্যা হয়, তবে খাবারের মাধ্যমে ঠিক করার চেষ্টা না করে সঙ্গে সঙ্গে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। গাজর খান, কিন্তু চশমা খুলে ফেলতে পারবেন, এমনটা আশা করবেন না!