মৃত ব্যক্তির ঋণ: পরিবারের দায় কতটা? কী বলছে আইনে, জেনে নিন বিস্তারিত

Published : May 02, 2026, 01:29 PM IST
court verdict

সংক্ষিপ্ত

হঠাৎ করে পরিবারের কারও মৃত্যু হলে শোকের সাথে চিন্তা বাড়ায় তার নামে থাকা লোন। হোম লোন, পার্সোনাল লোন, ক্রেডিট কার্ডের বিল – এগুলো কি এবার ছেলে-মেয়েকে টানতে হবে? RBI বলছে, সব লোনের দায় পরিবারের ঘাড়ে পড়ে না। 

বাবার হঠাৎ মৃত্যু। শোক সামলাতে না সামলাতেই ব্যাংক থেকে ফোন – “আপনার বাবার ১৫ লাখ পার্সোনাল লোন আছে, শোধ করুন”। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। সত্যিই কি ছেলেকে এই দায় নিতে হবে? উত্তরটা ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ দুটোই। লোনের ধরন বুঝে হিসেব আলাদা।

১. হোম লোন, কার লোন: বাড়ি-গাড়িই প্রথম টার্গেট এগুলো ‘সিকিওর্ড লোন’। মানে লোনের বদলে বাড়ি বা গাড়ি ব্যাংকের কাছে বন্ধক আছে। মালিক মারা গেলে পরিবার EMI না দিতে পারলে ব্যাংক সেই বাড়ি/গাড়ি নিলাম করবে। ধরুন: ৪০ লাখ লোন, বাড়ি নিলামে উঠল ৩৮ লাখ। বাকি ২ লাখ মৃত ব্যক্তির অন্য সম্পত্তি – FD, জমি – থেকে নেবে ব্যাংক। যদি তার নামে কিছুই না থাকে, ২ লাখ মাফ। পরিবারের পকেট থেকে দিতে হবে না। বাঁচার রাস্তা: লোন নেওয়ার সময় ‘লোন প্রোটেক্টর ইনস্যুরেন্স’ থাকলে মৃত্যুর পর ইনস্যুরেন্স কোম্পানিই পুরো লোন মিটিয়ে দেবে। বাড়ি আপনারই থাকবে।

২. পার্সোনাল লোন, ক্রেডিট কার্ড: পরিবার সেফ, তবে শর্ত আছে এগুলো ‘আনসিকিওর্ড’। কোনো বন্ধক নেই। তাই ব্যাংক সরাসরি ছেলে-মেয়ের কাছে টাকা চাইতে পারে না। নিয়ম কী? ব্যাংক শুধু মৃত ব্যক্তির ‘এস্টেট’ থেকে টাকা নিতে পারে। এস্টেট মানে তার নামে থাকা ব্যাংক ব্যালেন্স, FD, শেয়ার, প্রপার্টি। উদাহরণ: বাবার নামে ৬ লাখের FD আছে, আর ৫ লাখের পার্সোনাল লোন। আপনি FD-টা ক্লেম করলে ব্যাংক আগে ৫ লাখ কেটে নিয়ে বাকি ১ লাখ আপনাকে দেবে। আর যদি বাবার নামে এক টাকার সম্পত্তিও না থাকে, তাহলে ব্যাংক লোন ‘রাইট অফ’ করে দেবে। আপনাকে দিতে হবে না। ক্রেডিট কার্ড: কার্ড হোল্ডারের মৃত্যুর পর বিল মাফ। তবে তার অ্যাকাউন্টে টাকা থাকলে ব্যাংক কেটে নেবে।

৩. জয়েন্ট লোন আর গ্যারান্টার: এখানেই ফাঁদ স্বামী-স্ত্রী জয়েন্টে হোম লোন নিলে একজনের মৃত্যুর পর পুরো দায় অন্যজনের। কোনো মাফ নেই। আপনি যদি বন্ধুর লোনের ‘গ্যারান্টার’ হন, আর সে মারা যায় বা পালায়, তাহলে ব্যাংক আপনার বাড়ি বয়ে এসে টাকা নেবে। গ্যারান্টার মানে আপনিও লোনের সমান দায়ী। কোর্টেও আপনার হার হবে। তাই গ্যারান্টার হওয়ার আগে ১০ বার ভাবুন।

৪. এডুকেশন লোন: স্টুডেন্টের মৃত্যু হলে কী হয়? ছাত্র বা ছাত্রী মারা গেলে বেশিরভাগ সরকারি ব্যাংক মানবিকতার খাতিরে লোন মাফ করে দেয়। SBI, PNB-র এই পলিসি আছে। কিন্তু বাবা বা মা যদি কো-অ্যাপ্লিকেন্ট থাকেন, তাহলে তাকে শোধ করতে হবে।

RBI-এর ৩টে গোল্ডেন রুল মনে রাখুন: ১. উত্তরাধিকার নিলেই দায়: মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি আপনি নিতে না চাইলে লোনও শোধ করতে হবে না। সম্পত্তির দাম ১০ লাখ, লোন ১৫ লাখ হলে আপনি ম্যাক্স ১০ লাখ পর্যন্ত দায়ী। ১ টাকাও নিজের পকেট থেকে নয়।

২. হ্যারাসমেন্ট বেআইনি: “লাশ দাহ করতে দেব না, লোন শোধ করুন” – ব্যাংক এজেন্ট এমন বললে সোজা পুলিশে যান। RBI-তে http://cms.rbi.org.in এ কমপ্লেন করুন। ৩. ইনস্যুরেন্সই আসল বন্ধু: মাত্র বছরে ৩-৪ হাজার টাকার টার্ম ইনস্যুরেন্স ৫০ লাখের লোন কভার করে দেয়। লোন নেওয়ার সাথে এটা মাস্ট।

মৃত্যুর পর কী করবেন? স্টেপ বাই স্টেপ: স্টেপ ১: ডেথ সার্টিফিকেটের ৩-৪টে কপি রেডি রাখুন। স্টেপ ২: সব ব্যাংকে লিখিত জানান। লোনের ডিটেলস, ইনস্যুরেন্স আছে কিনা চেক করুন। স্টেপ ৩: উকিলের সাথে বসে মৃত ব্যক্তির অ্যাসেট-লায়াবিলিটি লিস্ট বানান। লোন > অ্যাসেট হলে সম্পত্তি ‘ত্যাগ’ করার নোটারি করুন। স্টেপ ৪: ব্যাংক চাপ দিলে লিখিত জবাব দিন – “আমরা লিগাল হেয়ার, কিন্তু সম্পত্তি নিইনি। তাই আইনত দায়ী নই।”

শেষ কথা: আপনার সই ছাড়া, আপনার নামে লোন ছাড়া, আর মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি না নিলে – ব্যাংক আপনার থেকে এক পয়সাও নিতে পারবে না। ভয় পেয়ে নিজের FD ভেঙে লোকের লোন শোধ করবেন না।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

বাড়িতে গোখরে সাপ ঢুকলে চিনবেন কীভাবে? জানলে তবেই প্রাণে বাঁচবেন
Gold Rings: মাত্র ১ গ্রামে দারুণ সোনার আংটি, এক ঝলকে দেখে নিন ডিজাইন