ডায়েট শুনলেই মনে হয় সারাদিন না খেয়ে থাকতে হবে। আসল সত্যিটা উল্টো। ওজন কমাতে বা ফিট থাকতে ‘কঠোর ডায়েট’ লাগে না। লাগে স্মার্ট কৌশল।
সোমবার ডায়েট শুরু করবেন ভাবেন, বুধবার বিরিয়ানি দেখে সব ভুলে যান। কারণ আমরা ভাবি ডায়েট মানেই বোরিং সেদ্ধ খাবার আর খিদে সহ্য করা। কিন্তু ডাক্তার আর নিউট্রিশনিস্টরা বলছেন - ৮০% সাফল্য আসে ছোট অভ্যাস থেকে, কঠোর রুটিন থেকে না। আজ এমন ৭টা কৌশল শিখবেন যা ফলো করতে গিয়ে কষ্ট হবে না, উল্টে খাবার আরও এনজয় করবেন।

প্লেটের রঙ বদলান, খিদে কন্ট্রোলে আসবে :
অর্ধেক প্লেট জুড়ে রাখুন সবজি আর সালাদ। এক চতুর্থাংশ প্রোটিন - ডাল, ডিম, মাছ, চিকেন। বাকি এক চতুর্থাংশ কার্ব - ভাত বা রুটি। প্লেটে রঙ বেশি থাকলে ব্রেন ‘স্যাটিসফাইড’ ফিল করে। কম খেয়েও পেট ভরা মনে হবে। সাদা ভাত-আলুর প্লেট দেখলে ব্রেন আরও খেতে চায়।
খাওয়ার 20 মিনিট আগে জল খান :
খিদে পেলেই আমরা প্লেটে হামলে পড়ি। তার আগে এক গ্লাস জল খেয়ে নিন। ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। পেটের একটা অংশ জলে ভরে যাবে। ফলে ভাত-রুটি এমনিই কম লাগবে। জল মেটাবলিজমও বাড়ায়। চিনি দেওয়া জুস বা কোল্ড ড্রিংকস না, শুধু জল।
চিবিয়ে খান, টিভি বন্ধ রাখুন:
তাড়াহুড়ো করে গিলে খেলে ব্রেন বুঝতেই পারে না পেট ভরেছে। প্রতি গ্রাস ২০-২৫ বার চিবান। খাওয়ার সময় ফোন, টিভি বন্ধ। মন দিয়ে খেলে কম খেয়ে তৃপ্তি আসে। টিভি দেখে খেলে আমরা অজান্তেই ৩০% বেশি খেয়ে ফেলি।
চিনির বদলে ‘ন্যাচারাল মিষ্টি’ ধরুন:
মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করলে চকলেট, কেক না ধরে খেজুর, কলা, পাকা আম ধরুন। ন্যাচারাল ফ্রুক্টোজের সাথে ফাইবার থাকে। ফলে সুগার স্পাইক হয় না, অনেকক্ষণ এনার্জি দেয়। রাতের দিকে মিষ্টি ক্রেভিং হলে একটা খেজুর চুষে নিন।
প্রোটিনকে বন্ধু বানান:
প্রতি মিলে ডাল, ছোলা, ডিম, পনির, টকদই রাখুন। প্রোটিন হজম হতে সময় নেয়। তাই খিদে কম লাগে, মাসলও নষ্ট হয় না। সকালে শুধু বিস্কুট না খেয়ে একটা সেদ্ধ ডিম বা এক বাটি ছোলা খান। সারাদিন চিপসের ক্রেভিং কমে যাবে।
ঘুম ঠিক করুন, ওজন এমনিই কমবে:
রাত জাগলে ‘ঘ্রেলিন’ হরমোন বাড়ে। এটা খিদের হরমোন। ঘুম কম হলে সারাদিন চিপস-বিস্কুট খেতে ইচ্ছে করে। রাত 11টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ুন, সকালে উঠে দেখবেন অকারণে খাওয়ার ইচ্ছেটাই কমে গেছে। ঘুম = ফ্রি ডায়েট প্ল্যান।
‘চিট মিল’ রাখুন, গিল্ট ফিল করবেন না:
সপ্তাহে একদিন নিজের ফেভারিট খাবার খান। বিরিয়ানি, পিৎজা - যা ইচ্ছে। সারাদিন বঞ্চিত থাকলে ব্রেন রিভেঞ্জ নেয়। চিট মিল থাকলে ডায়েট লং টার্ম টেকে। শুধু মনে রাখবেন - এক বেলা চিট, সারাদিন না।
ডায়েট মানে জীবন থেকে আনন্দ বাদ দেওয়া না। ডায়েট মানে স্মার্ট চয়েস। প্লেটের রঙ, জল, চিবানো, ঘুম - এই ছোট কৌশলগুলো ২ সপ্তাহ ফলো করুন। আয়নায় আর স্কেলে নিজেই তফাৎ দেখবেন।
নোট: সুগার, থাইরয়েড বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে ডায়েট শুর আগে ডাক্তার বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিন। এটা সাধারণ তথ্য, প্রেসক্রিপশন না।
