
ল্যাংড়া আমের নামকরণের ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ এবং এটি প্রায় ২৫০-৩০০ বছরের পুরনো একটি লোককথা। বারাণসীর (বেনারস) এক খোঁড়া (ল্যাংড়া) ব্যক্তির বাগানে প্রথম এই সুস্বাদু আমের গাছটি জন্মেছিল বলেই এই আমের নাম 'ল্যাংড়া' হয়েছে। লোকমুখে প্রচলিত আছে, ওই ব্যক্তি নিজ বাড়িতে আম খেয়ে বীজটি মাটিতে পুঁতেছিলেন এবং প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও অত্যন্ত যত্নসহকারে গাছটির পরিচর্যা করতেন।
ল্যাংড়া আমের নামকরণের নেপথ্য কাহিনী:
* ফকিরের গল্প: ধারণা করা হয়, আঠারো শতকে বারাণসীর এক ল্যাংড়া বা খোঁড়া ফকিরের আস্তানা থেকে এই আমের জাতটি প্রথম সংগৃহীত হয়েছিল।
* পুরোহিতের কাহিনী: অন্য এক জনশ্রুতি মতে, বারাণসীর এক মন্দিরের পূজারি, যিনি ল্যাংড়া ছিলেন, তিনি এই জাতটি প্রথম চাষ করেন। পরে রাজা সেই আমের স্বাদে মুগ্ধ হয়ে ওই পুরোহিতের নাম অনুসারেই আমের নাম রাখেন 'ল্যাংড়া আম'।
* বাগান মালিকের কাহিনী: কিছু তথ্য অনুযায়ী, বারাণসীর এক ল্যাংড়া কৃষক তাঁর বাড়ির পেছনের বাগানে প্রথম এই গাছটি লাগিয়েছিলেন।
* অন্য নাম: ল্যাংড়া আমকে অনেক জায়গায় 'বারাণসী ল্যাংড়া' বা 'মালদা আম'-ও বলা হয়।
আম নিয়ে কিছু 'খাস' তথ্য একনজরে:
* সবুজেই স্বাদ: ল্যাংড়া আম পাকার পরেও এর খোসা সবুজই থাকে।
* আঁশবিহীন ও মিষ্টি: এই আম খুবই সুস্বাদু, সুগন্ধযুক্ত এবং এতে আঁশ প্রায় থাকে না বললেই চলে।
* উৎপাদন কাল: এটি মূলত জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বাজারে পাওয়া যায়।
* জনপ্রিয়তা: ল্যাংড়া আম শুধু ভারত বা বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
আম নিয়ে অন্যান্য আকর্ষণীয় তথ্য:
* ঐতিহাসিক গুরুত্ব: মুঘল আমলের আগে থেকেই ভারতে আমের প্রচলন ছিল এবং মুঘল আমলে এর চাষ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
* বৌদ্ধ ঐতিহ্য: বৌদ্ধ ধর্মে আমের যথেষ্ট গুরুত্ব ছিল এবং গৌতম বুদ্ধ আমগাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতেন বলে জানা যায়।
* উপহার: ভারতে এক ঝুড়ি আমকে বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়।
* মিয়াজাকি: বিশ্বের অন্যতম দামী আম হলো জাপানের 'মিয়াজাকি', যা দেখতে লাল বা বেগুনি রঙের হয়।
ল্যাংড়া আম শুধুমাত্র তার স্বাদের জন্যই নয়, বরং এর নামের পেছনের এই অদ্ভুত ও আবেগপূর্ণ ইতিহাসের জন্যও মানুষের কাছে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News