
Drink Water: সারাদিন তো জল খেলেনই, রাতে শুতে যাওয়ার আগে আবার এক গ্লাস জল ঢকঢক করে খেয়ে নিলেন। ভাবলেন শরীর হাইড্রেটেড থাকবে। কিন্তু জানেন কি, এই অভ্যাসই আপনার ঘুমের বারোটা বাজাচ্ছে? আবার একদম না খেলেও ডিহাইড্রেশন হতে পারে। তাহলে করবেনটা কী?
দরকার আছে, তবে সবার জন্য না। সারাদিন এসিতে থেকেছেন, ঘাম কম হয়েছে, ঠিকঠাক জল খেয়েছেন, তাহলে শোয়ার আগে আলাদা করে জল খাওয়ার দরকার নেই। কিন্তু গরমে ঘেমেছেন, শরীর টানছে, মুখ শুকিয়ে আসছে, মাথা ধরছে, তাহলে হালকা ডিহাইড্রেশন হয়েছে। তখন ২০০-২৫০ml মানে এক গ্লাস জল খেয়ে নিন। এতে রাতে ব্রেনে রক্ত চলাচল ঠিক থাকবে, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমে।
১. টাইমিং হলো আসল:
ঘুমাতে যাওয়ার একদম আগে জল খাবেন না। শুতে যাওয়ার অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টা আগে জল খাওয়া শেষ করুন। এতে কিডনি জল ফিল্টার করার সময় পাবে। রাতে ২-৩ বার বাথরুম যেতে হবে না। ঘুমও ভাঙবে না।
২. ঢকঢক করে নয়, চুমুক দিন:
একসাথে ৫০০ml জল খেয়ে নিলেন, আর ভাবলেন কাজ শেষ। এটা ভুল। রাতে মেটাবলিজম স্লো থাকে। একসাথে বেশি জল খেলে কিডনির উপর চাপ পড়ে। শরীর সবটা অ্যাবজর্ব করতে পারে না। বরং ছোট গ্লাসে অল্প অল্প করে চুমুক দিয়ে খান।
৩. জলের তাপমাত্রা:
ফ্রিজের ঠান্ডা জল একদম না। এতে গলা বসে যেতে পারে, হজমের সমস্যা হয়। হালকা গরম বা রুম টেম্পারেচারের জল খান। এতে ঘুম ভালো হয়, গ্যাস-অম্বলও কমে।
১. নকটুরিয়া মানে ঘুমের দফারফা:
রাতে বারবার প্রস্রাব পাওয়াকে ডাক্তারি ভাষায় নকটুরিয়া বলে। বেশি জল খেলে ২-৩ বার বাথরুম যেতে বাধ্য। এতে ডিপ স্লিপ সাইকেল ভেঙে যায়। সকালে উঠে ক্লান্ত লাগে, মেজাজ খিটখিটে থাকে।
২. কিডনি ও হার্টের উপর চাপ:
কিডনি সারাদিনে প্রায় ১৮০ লিটার রক্ত ফিল্টার করে। রাতে তারও রেস্ট দরকার। শোয়ার আগে লিটার খানেক জল খেলে কিডনিকে ওভারটাইম করতে হয়। হার্ট ফেলিওর বা কিডনির রোগীদের জন্য এটা মারাত্মক। শরীরে জল জমে পা ফুলে যেতে পারে, শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
৩. হাইপোনাট্রেমিয়া মানে সোডিয়াম ডাউন:
রাতে একসাথে ১ লিটারের বেশি জল খেয়ে নিলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যায়। একে বলে ওয়াটার ইনটক্সিকেশন বা হাইপোনাট্রেমিয়া। মাথা ঘোরা, বমি, কনফিউশন শুরু হয়। সিরিয়াস কেসে খিঁচুনি বা কোমাও হতে পারে।
৪. হজমের গণ্ডগোল:
খাওয়ার ঠিক পরেই বেশি জল খেয়ে শুয়ে পড়লে অ্যাসিড রিফ্লাক্স হয়। বুক জ্বালা, ঢেকুর ওঠে।
হার্টের রোগী, কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিস, প্রোস্টেটের সমস্যা আছে যাদের, তারা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া রাতে বেশি জল খাবেন না। প্রেগন্যান্ট মহিলাদেরও নকটুরিয়ার সমস্যা থাকে, তাই বুঝে খেতে হবে।
১. সন্ধে ৭টার পর চা, কফি, কোল্ড ড্রিঙ্ক বন্ধ। এগুলো ইউরিন বাড়ায়।
২. রাত ৮-৯টার মধ্যে ডিনার সেরে ফেলুন।
৩. শুতে যাওয়ার ১ ঘণ্টা আগে ১ গ্লাস হালকা গরম জল খান। গলা শুকিয়ে থাকলে আর এক-দু চুমুক খেতে পারেন।
৪. যদি মাঝরাতে গলা শুকোয়, তাহলে বেডসাইডে এক গ্লাস জল রাখুন। উঠে দু চুমুক খেয়ে আবার শুয়ে পড়ুন।
জল জীবন, কিন্তু বেশি খেলে সেটাই বিষ। রাতে তেষ্টা পেলে অবশ্যই খাবেন, কিন্তু লিমিট মেনে। আপনার শরীরই আপনাকে সিগন্যাল দেবে। গলার কাছে শুকিয়ে গেলে এক গ্লাস, না শুকোলে দরকার নেই।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News