
ভক্তি নাকি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? সকাল-সন্ধ্যা ধূপ-ধুনো দেওয়া আমাদের বহু বছরের অভ্যাস। ঘর পবিত্র হয়, মন শান্ত হয়। কিন্তু ডাক্তাররা বলছেন, বন্ধ ঘরে টানা ধূপের ধোঁয়া আপনার অজান্তেই শরীরের ভেতর বড় ক্ষতি করছে।
সম্প্রতি বেশ কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে, ইনডোর এয়ার পলিউশন আর টাইপ-2 ডায়াবেটিসের মধ্যে সরাসরি যোগ আছে। আর তার অন্যতম বড় কারণ হল ধূপ ও আগরবাতির ধোঁয়া।
ধূপের ধোঁয়ায় কী থাকে যা বিপদ ডাকে? ধূপ জ্বালালে বের হয় PM2.5, কার্বন মনোক্সাইড, ফর্মালডিহাইড, বেনজিন এর মতো বিষাক্ত গ্যাস।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সূক্ষ্ম কণাগুলো নাক দিয়ে ফুসফুসে গিয়ে রক্তে মেশে। এর ফলে শরীরে ২টো জিনিস হয়: 1. ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ে: শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি সাড়া দেওয়া কমিয়ে দেয়। ফলে রক্তে সুগার জমতে থাকে। 2. প্রদাহ বা Inflammation হয়: টানা প্রদাহ অগ্ন্যাশয়ের ক্ষতি করে, যা ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ।
বিশেষ করে যাদের বাড়িতে আগে থেকেই ডায়াবেটিসের হিস্ট্রি আছে, বয়স্ক মানুষ আর ছোট বাচ্চাদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।
তাহলে কি একদম ধূপ জ্বালানো বন্ধ? একদম বন্ধ করার দরকার নেই। কিন্তু ৩টি নিয়ম মানতেই হবে।
1. ঘর হাওয়া-বাতাস করুন ধূপ জ্বালানোর সময় জানলা-দরজা খোলা রাখুন। অন্তত 15-20 মিনিট ক্রস ভেন্টিলেশন হতে দিন। বন্ধ ঘরে ধোঁয়া জমতে দেবেন না।
2. সময় আর পরিমাণ কমান সারাদিনে 2-3 ঘন্টা ধরে ধূপ না জ্বালিয়ে দিনে 1 বার, 10-15 মিনিটের জন্য জ্বালান। একসাথে 4-5 টি আগরবাতি না জ্বালিয়ে 1টি জ্বালান।
3. প্রাকৃতিক বিকল্প বেছে নিন কেমিক্যাল যুক্ত সুগন্ধি আগরবাতির বদলে ব্যবহার করুন ধূপ, দেশি গরুর গোবরের তৈরি ধূপ বা কর্পূর। এগুলোয় কেমিক্যাল কম থাকে।
আর কাদের বেশি সাবধান হতে হবে? ডায়াবেটিস রোগী, প্রেগন্যান্ট মহিলা, অ্যাজমা ও হার্টের রোগী, 5 বছরের কম বয়সী শিশু। এই মানুষদের ঘরে ধূপ এড়িয়ে চলাই ভালো।
ভক্তি অবশ্যই করুন। কিন্তু অন্ধভাবে নয়। ধূপের পবিত্রতা থাকুক, কিন্তু তার সাথে স্বাস্থ্যেরও খেয়াল রাখুন। একটু সচেতন হলেই ঘরও পবিত্র থাকবে, শরীরও সুস্থ থাকবে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News