কলায় বাদামি দাগ দেখলেই ফেলবেন না, কোনটা অমৃত আর কোনটা বিষ জেনে নিন

Published : May 18, 2026, 04:58 PM IST
Dont throw away a banana if you see brown spots know which ones are nectar and which ones are poison

সংক্ষিপ্ত

কলার গায়ে বাদামি ছোপ মানেই পচা নয়। বরং হালকা দাগওয়ালা কলা সবচেয়ে মিষ্টি, হজমে সহজ আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। জাপানের গবেষণা বলছে, দাগ বাড়লে TNF নামক ক্যান্সার-বিরোধী উপাদানও বাড়ে। তবে কলা থেকে টক গন্ধ, কালো রস বা ছাতা বেরোলে সেটা বিপজ্জনক। দাগ দেখে নয়, গন্ধ আর টেক্সচার দেখে সিদ্ধান্ত নিন।

ফ্রিজ খুললেন, দেখলেন গত পরশু আনা কলাগুলোর গায়ে বাদামি ছোপ পড়ে গেছে। মন খারাপ করে ডাস্টবিনে ফেলে দিলেন। দাঁড়ান। আপনি হয়তো সবচেয়ে উপকারী কলাটাই ফেলে দিচ্ছেন। আমরা ছোট থেকে শিখেছি, ফল পচলেই দাগ হয়। কলার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো। কলা যখন গাছ থেকে পাড়া হয়, তখন তাতে থাকে প্রচুর স্টার্চ। ঘরে এনে রাখার পর সেই স্টার্চ ধীরে ধীরে ভেঙে ফ্রুকটোজ, গ্লুকোজ আর সুক্রোজে পরিণত হয়। এই রাসায়নিক পরিবর্তনের বাইরের প্রকাশ হল ‘সুগার স্পট’। মানে ওই বাদামি ফুটকি। তাই দাগ মানে কলা আরও মিষ্টি হচ্ছে, পচছে না।

কোন স্টেজে খেলে কী লাভ?

১. সবুজ কলা: স্টার্চ বেশি, চিনি কম। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো। কিন্তু হজম হতে সময় লাগে, গ্যাস হতে পারে।

২. হলুদ কলা: ব্যালান্সড। ফাইবার আর পটাশিয়াম ভরপুর। রোজ খাওয়ার জন্য আদর্শ।

৩. হালকা বাদামি ছোপযুক্ত কলা: এটাই ‘পিক টাইম’। টোকিও ইউনিভার্সিটির গবেষণা বলছে, এই স্টেজে কলায় TNF বা Tumor Necrosis Factor 8 গুণ বেড়ে যায়। TNF শরীরের অস্বাভাবিক কোষ ধ্বংস করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এই কলা হজম হয় ৩০% তাড়াতাড়ি। শরীর দুর্বল, জিমের পর, বা বাচ্চাদের টিফিনে এই কলা দিন।

৪. গাঢ় বাদামি/কালচে কলা: খোসা প্রায় পুরো বাদামী, কিন্তু কলা এখনও শেপে আছে। এটা ফেলে দেওয়ার জিনিস নয়। এই কলায় চিনির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। স্মুদি, ওটস, কেক, প্যানকেকের জন্য পারফেক্ট। যাদের ওজন বাড়ানোর দরকার, তারা এটা খান।

কখন ফেলবেন?

১. গন্ধ: কলা কাটলেই যদি টক, ভিনিগার বা অ্যালকোহলের মতো ঝাঁঝালো গন্ধ আসে, বুঝবেন ইস্ট জন্মে গেছে। ফার্মেন্টেশন হয়ে গেছে। খেলে ফুড পয়জনিং কনফার্ম।

২. টেক্সচার: খোসা ছাড়াতেই কলা গলে জল হয়ে যাচ্ছে, হাতে কালচে রস লেগে যাচ্ছে। এটা আর ফল নেই, পচা জিনিস।

৩. ছাতা বা মোল্ড: কলার গায়ে, বিশেষ করে বোঁটার কাছে সাদা, সবুজ বা কালো পাউডারের মতো কিছু দেখছেন? ওটা মোল্ড। মোল্ডের শিকড় ভেতর পর্যন্ত চলে যায়। শুধু উপরের অংশ কেটে খেলেও লিভারের ক্ষতি হতে পারে। পুরোটা ফেলুন।

৪. পোকা বা লার্ভা: কখনও কখনও বেশি পাকা কলায় ফ্রুট ফ্লাই ডিম পাড়ে। ভেতরে সরু সাদা পোকা দেখলে খাবেন না।

ডাক্তার কী বলছেন?

পুষ্টিবিদরা বলছেন, ডায়াবেটিস না থাকলে দাগওয়ালা কলা ভয়ের কিছু নয়। বরং কাঁচা কলার চেয়ে পাকা কলা IBS বা হজমের সমস্যায় বেশি আরাম দেয়। তবে দিনে ১-২ টার বেশি নয়, কারণ চিনি বেশি।

বাঁচানোর টোটকা:

১. কলা আলাদা রাখুন: কলার বোঁটা থেকে ইথিলিন গ্যাস বেরোয়। এতে পাশের ফলও তাড়াতাড়ি পাকে। বোঁটা প্লাস্টিক দিয়ে মুড়ে রাখুন।

২. ফ্রিজ রুল: খোসা কালো হলেও ভেতরে ৩-৪ দিন ভালো থাকে। শুধু খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে বের করুন।

৩. ফ্রিজ করুন: বেশি পেকে গেলে খোসা ছাড়িয়ে টুকরো করে জিপলক ব্যাগে ডিপ ফ্রিজে রাখুন। ৩ মাস আরামসে স্মুদি হবে।

তাই আজ থেকে দাগ দেখে কলাকে বিচার করবেন না। নাকের কাছে নিন, টিপে দেখুন। মিষ্টি গন্ধ আর ঠিকঠাক টেক্সচার থাকলে খেয়ে নিন। আপনার শরীর ধন্যবাদ দেবে।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

ভিড় এড়িয়ে উইকেন্ডে জঙ্গল-লেকের ঠিকানা, এবার তালিকায় রাখুন ফুটিয়ারি
পাঁচফোড়নের পাঁচকাহন: মেথি থেকে জিরে, চিনে নিন বাঙালির হেঁশেল-সঙ্গী