
Health News: ডায়াবেটিস মানেই কি একা একা মেপে খাওয়া? না, এবার উল্টো কথাই বলছে বিজ্ঞান। আপনি কী খাচ্ছেন, সেটা যেমন জরুরি, তেমনই জরুরি কার সঙ্গে খাচ্ছেন। সাম্প্রতিক এক যুগান্তকারী গবেষণা বলছে, প্রিয় মানুষটি পাশে বসে খেলে খাবার পর রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটাই কম বাড়ে। শরীরের সুস্থতা যে শুধু খাবার, ব্যায়াম বা ওষুধের উপরই নির্ভর করে না, সামাজিক পরিবেশও তাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, এই গবেষণা সেই সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে। এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত জার্নাল Science Advances-এ।
গবেষণায় ৩৩৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক দম্পতিকে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। প্রত্যেককে একই খাবার - ৫০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট যুক্ত সাদা পাউরুটি - দু'বার খেতে দেওয়া হয়, একবার একা, একবার পার্টনারের সঙ্গে। ল্যাবটিকে বসার ঘরের মতো করে সাজানো হয়েছিল, যাতে পরিবেশ স্বাভাবিক থাকে।
ফলাফল চমকপ্রদ। একই খাবার খেয়েও যখন পার্টনার পাশে ছিলেন, তখন রক্তে শর্করার স্পাইক অনেকটাই কম হয়েছে এবং সুগার দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। শুধু তাই নয়, ঠান্ডা ঘরে থাকার সময় শরীরের তাপমাত্রা কম কমেছে এবং স্ট্রেস হরমোনও দ্রুত কমেছে। মা ও শিশুর উপর করা আলাদা পরীক্ষাতেও দেখা গেছে, মা পাশে থাকলে শিশুর স্ট্রেস অনেক তাড়াতাড়ি কমে। এর মানে, ভালোবাসার মানুষের উপস্থিতি শরীরকে সব দিক থেকেই সাহায্য করে।
আগের গবেষণার সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?
এর আগেও এ নিয়ে ইঙ্গিত মিলেছিল। সিঙ্গাপুরে প্রায় ১২০০ জন প্রাপ্তবয়স্কের ২০,৬২৯টি খাবারের তথ্য বিশ্লেষণ করেও দেখা গিয়েছিল, একা খাওয়ার তুলনায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলে খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কম থাকতে পারে। তবে সেই গবেষণায় মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। মানে, তারা বাস্তব জীবনে কী খাচ্ছে, সেটাই নোট করা হয়েছিল, নিয়ন্ত্রিত ছিল না।
কিন্তু এই নতুন গবেষণায় একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে একই খাবারের প্রতিক্রিয়া তুলনা করা হয়েছে। ফলে দু’টি গবেষণার পদ্ধতি এক নয়। নতুন পদ্ধতিটি অনেক বেশি নিখুঁত। কারণ এখানে খাবার, পরিমাণ, পরিবেশ সব এক রেখে শুধু ‘সঙ্গী’ ফ্যাক্টরটি বদলানো হয়েছে। এটি আরও জোর দিয়ে প্রমাণ করে যে সঙ্গীর উপস্থিতির সরাসরি শারীরবৃত্তীয় প্রভাব রয়েছে, এটা শুধু মনস্তাত্ত্বিক বিষয় নয়।
এর পিছনে রহস্য কী? সোশ্যাল ফিজিওলজি
গবেষকরা এর নাম দিয়েছেন ‘সোশ্যাল ফিজিওলজি’। এতদিন আমরা ভাবতাম শরীর একা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু এই গবেষণা বলছে, মানুষের শরীর সামাজিক। প্রিয়জনের কাছাকাছি থাকলে শরীর নিজেকে সামলাতে কম শক্তি খরচ করে, ফলে মেটাবলিজম ভালো কাজ করে। আমাদের শরীর একসঙ্গে থাকার জন্যই তৈরি।
মজার বিষয়, এর জন্য ছোঁয়া বা স্পর্শেরও দরকার নেই, শুধু পাশে থাকলেই কাজ হয়। আর এটা শুধু মন ভালো থাকার জন্য নয়, এর সরাসরি শারীরবৃত্তীয় প্রভাব আছে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ থাকতে শুধু ডায়েট চার্ট নয়, ‘ডাইনিং টেবিলে কে আছে’ সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। আজ থেকে একা ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে না খেয়ে, পরিবার বা পার্টনারের সঙ্গে বসে গল্প করতে করতে খান।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News