উৎসবের মরসুম আসছে। এই সময়ে আপনার সাধের জবা (Gudhal) গাছটি যাতে একেবারে তরতাজা থাকে, তার জন্য সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি। গাছকে সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে রোদ, জল, সার, তাপমাত্রা এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে বাঁচানোর জন্য রইল পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস।
গুধল বা জবা ফুল ভারতের খুব জনপ্রিয় একটি ফুল। উৎসবের মরসুমে এই ফুল ঘর আলো করে রাখে। বাগানপ্রেমীরা চান, এই সময় গাছ ফুলে ফুলে ভরে উঠুক। জবা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গাছ, তাই গরমে ভালো থাকে এবং সারা বছর ফুল দেয়। কিন্তু উৎসবের মরসুমে আবহাওয়া ঠান্ডা হতে শুরু করে। তাই গাছকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়।
26
শীতকালেও জবা গাছের প্রতিদিন চার থেকে ছয় ঘণ্টা রোদ প্রয়োজন। এতে গাছ শক্তিশালী থাকে। টবের গাছ হলে, সেটিকে দক্ষিণ দিকের বারান্দা বা ছাদে রাখুন, যাতে সেরা রোদ পায়। আর গাছ যদি মাটিতে লাগানো থাকে, তাহলে খেয়াল রাখুন বড় গাছ বা বাড়ির ছায়া যেন রোদ আড়াল না করে।
36
বেশি জল দিলে গাছের গোড়া পচে যেতে পারে। শীতকালে মাটিতে বেশিক্ষণ ভেজা ভাব থাকে। তাই মাটি যখন এক বা দুই ইঞ্চি শুকিয়ে যাবে, তখনই জবা গাছে জল দিন। সবসময় সকালে জল দেবেন। আর একটা জরুরি নিয়ম হল, টবের নিচের ট্রে-তে যেন জল জমে না থাকে। এতে গাছের শিকড় ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচবে।
46
শীতকালে জবা গাছ বিশ্রাম নেয়। তাই তাদের বেশি খাবারের প্রয়োজন হয় না। এই সময় সার দেওয়া কমিয়ে দিন বা পুরোপুরি বন্ধ রাখুন। বসন্তে যখন নতুন পাতা গজাবে, তখন আবার সার দেওয়া শুরু করবেন। জবা গাছ ১০°C (৫০°F)-এর কম তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না। রাতে তাপমাত্রা ১৬°C (৬০°F)-এর নিচে নামলে টবের গাছ ঘরের ভেতরে জানলার কাছে রাখুন। আর মাটির গাছের গোড়ায় পুরু করে মালচ (Mulch) দিন। খুব ঠান্ডার রাতে গাছটিকে ফ্রস্ট ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে ঢেকে দিন।
56
ঘরের ভেতরে রাখা জবা গাছে পোকামাকড়ের উপদ্রব হয়। বিশেষ করে স্পাইডার মাইট এবং অ্যাফিড শুষ্ক বাতাসে বাসা বাঁধে। তাই নিয়মিত গাছের পাতা পরীক্ষা করুন। পোকামাকড় দূরে রাখতে গাছে জল স্প্রে করুন। কোনও পোকা দেখলে পাতা মুছে পরিষ্কার করে দিন।
66
এই টিপসগুলো মেনে চললে আপনার জবা গাছ উৎসবের মরসুমের ঠান্ডা আবহাওয়াতেও টিকে থাকবে। আর পরের বসন্তে আবার নতুন করে ফুলে ভরে উঠবে।