বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি আট মিনিটে একজন মহিলা সার্ভাইকাল ক্যানসারে মারা যান। এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলি চিনে রাখা খুব জরুরি।
সার্ভাইকাল ক্যানসার: এই পাঁচটি লক্ষণ উপেক্ষা করবেন না
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানাচ্ছে, ভারতে প্রতি আট মিনিটে একজন মহিলা সার্ভাইকাল ক্যানসারে মারা যান। গ্লোবোক্যান (GLOBOCAN) ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, এই বছর ভারতে ৭৯,৩৬০টি নতুন কেস ধরা পড়েছে এবং ৩৬,৩১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এই রোগের ভয়াবহতা তুলে ধরে।
210
৯০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে এর প্রধান কারণ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) সংক্রমণ।
সার্ভাইকাল ক্যানসার হল জরায়ুর নিচের অংশ, অর্থাৎ সার্ভিক্সের কোষে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। ৯০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে এর প্রধান কারণ হল হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) সংক্রমণ। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে এই রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ এবং নিরাময় করা সম্ভব।
310
রোগ বেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত অনেক মহিলাই এর লক্ষণগুলি খেয়াল করেন না।
এইচপিভি (HPV) ভ্যাকসিন, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এই রোগ নীরবে বাসা বাঁধে এবং অ্যাডভান্সড স্টেজে না পৌঁছানো পর্যন্ত মহিলারা এর লক্ষণগুলি বুঝতে পারেন না বা এড়িয়ে যান।
410
সার্ভাইকাল ক্যানসার হল জরায়ুর নিচের অংশের কোষে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।
রাজীব গান্ধী ক্যানসার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের গাইনি অঙ্কোলজি ইউনিট-২-এর সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ইউনিট হেড ডঃ রেণুকা গুপ্তা বলেন, ক্যানসারের আগের পর্যায়ে সাধারণত কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। রোগের প্রাথমিক অবস্থায় একজন মহিলা নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে করতে পারেন।
510
এইচপিভি ভ্যাকসিনেশন, প্যাপ স্মিয়ার বা এইচপিভি টেস্টের মাধ্যমে নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচপিভি ভ্যাকসিন, প্যাপ স্মিয়ার (Pap smear) বা এইচপিভি টেস্টের মতো নিয়মিত স্ক্রিনিং অত্যন্ত জরুরি। ঋতুচক্রের সাধারণ সমস্যা বা ছোটখাটো ইনফেকশন ভেবে লক্ষণগুলি এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সার্ভাইকাল ক্যানসারের প্রধান লক্ষণগুলি কী কী।
610
অস্বাভাবিক ভ্যাজাইনাল রক্তপাত হল প্রথম লক্ষণ।
সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হল অস্বাভাবিক ভ্যাজাইনাল ব্লিডিং বা রক্তপাত। অনেক মহিলাই হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ বা মেনোপজের লক্ষণ ভেবে এটিকে এড়িয়ে যান। বিশেষ করে মেনোপজের পর রক্তপাত হলে তা একেবারেই হালকাভাবে নেবেন না।
710
শারীরিক মিলনের পর রক্তপাত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
শারীরিক মিলনের পর রক্তপাত হলে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। যদি এমনটা বারবার ঘটতে থাকে, তাহলে দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
810
একটানা বা অস্বাভাবিক ভ্যাজাইনাল স্রাবও একটি লক্ষণ।
ঋতুচক্রের সময়ে ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ বা স্রাবের পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু একটানা বা অস্বাভাবিক স্রাব হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যদি কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দিনের পর দিন বা সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে এমন স্রাব হতে থাকে, তবে অবশ্যই পরীক্ষা করানো উচিত।
910
তলপেটে বা শারীরিক মিলনের সময় ব্যথাও এই রোগের একটি লক্ষণ।
তলপেটে বা পেলভিক অঞ্চলে একটানা ব্যথা হলে সতর্ক হন। ঋতুকালীন ব্যথা, ইউরিন ইনফেকশন, ফাইব্রয়েড বা এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণেও এমনটা হতে পারে। তবে নতুন করে শুরু হওয়া বা বাড়তে থাকা ব্যথা, বিশেষ করে যদি এর সঙ্গে অস্বাভাবিক রক্তপাত বা স্রাব থাকে, তাহলে একদমই অবহেলা করবেন না।
1010
কোমর ব্যথা বা পায়ে ফোলা ভাবও হতে পারে একটি লক্ষণ।
রোগ যখন অ্যাডভান্সড স্টেজে পৌঁছায়, তখন সার্ভাইকাল ক্যানসার আশেপাশের টিস্যু, স্নায়ু বা লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজে প্রভাব ফেলে। এর ফলে কোমর ব্যথা, পায়ে ব্যথা বা এক বা উভয় পায়ে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।