
মুখ ধুলেই গাল লাল। একটু রোদ লাগলেই চুলকানি। ব্রণ সেরে গেলেও লাল-কালো দাগ থেকে যাচ্ছে। মাসের পর মাস ক্রিম, সিরাম বদলেও কোনো লাভ নেই। এই সমস্যা এখন প্রায় ঘরে ঘরে। আর এই জেদি লালচে ভাবের জন্যই ত্বক বিশেষজ্ঞরা এখন নতুন একটা ট্রিটমেন্টের কথা বলছেন। নাম গ্রিন লাইট থেরাপি। নাম শুনে অনেকে ভাবছেন এটা আবার কী। লেজার নয়, ইনজেকশন নয়, কেমিক্যালও নয়। শুধু সবুজ আলো।
গ্রিন লাইট থেরাপি আসলে এক ধরনের LED লাইট ট্রিটমেন্ট। এখানে ত্বকের ওপর কোনো কিছু কাটা-ছেঁড়া হয় না। একটা বিশেষ মেশিন থেকে ৫১০ থেকে ৫৩০ ন্যানোমিটারের সবুজ রঙের ঠান্ডা আলো ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে ত্বকের ওপর ফেলা হয়। বিজ্ঞান বলছে লাল রংকে ব্যালেন্স করার সবচেয়ে ভালো রং হল সবুজ। তাই এই সবুজ আলো ত্বকের অনেক গভীরে গিয়ে রক্তনালীগুলোকে শান্ত করে। যার ফলে প্রদাহ কমে যায়, চুলকানি আর জ্বালাভাবও ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
তাহলে এই থেরাপিটা আসলে কাদের জন্য?
ডাক্তাররা বলছেন যাদের ত্বক সবসময় রেগে থাকে তাদের জন্য এটা সবচেয়ে ভালো। যেমন যাদের Rosacea বা রোজেসিয়ার সমস্যা আছে, সারাবছর গাল নাক লাল হয়ে থাকে। যাদের স্কিন খুব সেনসিটিভ, অল্পতেই প্রোডাক্ট স্যুট করে না, মুখ জ্বালা করে। আবার ব্রণ সেরে যাওয়ার পর যে লালচে দাগ থেকে যায় যাকে PIE বলে সেটা কমাতেও গ্রিন লাইট দারুণ কাজ করে। নাকের পাশে সরু লাল শিরা যাকে কুপেরোসিস বলে সেটার জন্যও এটা রেকমেন্ড করা হয়। এমনকি লেজার বা কেমিক্যাল পিল করার পর ত্বককে দ্রুত শান্ত করতে এখন অনেক ডাক্তার এই থেরাপি ব্যবহার করছেন।
এটা কাজ করে কীভাবে?
সবুজ আলো ত্বকের কোষের ভিতরে গিয়ে প্রথমে রক্ত চলাচলকে স্বাভাবিক করে। ফলে অতিরিক্ত লালচে ভাব কমে। তারপর শরীরের ভিতরে প্রদাহ কমানোর হরমোন তৈরি করতে সাহায্য করে। পুরো প্রসেসটা একদম ব্যথাহীন। আপনাকে শুধু ১৫ মিনিট চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকতে হবে। ট্রিটমেন্ট শেষ করেই আপনি অফিস বা পার্টিতে যেতে পারবেন। কোনো ডাউনটাইম নেই।
তবে সবাই কিন্তু এটা করাতে পারবে না
ডাক্তাররা কয়েকটা ক্ষেত্রে মানা করছেন। যাদের Epilepsy বা খিঁচুনির সমস্যা আছে তাদের জন্য LED আলো ঠিক নয়। যারা একনির মতো Photosensitive ওষুধ বা কিছু অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন তাদেরও আগে ডাক্তারের অনুমতি লাগবে। গর্ভবতী মহিলারা ডাক্তারের সাথে কথা না বলে করবেন না। আর ত্বকে যদি কোনো ওপেন ক্ষত বা ইনফেকশন থাকে তাহলে আগে সেটা সারিয়ে তারপর ভাবুন।
এবার আসি খরচের কথায়
কলকাতার নামি ক্লিনিকে একটা সেশনের খরচ পড়ে প্রায় ১৫০ থেকে ৪০ টাকা। তবে ১ বার করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে না। বেশিরভাগ ডাক্তার ৪ থেকে ৬টা সেশন নিতে বলেন। প্রতি সপ্তাহে ১টা করে। তারপর রেজাল্ট ধরে রাখতে মাসে ১টা করে মেইনটেন্স সেশন। বাজারে এখন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় বাড়ির জন্য ছোট LED ডিভাইসও পাওয়া যায়। কিন্তু ক্লিনিকের মেশিনের পাওয়ার আর টার্গেট অনেক বেশি প্রফেশনাল।
শেষে একটাই কথা
গ্রিন লাইট থেরাপি কোনও ম্যাজিক নয়। এটা ত্বককে বাইরে থেকে ঢেকে না রেখে ভিতর থেকে শান্ত করার একটা বিজ্ঞানসম্মত উপায়। যদি আপনার ত্বক সবসময় লাল, রুক্ষ আর জ্বালা করে আর কোনো ক্রিমেই কাজ না হয়, তাহলে একবার আপনার ডার্মাটোলজিস্টকে এই অপশনটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News