
অ্যাভোকাডোকে এখনকার দিনের সুপারফুড বলা হয়, স্বাস্থ্যের জন্য এর জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু ভারতে এর দাম শুনলে মাথায় হাত পড়ে। বাজারে একটা অ্যাভোকাডোর দামই প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বা তারও বেশি। আপনি যদি নিয়মিত অ্যাভোকাডো খেতে ভালোবাসেন, তাহলে বাড়িতেই এটি চাষ করা আপনার জন্য একটা দারুণ বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। আর সবচেয়ে ভালো খবর হলো, সামান্য যত্ন আর সঠিক পদ্ধতি জানলে আপনি আপনার বারান্দাতেও অ্যাভোকাডো গাছ লাগাতে পারেন।
সঠিক জাত বেছে নিন
অ্যাভোকাডো চাষের প্রথম ধাপ হলো সঠিক জাতটি বেছে নেওয়া। সাধারণ অ্যাভোকাডো গাছ প্রায় ৬০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে, তাই বারান্দা বা ছোট জায়গার জন্য বামন বা আধা-বামন জাতগুলি সবচেয়ে ভালো। 'ওয়ার্টজ' (লিটল কাডো) এবং 'হাস'-এর মতো জাতগুলো টবে চাষ করার জন্য একেবারে আদর্শ। বীজ থেকেও অ্যাভোকাডো গাছ হয়, কিন্তু তাতে ফল আসতে বহু বছর লেগে যেতে পারে। তাই ভালো ফলের জন্য কোনও নির্ভরযোগ্য নার্সারি থেকে একটি কলমের চারা কেনা অনেক বেশি লাভজনক।
বড় টব এবং সঠিক মাটি বাছুন
অ্যাভোকাডো গাছের শিকড় খুব গভীরে যায় না, কিন্তু ছড়ানোর জন্য তার যথেষ্ট জায়গা দরকার। তাই কমপক্ষে ১৬ থেকে ২০ ইঞ্চি গভীর এবং চওড়া একটি টব বেছে নিন। টবের মধ্যে যেন জল নিকাশির ভালো ব্যবস্থা থাকে, কারণ জল জমে থাকলে গাছের শিকড় পচে যেতে পারে। মাটির জন্য, এমন মাটি ব্যবহার করুন যা জল ধরে রাখে না এবং সামান্য অম্লীয় থেকে সাধারণ (pH 6-7) প্রকৃতির। এর সাথে কম্পোস্ট সার মেশালে গাছের বৃদ্ধি আরও ভালো হয়।
ভরপুর রোদ খুব জরুরি
অ্যাভোকাডো গাছ রোদ খুব পছন্দ করে। গাছটিকে প্রতিদিন অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সরাসরি রোদ দিন। তাই টবটিকে এমন বারান্দায় বা জায়গায় রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত রোদ আসে। ঠিকমতো আলো পেলে গাছ দ্রুত বাড়ে এবং সুস্থ থাকে।
জল দেওয়ার সময় এই ভুল করবেন না
অতিরিক্ত জল দেওয়া অ্যাভোকাডো গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। টবের মাটি ওপর থেকে শুকিয়ে গেলে তবেই জল দিন। গরমকালে প্রতি ২ থেকে ৩ দিন অন্তর জল লাগতে পারে, কিন্তু শীতকালে সপ্তাহে একবার জল দিলেই যথেষ্ট।
নিয়মিত যত্ন প্রয়োজন
বারান্দায় লাগানো অ্যাভোকাডো গাছের নিয়মিত ছাঁটাই (Pruning) করা দরকার। গাছটা বেশি লম্বা হতে শুরু করলে ওপরের অংশ ছেঁটে দিন, এতে গাছটি ঝাঁকড়া হবে। একই সাথে হলুদ পাতা এবং পোকামাকড়ের দিকেও নজর রাখুন এবং সময়মতো ব্যবস্থা নিন।
ফল আসতে সময় লাগতে পারে
অ্যাভোকাডো গাছ লাগানোর পরেই কিন্তু ফল পাওয়া যায় না। কলমের চারাতেও ফল আসতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। কিন্তু একবার গাছটি পরিণত হয়ে গেলে, আপনি বহু বছর ধরে তাজা এবং রাসায়নিকমুক্ত অ্যাভোকাডো পাবেন। এতে আপনার স্বাস্থ্য যেমন ভালো থাকবে, তেমনই বাজার থেকে দামী ফল কেনার খরচও বাঁচবে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News