খুশির খবরেই হার্ট ফেল! চিকিৎসকরা বলছেন সাবধান, বাড়ছে ‘হ্যাপি হার্ট সিনড্রোম’

Published : Jul 21, 2026, 02:19 PM IST
Heart Disease

সংক্ষিপ্ত

দুঃখের মতো অতিরিক্ত সুখও হতে পারে প্রাণঘাতী। নতুন গবেষণায় উঠে আসছে ‘হ্যাপি হার্ট সিনড্রোম’-এর কথা। লটারি জেতা থেকে সারপ্রাইজ পার্টি, কোন কোন কারণে হার্ট দুর্বল হয়ে পড়ছে জানুন বিস্তারিত।

Health Tips: খুশির মধ্যেই লুকিয়ে বিপদ। আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি, "দুঃখে হার্ট ভেঙে যায়"। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে উল্টোটাও সত্যি। অতিরিক্ত আনন্দ, চরম উত্তেজনা বা বড় সারপ্রাইজও হার্টের জন্য মারাত্মক হতে পারে। চিকিৎসকরা একে বলছেন ‘হ্যাপি হার্ট সিনড্রোম’। মেডিকেল ভাষায় এর নাম তাকোৎসুবো কার্ডিওমায়োপ্যাথি। আগে একে বিরল মনে করা হলেও এখন কেসের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

হার্টের ভেতরে ঠিক কী ঘটে: যখন আমরা খুব খুশি হই বা ভয় পাই, শরীরে তখন অ্যাড্রেনালিন, কর্টিসল-এর মতো স্ট্রেস হরমোন হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এই হরমোনের ঝড় হার্টের বাম নিলয়ের পেশিকে সাময়িকভাবে অকেজো করে দেয়। হার্ট তখন স্বাভাবিকভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে না। এর ফলে বুকের বাঁ দিকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট আর দুর্বলতা দেখা দেয়। হার্টের আকার জাপানি অক্টোপাস ধরার পাত্র ‘তাকোৎসুবো’-র মতো হয়ে যাওয়ার কারণেই এই নাম।

কারা এই ঝুঁকির মধ্যে আছেন: গবেষণায় দেখা গেছে ৫৫ বছরের বেশি বয়সী মহিলারা এই রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন। কারণ মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে গেলে হার্ট স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়তে পারে না। এছাড়া যাদের আগে থেকে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা অ্যাংজাইটি আছে তাদের ঝুঁকি বেশি। বিয়ের প্রস্তাব, লটারিতে কোটি টাকা জেতা, প্রিয় দলের ফাইনাল জেতা বা নাতির প্রথম ছবি দেখা - এই ধরনের আবেগঘন মুহূর্তগুলোই ট্রিগার হতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন এটা হার্ট অ্যাটাক নাকি হ্যাপি হার্ট: দুটোর লক্ষণ প্রায় একই। বুকে প্রচণ্ড চাপ, বাঁ হাত বা চোয়াল পর্যন্ত ব্যথা ছড়ানো, হঠাৎ ঘাম, বমি বমি ভাব আর শ্বাস নিতে কষ্ট। পার্থক্য হল, হ্যাপি হার্ট সিনড্রোমে হার্টের রক্তনালীতে ব্লকেজ থাকে না। ইসিজি, রক্ত পরীক্ষা আর ইকোকার্ডিওগ্রাম করেই ডাক্তাররা নিশ্চিত হন। ভালো খবর হল ৯৫% ক্ষেত্রেই ৪-৮ সপ্তাহের মধ্যে হার্ট আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।

চিকিৎসা ও সুস্থ হওয়ার পথ: এই রোগের জন্য আলাদা কোনো ওষুধ নেই। ডাক্তাররা সাধারণত বিটা ব্লকার, ACE inhibitor আর রক্ত পাতলা করার ওষুধ দেন। কয়েকদিন হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তারপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা যায়। তবে রিকারেন্স রোখার জন্য লাইফস্টাইল বদলাতে হবে।

হার্ট বাঁচাতে রোজকার ৪টি অভ্যাস: ১. আবেগ নিয়ন্ত্রণ করুন: খুশি বা দুঃখ যাই হোক, অতিরিক্ত রিয়্যাক্ট করবেন না। ১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে শ্বাস নিন। ২. স্ট্রেস কমান: দিনে ১৫ মিনিট মেডিটেশন বা প্রাণায়াম করুন। পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। ৩. ডায়েট ও ব্যায়াম: নুন, চিনি কমিয়ে শাকসবজি আর ওমেগা-৩ রাখুন। সপ্তাহে ৫ দিন ৩০ মিনিট হাঁটুন। ৪. রেগুলার চেকআপ: ৪০-এর পর প্রতি বছর একবার করে ব্লাড প্রেসার, সুগার আর লিপিড প্রোফাইল করান।

জীবন মানে ওঠা-পড়া। সুখও যেমন দরকার, তেমনই তার ভারসাম্যও দরকার। তাই খুশির মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করুন, তবে হার্টের কথা মাথায় রাখুন। কারণ অতিরিক্ত কোনো কিছুই শরীরের জন্য ভালো নয়।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

ঝগড়া নেই, কথা আছে, তবুও ফাঁকা লাগছে? ‘রিলেশনশিপ ডিটক্স’ই ফেরাতে পারে সম্পর্কের ‘ভালোবাসা’
বর্ষার ছুটিতে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন! 'ZNMD' স্টাইলের ৬টি সেরা রোড ট্রিপে