Cravings for Sweet: রাতের খাবার শেষ, পেট একেবারে ভর্তি। কিন্তু তারপরেও মনটা কেমন আনচান করছে একটু মিষ্টির জন্য? মনে হচ্ছে একটা রসগোল্লা, এক টুকরো চকোলেট বা একটু আইসক্রিম না খেলে ডিনারটাই অসম্পূর্ণ থেকে গেল? আপনার সঙ্গেও যদি এমনটা রোজ হয়, তাহলে জেনে রাখুন আপনি একা নন। সমীক্ষা বলছে প্রায় ৮০% মানুষেরই রাতে এই মিষ্টির ক্রেভিং হয়।

Cravings for Sweet: রাতের খাবার খাওয়ার পরেই কি আপনার মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করে? অনেকেই বলেন এর নেপথ্যে রয়েছে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি। সত্যিই কি তাই? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও বৈজ্ঞানিক কারণ? জানুন পুষ্টিবিদরা কী বলছেন এবং কীভাবে এই অভ্যাস থেকে মুক্তি পাবেন।

রাতের খাবার শেষ, পেট একেবারে ভর্তি। কিন্তু তারপরেও মনটা কেমন আনচান করছে একটু মিষ্টির জন্য? মনে হচ্ছে একটা রসগোল্লা, এক টুকরো চকোলেট বা একটু আইসক্রিম না খেলে ডিনারটাই অসম্পূর্ণ থেকে গেল? আপনার সঙ্গেও যদি এমনটা রোজ হয়, তাহলে জেনে রাখুন আপনি একা নন। সমীক্ষা বলছে প্রায় ৮০% মানুষেরই রাতে এই মিষ্টির ক্রেভিং হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই বলেন এর পিছনে নাকি ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি দায়ী। কথাটা কি আদৌ সত্যি? চলুন আসল কারণটা জেনে নেওয়া যাক।

*সত্যিই কি ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতির জন্য এমন হয়?*

উত্তরটা হল - আংশিক সত্যি। আমাদের শরীরে ম্যাগনেশিয়াম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। এটি শরীরে ৩০০-র বেশি জৈবিক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে, যার মধ্যে অন্যতম হল ব্লাড সুগার এবং ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণ।

যখন শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হয়, তখন রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করে। তখন শরীর দ্রুত এনার্জি পাওয়ার জন্য মস্তিষ্ককে মিষ্টি খাওয়ার সিগন্যাল পাঠায়। বিশেষ করে যাদের মধ্যে ক্লান্তি, মাথা ধরা, পেশিতে টান ধরা বা ঘুম না হওয়ার সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি থেকে ক্রেভিং হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ম্যাগনেশিয়ামই একমাত্র কারণ নয়। এর পিছনে আরও ৪টে বড় কারণ লুকিয়ে আছে।

*মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছার ৪টে আসল কারণ*

*১. ছোটবেলার অভ্যাস ও ডোপামিনের খেলা:* ছোটবেলা থেকেই আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ভালো কিছু খেলে শেষে মিষ্টি খেতে হয়। জন্মদিন, উৎসব মানেই মিষ্টি। তাই আমাদের মস্তিষ্কে এটা গেঁথে গেছে। মিষ্টি খেলেই মস্তিষ্ক থেকে ডোপামিন নামে ‘ফিল গুড’ হরমোন বের হয়, যা আমাদের আনন্দ দেয়। রাতে সেই আনন্দ পাওয়ার লোভেই ক্রেভিং তৈরি হয়।

*২. সারাদিন ঠিকমতো না খাওয়া:* অনেকেই ওজন কমানোর জন্য সারাদিন খুব কম খান বা লো-কার্ব ডায়েট করেন। ফলে দিনের শেষে শরীরে ক্যালোরি এবং সেরোটোনিন হরমোনের ঘাটতি দেখা দেয়। রাতে সেই ঘাটতি পূরণ করতেই শরীর মিষ্টি জাতীয় হাই-কার্ব খাবার চায়।

*৩. রাতে বেশি নোনতা খাবার খাওয়া:* আপনি যদি রাতের খাবারে পাপড়, আচার, চিপস বা অতিরিক্ত নোনতা কিছু খান, তাহলে শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়। শরীর তখন স্বাদে ভারসাম্য আনার জন্য মিষ্টি খেতে চায়।

*৪. ঘুম কম এবং স্ট্রেস:* কম ঘুম হলে শরীরে ঘ্রেলিন হরমোন বেড়ে যায়, যা আমাদের খিদে বাড়িয়ে দেয়। আবার স্ট্রেস হলে কর্টিসল হরমোন বাড়ে, তখনও শরীর দ্রুত এনার্জির জন্য মিষ্টির দিকে ঝোঁকে।

*এই ক্রেভিং থেকে মুক্তি পাবেন কীভাবে?*

১. রাতের খাবারে অবশ্যই প্রোটিন, ফাইবার এবং হেলদি ফ্যাট রাখুন। যেমন - ডাল, সবুজ সবজি, দই, ডিম।

২. খাওয়ার পরেই মিষ্টি খাবেন না। অন্তত ২০-৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন, এক গ্লাস জল খান বা একটু হাঁটুন। দেখবেন ইচ্ছেটা অনেকটাই কমে গেছে।

৩. মিষ্টির বদলে বেছে নিন হেলদি বিকল্প। একটা খেজুর, একটু গুড়, ডার্ক চকোলেট বা একটি ফল খেতে পারেন।

৪. রোজ রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং দিনের বেলা পর্যাপ্ত জল খান।

যদি দেখেন ক্রেভিংটা অতিরিক্ত হচ্ছে এবং সঙ্গে পেশিতে খিঁচুনি, ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা হচ্ছে, তাহলে অবশ্যই একবার ডাক্তারের পরামর্শ নিন। তিনি প্রয়োজন হলে ম্যাগনেশিয়াম সাপ্লিমেন্ট দিতে পারেন।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।