শিশুকে দিয়ে ভ্লগিং বা রিল বানাচ্ছেন? অজান্তে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে আপনার সন্তানের

Published : Apr 07, 2026, 03:09 PM IST
mobile

সংক্ষিপ্ত

শিশুদের নিয়ে তৈরি মা-বাবাদের একের পর এক পোস্টে বাড়ছে লাইক, ভিউ, ফলোয়ার, সাবস্ক্রাইবার। ভালমন্দ কমেন্টের ছড়াছড়ি। রাতারাতি শিশুরা হয়ে উঠছে ডিজিটাল ক্রিয়েটর, ইউটিউবার। শিশুদের এই সব রিল, ভিডিয়ো থেকে বাবা-মায়ের কাছে খুলে যাচ্ছে উপার্জনের একাধিক রাস্তা। সমস্যার সূত্রপাত সেখানেই।

ভ্লগিং বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অল্প বয়সে পরিচিতি শিশুদের রাতারাতি 'ডিজিটাল স্টার' বানিয়ে দিচ্ছে, যা তাদের মানসিক বিকাশ, গোপনীয়তা এবং স্বাভাবিক শৈশবে গভীর প্রভাব ফেলছে। জনপ্রিয়তার হাতছানি ও উপার্জনের আশায় বাবা-মায়েরা শিশুদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত শেয়ার করায় একদিকে যেমন পরিচিতি বাড়ছে, তেমনই সাইবার বুলিং, মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

শিশুশ্রম আইনত অপরাধ। তবে বাবা-মায়েরা যখন শিশুকে এ ভাবে সমাজমাধ্যমে তুলে ধরছেন, সে ক্ষেত্রে ব্যবস্থা কে নেবে? অজান্তেই শিশুর বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে না তো? অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানের প্রতি মা-বাবাদের এই মানসিকতার পিছনে কাজ করে নিজেদের জীবনের অধরা সাফল্য, নিরাপত্তাহীনতা এবং অনিয়ন্ত্রিত চাহিদা। আবার অনেক অভিভাবক হয়তো অর্থ উপার্জনের তাগিদে নয়, মজার ছলেই সমাজমাধ্যমে ছোট্ট শিশুর নানা মুহূর্ত সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, এ ক্ষেত্রে কিন্তু অভিভাবকদের আর একটু বেশি সতর্ক হওয়া উচিত।

শিশুমনে নেতিবাচক প্রভাব:

* মানসিক চাপ ও উৎকণ্ঠা: সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক, কমেন্ট ও ভিউয়ের ওপর নির্ভরতা শিশুদের মধ্যে অবাস্তব প্রত্যাশা ও মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।

* স্বাভাবিক শৈশব বিঘ্নিত: ক্যামেরার সামনে থাকা বা রিল তৈরির চাপ শিশুদের স্বাভাবিক খেলাধুলা ও সৃজনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে।

* সাইবার বুলিং ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য: পরিচিতি বাড়ার সাথে সাথে অপরিচিত মানুষের নেতিবাচক বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের শিকার হতে হয়, যা শিশুদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়।

* গোপনীয়তার অভাব: শৈশবের একান্ত মুহূর্তগুলো জনসমক্ষে আসায় ভবিষ্যতে তাদের গোপনীয়তার অধিকার খর্ব হতে পারে।

* ডিজিটাল আসক্তি: গ্যাজেটের প্রতি আসক্তি বেড়ে যাওয়ায় বাস্তব জীবনে মেলামেশার অনীহা এবং একাকিত্ব দেখা দিতে পারে।

সতর্কতা: বাবা-মায়েদের উচিত শিশুদের ভ্লগিং বা ভিডিওতে অন্তর্ভুক্ত করার সময় তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রাখা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা।

সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো বানানো যখন আসক্তিতে পরিণত হচ্ছে, তখনই সমস্যা আরও বাড়ছে। সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুখোশের আড়ালে ছড়িয়ে রয়েছে অপরাধীরাও। খুদের ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন সে কোথায় থাকে, কোন স্কুলে পড়ে, কখন কোথায় যায়— সব কিছু সমাজমাধ্যমে জানিয়ে অভিভাবকেরা নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনছেন।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Bloating: সারাক্ষণ পেট ফেঁপে থাকে? এই ৬টি স্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলুন
Dream Catcher: বাড়িতে ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি ও সৌভাগ্য ফেরাতে লাগান ড্রিমক্যাচার