Tourism News: ভিড় আর হইচই এড়িয়ে ডুয়ার্সের আসল জঙ্গল-নদী অনুভব করতে চান? তাহলে চলে যান মূর্তি নদীর একদম নতুন বাঁক ভাট্টিতে। শাল-পাইনের জঙ্গল, স্বচ্ছ নদী আর আদিবাসী হোমস্টের আতিথেয়তা মিলিয়ে এটা এখন ডুয়ার্সের সবচেয়ে শান্ত অফবিট ঠিকানা। দু'দিনেই মন তরতাজা করার আদর্শ জায়গা।

Travel and Tourism: ডুয়ার্স ঘোরা মানেই কি শুধু লাটাগুড়ির ট্রাফিক আর গরুমার সাফারি টিকিটের লাইন? যদি আপনার উত্তর 'না' হয়, তাহলে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন ডুয়ার্সের একদম নতুন অফবিট গ্রাম ভাট্টির উদ্দেশ্যে। মূর্তি নদীকে সবাই মূর্তি ব্রিজ পর্যন্তই চেনে। কিন্তু নদী যেখানে শহরের কোলাহল ছেড়ে জঙ্গলের বুকে বাঁক নেয়, সেই জায়গাটার নাম ভাট্টি। আর এই ভাট্টিই এখন ডুয়ার্সের সবচেয়ে শান্ত, সবচেয়ে নির্জন ঠিকানা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ভাট্টি কেন স্পেশাল? 

ভাট্টির মূল আকর্ষণই হল এর লোকেশন। একদিকে ঘন শাল-সেগুনের জঙ্গল, আরেকদিকে পাথুরে মূর্তি নদী কলকল করে বয়ে যাচ্ছে। এখানে বড় রিসর্ট, লাউড মিউজিক, বাজার, কিচ্ছু নেই। আছে শুধু তিন-চারটে ছোট হোমস্টে। প্রতিটা হোমস্টের বারান্দা থেকে সোজা নদী দেখা যায়। সকালে ঘুম ভাঙবে পাখির ডাকে, রাতে ঘুম আসবে ঝিঁঝি পোকার গানে। মোবাইলের টাওয়ার এখানে খুব দুর্বল। তাই দু'দিনের জন্য ডিজিটাল ডিটক্স হয়ে যাবে নিশ্চিত। মালিকরা স্থানীয় রাজবংশী বা আদিবাসী পরিবার। তারা নিজেদের জমির সবজি, নদীর টাটকা মাছ আর দেশী মুরগি রান্না করে খাওয়ান। খাওয়ার স্বাদটা ঠিক বাড়ির মতো।

কী করবেন ভাট্টিতে গিয়ে? 

ভাট্টিতে গিয়ে আপনার কাজ শুধু একটা, প্রকৃতিকে অনুভব করা। সকালে ঘুম থেকে উঠে সোজা নদীর ধারে চলে যান। পাথরের ওপর বসে পা ডুবিয়ে দিন ঠান্ডা জলে। নদীর জল এতটাই পরিষ্কার যে ছোট মাছের দল দেখা যায়। চাইলে হোমস্টের দাদাদের সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে ছোট ট্রেক করতে পারেন। এক বা দুই কিমি হাঁটলেই হরিণ, ময়ূর, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি চোখে পড়বে। বর্ষার পর ভাগ্য ভালো থাকলে হাতির পায়ের ছাপও দেখতে পাবেন। দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর একটু বিশ্রাম নিয়ে চলে যান গরুমারা ন্যাশনাল পার্ক। ভাট্টি থেকে পার্কের ইয়াসিন্দি বা মেদলা ওয়াচ টাওয়ার মাত্র ২৫-৩০ মিনিট। বিকেলের সাফারিতে গন্ডার, বাইসন, হাতি দেখে ফিরে আসুন। সন্ধ্যায় হোমস্টের উঠোনে বসে চা আর পকোড়া খেতে খেতে গল্প করুন মালিকের সঙ্গে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে রাতে তারা দেখাও দারুণ এখানে।

কীভাবে যাবেন ভাট্টি? 

শিলিগুড়ি থেকে ভাট্টির দূরত্ব প্রায় ৮০ কিমি, সময় লাগবে ২.৫ ঘণ্টা। শিলিগুড়ি > সেবক রোড > চালসা > নিউ মাল জংশন হয়ে চালসা-মূর্তি রোড ধরুন। মূর্তি ট্যুরিস্ট স্পটের চার কিমি আগেই ডানদিকে জঙ্গলের রাস্তা ঢুকে গেছে ভাট্টির দিকে। নিউ মাল স্টেশন থেকে গাড়ি রিজার্ভ করে নিতে পারেন, ভাড়া ৮০০-১০০০ টাকা। ট্রেনে এলে নিউ মাল জংশন নেমে অটো/গাড়ি নিন। কলকাতা থেকে আসতে হলে কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস ধরে নিউ মাল নামাই বেস্ট অপশন।

কোথায় থাকবেন আর খরচ কেমন? 

ভাট্টিতে এখনও বড় হোটেল তৈরি হয়নি। তিনটে জনপ্রিয় হোমস্টে হল নদীর ধারে কটেজ, ভাট্টি ইকো হাট আর মূর্তি রিভারসাইড হোমস্টে। সবগুলোই কাঠ-বাঁশের তৈরি। ভাড়া পার হেড পার ডে ১২০০-১৫০০ টাকা। এর মধ্যে থাকা + ৪ বেলা খাওয়া ইনক্লুডেড। রুম থেকে নদী দেখা যায় এমন ভিউ রুম নিলে ২০০ টাকা এক্সট্রা। বুকিং করার জন্য সরাসরি হোমস্টের নম্বরে ফোন করতে হয়। অনলাইনে পাবেন না।

কখন যাবেন আর কী মাথায় রাখবেন? 

ভাট্টি যাওয়ার আদর্শ সময় অক্টোবর থেকে মার্চ। শীতে নদীর জল কম থাকে, জঙ্গলও শুকনো। বর্ষায় নদীর রূপ আলাদা, কিন্তু জোঁক আর পিচ্ছিল রাস্তার জন্য ট্রেকিং কঠিন। এপ্রিল-মে তে গরম থাকবে, তবে নদীর ধারে বসে হাওয়া খাওয়া যায়।

মনে রাখবেন, ভাট্টি একদম অফবিট। এখানে ATM, মেডিক্যাল শপ, মার্কেট কিছুই নেই। তাই প্রয়োজনীয় ওষুধ আর ক্যাশ নিয়ে যাবেন। আর সবচেয়ে বড় কথা, প্লাস্টিক ফেলে জায়গাটা নোংরা করবেন না। জঙ্গল আর নদীকে পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব আমাদেরই।

লাটাগুড়ির ভিড় আর কোলাহল থেকে বেরিয়ে যদি দু'দিনের জন্য সত্যিকারের শান্তি চান, তাহলে ভাট্টি আপনার জন্য। মূর্তি নদীর পাশে বসে এক কাপ চা খান, দেখবেন জীবনের সব জটিলতা কেমন হালকা লাগছে। ডুয়ার্সের এই হিডেন জেমটা আপনার বাকেট লিস্টে যোগ করুন আজই।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।