
Other Lifestyle Tips: বাড়ির দেওয়াল চকচকে, কিন্তু সুইচবোর্ডের দিকে তাকানো যায় না? হলুদ ছোপ, কালো আঙুলের দাগ, রান্নাঘরে তেল চিটচিটে। গেস্ট আসলে লজ্জা লাগে। জল দিয়ে মুছতে গেলে মা বকা দেয়, কারেন্ট লাগবে। সাবান দিলে দাগ আরও ছড়িয়ে যায়। নতুন বোর্ড লাগাবেন? দাঁড়ান। 20 টাকার জিনিস দিয়ে পুরোনো বোর্ডই শোরুম পিস বানিয়ে নেওয়া যায়। সেফটি ফার্স্ট, তারপর ক্লিনিং।
সুইচবোর্ডের প্লাস্টিক হল ABS প্লাস্টিক। এটা হাওয়া, রোদ, তেল আর হাতের নোংরা টেনে নেয়। রান্নাঘরে তেলের ভাপ জমে আঠা হয়ে যায়। তার উপর ধুলো বসে কালো লেয়ার পড়ে। বসার ঘরে হাতের ঘাম আর তেল থেকে হলুদ ছোপ পড়ে। জল-সাবান শুধু উপরের ধুলো তোলে। ভিতরে ঢুকে যাওয়া তেল-হলুদ দাগ তুলতে পারে না। উল্টো জল ঢুকে শর্ট সার্কিটের রিস্ক থাকে। আর হার্ড সাবান বা সার্ফ ঘষলে প্লাস্টিকের গ্লসি লেয়ার উঠে আরও খসখসে হয়ে যায়। তখন ময়লা আরও তাড়াতাড়ি বসে। তাই লাগবে ডিগ্রিজার + হালকা অ্যাব্রেসিভ।
ক্লিনিং-এর আগে 3টে সেফটি রুল: না মানলে বিপদ:
প্রথম রুল: মেইন সুইচ অফ। শুধু বোর্ডের সুইচ না, বাড়ির মেইন MCB অফ করে দিন। টেস্টার দিয়ে চেক করুন কারেন্ট আছে কিনা। জীবনের চেয়ে দামি কিছু না।
দ্বিতীয় রুল: শুকনো কাপড় দিয়ে শুরু। কারেন্ট অফ করার পর শুকনো মাইক্রোফাইবার কাপড় বা পুরোনো নরম গেঞ্জি দিয়ে ধুলো ঝেড়ে নিন। ভেজা কাপড় ডিরেক্ট দেবেন না।
তৃতীয় রুল: স্প্রে ডিরেক্ট বোর্ডে না। যেকোনো লিকুইড আগে কাপড়ে বা তুলোয় নিন, তারপর বোর্ড মুছুন। বোর্ডের ফাঁক দিয়ে লিকুইড ঢুকলে শর্ট সার্কিট হবে। কটন বাড ইউজ করুন সুইচের ফাঁকের জন্য।
5টা হ্যাক: ঘরের জিনিসেই বোর্ড হবে ঝকঝকে:
হ্যাক ১: বেকিং সোডা + কোলগেট। হাফ চামচ বেকিং সোডা + হাফ ইঞ্চি সাদা টুথপেস্ট + 2 ফোঁটা জল দিয়ে পেস্ট বানান। কটন বা পুরোনো টুথব্রাশে নিয়ে বোর্ডে সার্কুলার মোশনে ঘষুন। হলুদ দাগ, কালো ছোপ 2 মিনিটে ভ্যানিশ। টুথপেস্ট হালকা অ্যাব্রেসিভ, বেকিং সোডা ডিগ্রিজার। শেষে শুকনো কাপড়ে মুছে দিন।
হ্যাক ২: ভিনেগার স্প্রে ফর কিচেন। রান্নাঘরের তেল চিটচিটে বোর্ডের জন্য সাদা ভিনেগার আর জল 1:1 মিশিয়ে নিন। কাপড়ে নিয়ে মুছুন। 2 মিনিট রেখে শুকনো কাপড়ে চাপ দিয়ে মুছে নিন। ভিনেগার তেল কেটে দেয়। গন্ধ হবে না, 5 মিনিটে উড়ে যাবে। কলিন বা হারপিক ভুলেও না, প্লাস্টিক পুড়ে যাবে।
হ্যাক ৩: পেন্সিল ইরেজার ট্রিক। বিশ্বাস হবে না, কিন্তু সুইচের চারপাশে যে কালো আঙুলের দাগ পড়ে সেটা সাদা নরম ইরেজার দিয়ে ঘষলেই উঠে যায়। লিকুইড লাগবে না। বাচ্চার স্কুল ব্যাগে যে ইরেজার থাকে ওটাই। ইলেকট্রিকের ভয় জিরো।
হ্যাক ৪: নেলপলিশ রিমুভার বা স্পিরিট। পার্মানেন্ট মার্কার বা স্কচটেপের আঠা লেগে থাকলে কটন বাডে একটু অ্যাসিটোন বা স্পিরিট নিয়ে হালকা ঘষুন। সাথে সাথে উঠবে। কিন্তু বেশি ঘষবেন না, প্লাস্টিক গলে যেতে পারে। আর রুমে হাওয়া চলাচল রাখবেন।
হ্যাক ৫: WD-40 ফর এক্সট্রিম কেস। বোর্ড যদি 10 বছরের পুরোনো আর খুব তেলকালি হয়, কাপড়ে এক ফোঁটা WD-40 নিয়ে মুছে দিন। সব দাগ উঠে নতুনের মতো শাইন আসবে। কিন্তু এটা লাস্ট অপশন। আর মোছার 10 মিনিট পর কারেন্ট অন করবেন।
পরিষ্কারের পর যাতে আর নোংরা না হয়: 2টো প্রো টিপস
প্রো টিপ ১: ট্রান্সপারেন্ট নেইলপলিশ। বোর্ড পরিষ্কার করে শুকানোর পর পাতলা করে ট্রান্সপারেন্ট নেইলপলিশের একটা কোট লাগিয়ে দিন। শুকিয়ে গেলে একটা প্রোটেক্টিভ লেয়ার পড়বে। পরে নোংরা হলে ভেজা কাপড়ে মুছলেই উঠে যাবে। দাগ বসবে না। 6 মাসে একবার করুন।
প্রো টিপ ২: সুইচবোর্ড স্টিকার। অনলাইনে 20-30 টাকায় সুইচবোর্ড স্কিন বা স্টিকার পাওয়া যায়। পরিষ্কার করে লাগিয়ে দিন। নোংরা হলে স্টিকার চেঞ্জ করবেন, বোর্ড নতুন থাকবে। বিশেষ করে রান্নাঘরের জন্য বেস্ট।
সুইচবোর্ড হল বাড়ির মুখ। নোংরা বোর্ড মানে অগোছালো বাড়ি। আজই মেইন অফ করে 5 মিনিট টাইম দিন। বেকিং সোডা আর টুথপেস্ট তো ঘরেই আছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News