দিনে গরম, রাতে শীত! সিজন চেঞ্জে কীভাবে সুস্থ রাখবেন ছোটদের? গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিলেন শিশু বিশেষজ্ঞ মল্লার মুখোপাধ্যায়

Published : Feb 18, 2026, 03:22 PM IST
Season Change

সংক্ষিপ্ত

কখনও শীত, কখনও গরমে নাজেহাল শরীর! আবহাওয়ার ভয়ঙ্কর পরিবর্তনে কীভাবে সুস্থ রাখবেন শিশুদের? এশিয়ানেট নিউজ বাংলাকে জানালেন শিশু বিশেষজ্ঞ মল্লার মুখোপাধ্যায়…

সকালে গরম, রাতে আবার গায়ে চাপাতে হচ্ছে কম্বল! এই টালমাটাল আবহাওয়ার মধ্যে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে বাড়ির খুদেরা। আবহাওয়ার বদলেও কীভাবে সুস্থ রাখবেন নিজের বাড়ির কচিকাচাদের? এই নিয়ে এশিয়ানেট নিউজ বাংলাকে একগুচ্ছ পরামর্শ দিলেন  শিশু বিশেষজ্ঞ মল্লার মুখোপাধ্যায়।

সিজন চেঞ্জের সময় বাচ্চাদের কীভাবে সুস্থ রাখতে পারব?

ডাঃ মল্লার মুখোপাধ্যায়- যখনই সিজন চেঞ্জ হয় তখনই তাপমাত্রার একটা পরিবর্তন হয়, আর এই তাপমাত্রার পরিবর্তন হল ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির সহায়ক। এইরকম পরিবর্তিত তাপমাত্রাতেই ভাইরাস বাড়তে সুবিধা পায়। যার ফলে ইনফেকশনের প্রবণতা ভীষণ ভাবে বাড়তে থাকে। এ ছাড়াও যাদের অ্যালার্জি রয়েছে তাদের মধ্যেও এই ভাইরাসের প্রকোপটা বেশি হয়। এই ক্ষেত্রে যখনই আমরা বাচ্চাদের সুস্থ রাখার কথা বলি তখন ঠিক তিনটে জিনিস দেখি- 

১) হোস্ট অর্থাৎ মানব দেহ

২) এজেন্ট- অর্থাৎ সংক্রামক ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া এবং

৩) এনভায়রনমেন্ট বা পরিবেশ 

এই তিনটেই একে অপরের সঙ্গে জড়িত সাম্যাবস্থা বজায় রাখার জন্য। যদি এক এক করে ধরি, তাহলে হোস্ট অর্থাৎ বাচ্চারা। তাদের হাইজিন মেইন্টেন করা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। যেমন হাত ধুয়ে খাওয়া, বাইরে থেকে এসে হাত ধুয়ে নেওয়া। যদি কারও সর্দি-কাশি হয় তাহলে তার কাছে বেশি যাওয়া যাবে না। সম্ভব হলে মাস্ক পড়ুক। ধরুন বারবার হাত নাকে বা মুখে দেওয়া যাবে না। কারণ এই ভাইরাসগুলো এমনিতেই ঘরের তাপমাত্রায় বহুক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে সেক্ষেত্রে ধরুন কারও সর্দি কাশি হয়েছে সে কোথাও একটা হাত দিল আবার বাচ্চারাও সেখানে হাত দিল তখনই ভাইরাস ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ছাড়াও বাথরুমের হাইজিনটাও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বাথরুমে হাত-পা ভাল করে পরিষ্কার করে ধুয়ে আসতে হবে। বাইরের খাবার যতটা সম্ভব না খাওয়া। বাড়ির তৈরি খাবার বেশি খাওয়া। 

এবার নিউট্রেশনের বিষয়গুলোতে চলে আসি, ঘরের খাবার বেশি করে খেতে হবে। জল বেশি করে খেতে হবে। শাকসবজি ফল খাওয়া ভীষণ প্রয়োজনীয়। ভিটামিন সি জাতীয় খাবার যেমন- কমলা লেবু, পেঁপে, পেয়ারা এগুলো খেতে হবে। অন্যান্য শাকসব্জিতেও ভিটামিন রয়েছে। যেগুলো হলুদ সবজি তাতে ভিটামিন এ প্রচুর রয়েছে এগুলো নিয়মিত খেতে হবে। ৬ মাস থেকে ১ বছরের বাচ্চারাও এই খাবারগুলো খেতে পারে। এ ছাড়াও ভিটামিন ডি জাতীয় খাবার খেতে হবে। প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারণ আমাদের শরীরে কোনও জীবানু ঢুকলে আমাদের শরীর তার বিরুদ্ধে লড়াই করে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। এই অ্যান্টিবডিগুলো কিছুই না প্রোটিন। প্রোটিন দিয়েই এই অ্যান্টিবডিগুলো তৈরি হয়। তাই মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, পনির সয়াবিন এগুলো খেতে হবে। ফাইবার জাতীয় খাবার যেমন -গাজর , কড়াইশুঁটি, নাসপাতি, এগুলো খেলে কিছু ভাল ব্যাকটেরিয়া শরীরে ঢোকে যেগুলো খারাপ ব্যাকটেরিয়া থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। 

অনেক ক্ষেত্রেই সিজনচেঞ্জে মায়েরা শিশুদের স্নান করাতে ভয় পান,  এই সময় সত্যিই কি শিশুদের স্নান করাতে নেই?

ডাঃ মল্লার মুখোপাধ্যায়- রোজ স্নান করাতে হবে। অনেক  মায়েদের ধারণা আছে যে স্নান করালেই ঠান্ডা লেগে যাবে তা নয়। স্নান করলে শরীরের প্রতিটা অংশে জল পৌঁছয় এবং জল পৌঁছালে কী হয় শরীরের সমস্ত অংশের কাজকর্ম ভাল হয়। বাচ্চারা অনেক বেশি সতেজ অনুভব করে। কিন্তু অবস্থা বুঝে জল ঠান্ডা বা গরম রাখতে হবে। শীতে গরম জল এবং সিজন চেঞ্জে হালকা গরম জলে স্নান করাতে হবে। মাথাতেও জল দিতে হবে এবং স্নানের পরে ভাল করে মাথা মুছে নিতে হবে। 

  • এ ছাড়াও বাচ্চাদের যদি ইমিউনিটিটা বাড়ানো যায় তাহলে সব দিকে রক্ষা পাবে। ইমিউনিটি বাড়ানোর পদ্ধতির মধ্যে একটা তো বললাম খাওয়ার ব্যাপারটা। এরপরে আসছে ঘুম। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা এবং বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ৮-৯ ঘণ্টা ঘুমাতেই হবে।
  • বড় বাচ্চাদের দৌড়াদৌড়ি, খেলাধুলো ভীষণ প্রয়োজনীয়। রোদ্দুরে থাকলে ভিটামিন ডি শরীরে আসে তাই রোদে থাকা প্রয়োজনীয়। তবে খুব গরমের রোদে আবার বেশিক্ষণ থাকা ভাল না। 

এরপর হল ভ্যাকসিনেশন। তাই শিশুদের সমস্ত প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনেশন দিতে হবে।  

শিশুদের ঠান্ডা লাগলেই আমরা মুড়ি-মুড়কির মতো ওষুধ খাওয়াই, সবথেকে বেশি খাওয়াই প্যারাসিট্যামল এক্ষেত্রে সবসময় সামান্য কিছু হলেই ওষুধ খাওয়ানোটা কতটা নিরাপদ?

ডাঃ মল্লার মুখোপাধ্যায়-প্যারাসিট্যামল ওষুধটা অত্যন্ত বুঝেশুনে খাওয়ানো উচিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়ানো একেবারেই উচিত নয়। কারণ বাচ্চাদের ক্ষেত্রে যেটা হয়, প্যারাসিট্যামল ড্রপ হিসাবেও পাওয়া যায় আবার সিরাপ হিসাবেও পাওয়া যায়। ড্রপে যে পরিমাণ থাকে সেটা কিন্তু সিরাপের অনেক বেশি পরিমাণ থাকে। অর্থাৎ একটা সিরাপে যদি ৫ ML এ ১২০ মিলিগ্রাম থাকে তাহলে ১ ML-এ ১০০ মিলিগ্রাম থাকছে। এবার ধরুন কারও কাছে সিরাপ আছে সে আগের প্রেসক্রিপশন দেখে বাচ্চাকে ওষুধটা খাইয়ে দিল সেখানে অনেক কম পরিমাণ ওষুধ যাবে। অন্যদিকে কারও কাছে ড্রপ আছে সে যদি সিরাপের পরিমাণটা খাইয়ে দেয় তাহলে অনেক বেশি পরিমাণ ওষুধ দেহে চলে যাবে। তাই নিজের থেকে কখনও শিশুকে ওষুধ খাওয়ানো উচিত নয়। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়ানো উচিত। 

  •  এ ছাড়া আরও বলব সর্দি-কাশি না বাচ্চাদের হয়। গোটা বছরে ৭ থেকে ৮ বার বা অনেক ক্ষেত্রে ১০বার পর্যন্ত এই ভাইরাল ইনফেকশনগুলো হয়। এগুলো হওয়া মানে হচ্ছে একটা পদ্ধতি যার মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভাবে শরীরে ভাইরাসগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিষেধক তৈরি হওয়া। তাই সর্দি-কাশির ওষুধ নিজেদের মতো করে কখনই খাওয়ানো উচিত নয়।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Waste Hair: সেলুনের ফেলে দেওয়া চুলেই বাঁচছে চাষের জমি, চুলচেরা গবেষণাতেই বিপ্লব
হোলির পার্টিতে বাচ্চাদের মন জয় করতে বানাতে পারেন এমন স্ন্যাক্স, দেখে নিন এক ঝলকে