প্রথমবার আপনার সন্তান প্রেমে পড়েছে, বকাঝকা না দিয়ে বন্ধু হয়ে পাশে দাঁড়ান, ভুল করেও বলবেন না এইগুলি..

Published : Feb 15, 2026, 08:03 PM IST
Parenting tips

সংক্ষিপ্ত

সন্তানকে বোঝাতে গিয়ে কী বলবেন আর কী বলবেন না, তার গণ্ডি মেনে চলুন। নইলে আপনার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে।

কিশোরী সন্তানের প্রথম প্রেমের কথা জানার পর অভিভাবকরা রাগের মাথায় "ওসব পড়াশোনা নষ্ট", "চরিত্র খারাপ", বা "তোকে ঘরে বন্দি করে রাখব" জাতীয় কথা বললে পরিস্থিতি মারাত্মক হতে পারে । এই বয়সে আবেগ প্রবল থাকে, তাই কঠোরতা বা হুমকি না দিয়ে বন্ধুসুলভ আচরণ, খোলামেলা আলোচনা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে সম্পর্কের দিকনির্দেশনা দেওয়া জরুরি।

যে কথাগুলি বললেই সর্বনাশ (নিষেধাজ্ঞা):

* "ওসব পড়াশোনা নষ্ট, প্রেম করবি না": এই কথা সরাসরি তাদের আবেগকে অস্বীকার করে এবং তাদের আপনার থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

* "তোকে ঘরে বন্দি করে রাখব" বা ফোন কেড়ে নেওয়া: এই ধরণের হুমকি কিশোর-কিশোরীদের মনে বিদ্রোহের জন্ম দেয় এবং তারা তখন লুকিয়ে প্রেম করতে শুরু করে।

* "এসব চরিত্র খারাপের লক্ষণ": তাদের অনুভূতিকে "চরিত্র খারাপ" বলে দাগিয়ে দিলে তাদের আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ে এবং তারা অবসাদে ভুগতে পারে।

* "তোর ওই ছেলে/মেয়েটা একদম ভালো না": এই কথাটি আপনার সন্তানের মনে আপনার প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি করবে।

* "আমি জানতাম তুই এরকম করবি": এই ধরণের বাক্য তাদের মনে অপরাধবোধ (guilt) তৈরি করে যা ক্ষতিকর।

বিস্তারিত আলোচনা: কেন এই কথাগুলো বিপজ্জনক এবং করণীয় কী?

কৈশোর (teenage) হলো আবেগ ও পরিবর্তনের সময়। এই বয়সে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ খুব স্বাভাবিক।

১. বিশ্বাসভঙ্গ ও দূরত্ব: যখন আপনি তাদের আবেগকে অসম্মান করবেন, তখন সন্তান আপনার উপর বিশ্বাস হারাবে। এর ফলে পরবর্তীকালে কোনো বিপদে পড়লে তারা আর আপনার কাছে সাহায্য চাইবে না, যা অনেক ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যায়।

২. মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব: কঠোর শাসন বা কথা না শুনেই চিৎকার-চেঁচামেচি করলে কিশোরী সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।

৩. লুকিয়ে সম্পর্ক: আপনি যত বেশি কঠোর হবেন, তারা তত বেশি বিষয়টিকে আড়াল করার চেষ্টা করবে। এর থেকে ভুল পথে পা বাড়ানোর আশঙ্কা বাড়ে।

অভিভাবকদের করণীয়:

* শান্ত থাকুন: প্রথম শোনার পর রাগ না করে শান্তভাবে সন্তানের কথা শুনুন।

* বন্ধু হোন: তাকে বলুন যে তার অনুভূতিগুলো স্বাভাবিক। সে আপনাকে বিশ্বাস করে বিষয়টি জানিয়েছে, এটি বুঝতে দিন।

* পড়াশোনার ওপর জোর: প্রেমের কথা না বলে, তার পড়াশোনা ও লক্ষ্যের ওপর ফোকাস রাখার জন্য তাকে উৎসাহিত করুন।

* সীমানা নির্ধারণ (Boundaries): সম্পর্কের একটি স্বাস্থ্যকর সীমা থাকা দরকার, তা শান্তভাবে তাকে বোঝান।

কিশোর বয়সে প্রেম নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে, ধৈর্য ধরে সন্তানের গাইড হিসেবে পাশে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

চোখের নিচের কালো দাগ দূর করার সহজ ঘরোয়া উপায়
Uric Acid: সতর্ক হন, এই ভুলে ভয়ঙ্কর হারে বেড়ে যায় ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা! নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলেই বিপদ