
গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতে ১ চামচ সাদা মাখন ফেলে দিলেই স্বর্গ। কিন্তু রোজ খেলে কী হবে? মাখন মানেই স্যাচুরেটেড ফ্যাট + ভিটামিন A, D, E, K। অল্প খেলে হজম ভালো হয়, হাড় শক্ত হয়, স্কিন গ্লো করে, বাচ্চাদের ব্রেন ডেভেলপমেন্টে কাজে দেয়। বেশি খেলে ওজন, কোলেস্টেরল, ফ্যাটি লিভার, হার্টের রিস্ক বাড়ে। দিনে ১ চামচ = ১০০ ক্যালোরি। যাদের কোলেস্টেরল, থাইরয়েড, PCOD আছে তারা সাবধান। ঘি নাকি মাখন? কোনটা ভালো, রইল ডাক্তারের হিসেব।
জ্বর থেকে উঠেছেন, পেটে কিছু রোচে না। মা গরম ভাত, আলুসেদ্ধ, ১ চামচ সাদা মাখন মেখে দিল। ২ প্লেট সাবাড়। স্বাদ আজও মুখে লেগে।
কিন্তু মা-ঠাকুমার আমলের সেই মাখন আর এখনকার প্যাকেট বাটার এক নয়। তাই রোজ খেলে শরীরে কী কী হয় জানা দরকার।
১ চামচ মাখনে কী থাকে? হিসেবটা দেখুন: ১ চামচ = ১৪ গ্রাম = ১০২ ক্যালোরি। এর মধ্যে ১১ গ্রাম ফ্যাট। তার ৭ গ্রাম স্যাচুরেটেড ফ্যাট। সাথে ভিটামিন A, D, E, K2, কনজুগেটেড লিনোলিক অ্যাসিড CLA।
১. ইনস্ট্যান্ট এনার্জি বুস্ট: ভাতের কার্ব + মাখনের ফ্যাট = স্লো রিলিজ এনার্জি। ২ ঘণ্টা খিদে পাবে না। জিম, খাটনি করার আগে খেলে স্ট্যামিনা বাড়ে। বাচ্চাদের টিফিনের আগে দিলে ক্লাসে ঝিমোবে না।
২. ভিটামিন শোষণ ১০ গুণ বাড়ে: গাজর, পালং শাকের ভিটামিন A, D, E, K ফ্যাট ছাড়া শরীর টানতে পারে না। ভাতের সাথে মাখন খেলে এই ভিটামিনগুলো রক্তে ঢোকে। চোখ, হাড়, স্কিনের জন্য দারুণ।
৩. হজম ভালো হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে: সাদা মাখনে বিউটাইরেট থাকে। এটা পেটের ভালো ব্যাকটেরিয়ার খাবার। ইনটেস্টাইনের লাইনিং ঠিক রাখে। যাদের IBS, গ্যাস-অম্বল আছে, অল্প মাখন-ভাত আরাম দেয়।
৪. ব্রেন + নার্ভের খাবার: ব্রেনের ৬০% ফ্যাট। বাচ্চাদের ব্রেন ডেভেলপমেন্টে গুড ফ্যাট দরকার। মাখনের কোলেস্টেরল ব্রেন সেলের মেমব্রেন বানায়। বয়স্কদের অ্যালঝাইমার্স রিস্ক কমায়।
৫. স্কিন-চুল চকচকে হয়: ভিটামিন A আর E স্কিন ড্রাই হতে দেয় না। শীতকালে হাত-পা ফাটা, খসখসে স্কিনে মাখন-ভাত কাজের জিনিস।
কিন্তু রোজ ২-৩ চামচ খেলে ৫টা খারাপ জিনিস হবে:
১. ওজন হু হু করে বাড়বে: ১ চামচ = ১০০ ক্যালোরি। ৩ চামচ মানে ৩০০ ক্যালোরি এক্সট্রা। ১ মাসে ১ কেজি ফ্যাট। পেট, থাই, থুতনিতে চর্বি জমবে।
২. কোলেস্টেরল + হার্টের বারোটা: মাখনের ৭ গ্রাম স্যাচুরেটেড ফ্যাট LDL বা খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায়। ধমনীতে প্লাক জমে। ৪০-এর পর রোজ খেলে হার্ট অ্যাটাকের রিস্ক ৩ গুণ।
৩. ফ্যাটি লিভার হবে: লিভার এক্সট্রা ফ্যাট প্রসেস করতে না পেরে নিজেই জমাতে শুরু করে। USG করলে Grade-1 ফ্যাটি লিভার ধরা পড়বে। পেটের ডানদিকে ব্যথা, হজমের সমস্যা শুরু।
৪. ব্রণ, অ্যাকনে বাড়বে: যাদের হরমোনাল অ্যাকনে আছে, ডেয়ারি ফ্যাট খেলে IGF-1 হরমোন ট্রিগার করে। মুখে, পিঠে ব্রণ ভরে যাবে।
৫. থাইরয়েড, PCOD-এ সমস্যা: স্যাচুরেটেড ফ্যাট ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ায়। থাইরয়েড স্লো হয়ে যায়, ওজন কমে না। PCOD-তে পিরিয়ড আরও অনিয়মিত হয়।
তাহলে খাবেন কিনা? কি বলছেন ডাক্তররা: সুস্থ মানুষ: দিনে ১ চামচ, সপ্তাহে ৫ দিন। ৩০ বছরের নিচে, রোগা, খাটনি করলে ২ চামচ চলতে পারে। বাচ্চা ২-১০ বছর: দিনে ১-২ চামচ। ব্রেন, হাইট গ্রোথের জন্য দরকার। এরা এড়িয়ে চলুন: হার্টের রোগী, কোলেস্টেরল ২০০-এর উপর, ফ্যাটি লিভার, গলব্লাডার স্টোন, ওবেসিটি, PCOD, থাইরয়েড। আপনাদের জন্য ঘি বেটার।
মাখন না ঘি, ভাতের সাথে কোনটা ভালো? ঘি জেতে ৩ কারণে: ১. ঘি-তে স্মোক পয়েন্ট বেশি, গরম ভাতে দিলে নষ্ট হয় না। ২. ঘি ল্যাকটোজ-কেসিন ও ফ্রি, দুধে অ্যালার্জি থাকলেও চলবে। ৩. ঘি-তে CLA বেশি, ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে। মাখন কখন ভালো: কাঁচা খেতে হলে, স্বাদের জন্য। বাড়িতে পাতা সাদা মাখন হলে। প্যাকেট বাটারে নুন, প্রিজারভেটিভ থাকে।
১. সাদা মাখন বানান: ফুল ক্রিম দুধের সর জমিয়ে ব্লেন্ড করুন। বরফ জল দিলে মাখন ভেসে উঠবে। এটা প্যাকেটের চেয়ে ১০০ গুণ ভালো। ২. গরম ভাতে নয়, ঠান্ডা করে: বেশি গরমে মাখনের ভিটামিন নষ্ট হয়। ভাত একটু ঠান্ডা হলে মেশান। ৩. দুপুরে খান, রাতে না: রাতে ফ্যাট হজম হয় না, ভুঁড়ি হবে। দুপুরে খেয়ে হাঁটাহাঁটি করুন।
মাখন-ভাত খারাপ নয়, অমৃত। কিন্তু অমৃতও বেশি খেলে বিষ। পরিমাণ বুঝুন। সপ্তাহে ২ দিন আলুসেদ্ধ-মাখন-ভাত খান, মনও ভরবে, শরীরও বাঁচবে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News