
গরমে বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছেন? ফ্যানের হাওয়াও গরম লাগছে? এসি নেই বা কারেন্ট নেই? টেনশন নেবেন না। শরীর ঠান্ডা করার এসির সুইচটা আপনার পায়ের পাতায় লুকিয়ে আছে। কেন পা ঠান্ডা করলে গোটা শরীর ঠান্ডা হয় আর কীভাবে করবেন, সেটাই বলছি।
১. রেডিয়েটর ইফেক্ট: আমাদের হাতের তালু, পায়ের পাতা আর মুখে বিশেষ রক্তনালী থাকে যার নাম AVA, মানে Arteriovenous Anastomoses। এগুলো শরীরের রেডিয়েটরের মতো কাজ করে। পা ঠান্ডা জলে দিলে এই রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে ঠান্ডা রক্ত সারা শরীরে পাঠায়। ফলে কোর বডি টেম্পারেচার ১৫ মিনিটে ১-২ ডিগ্রি কমে যায়।
২. ঘুমের ট্রিগার: আমাদের শরীরের কোর টেম্পারেচার ১ ডিগ্রি কমলে ব্রেনে মেলাটোনিন হরমোন রিলিজ হয়। এটাই ঘুমের হরমোন। তাই জাপানে ‘আশিযু’ বা ফুট বাথ ঘুমের আগে খুব জনপ্রিয়। ২০১৮ সালে Journal of Physiological Anthropology তে প্রকাশিত গবেষণা এটাই বলছে।
৩. পালস পয়েন্ট: গোড়ালি, পায়ের পাতার মাঝখান হল পালস পয়েন্ট। এখানে চামড়া পাতলা, রক্তনালী স্কিনের কাছাকাছি। তাই এখানে ঠান্ডা লাগালে দ্রুত কাজ হয়।
১. বালতি-মগ থেরাপি - ১০ মিনিটে ফল:
একটা বালতিতে স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল নিন। বরফ জল নয়। বরফ দিলে রক্তনালী বেশি সংকুচিত হয়ে উল্টো গরম লাগবে।
তাতে ১ চামচ লবণ আর ৫-৬টা পুদিনা পাতা থেঁতো করে দিন। লবণ তাপ শোষণ করে, পুদিনা মেন্থলের জন্য ঠান্ডা অনুভূতি দেয়।
ঘুমানোর ৩০ মিনিট আগে ১০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। তারপর না ধুয়ে শুধু মুছে ফ্যানের নিচে শুয়ে পড়ুন।
২ . ভেজা মোজা ট্রিক - সারা রাত ঠান্ডা:
- একজোড়া পরিষ্কার সুতির মোজা জলে ভিজিয়ে ভালো করে নিংড়ে নিন। জল যেন না পড়ে।
- এটা পরে তার উপর একটা শুকনো পাতলা মোজা পরুন। বিছানা ভিজবে না।
- সারা রাত ধরে জল বাষ্প হয়ে পা থেকে তাপ টানবে। এটাকে ‘ওয়েট সক ট্রিটমেন্ট’ বলে। জ্বরের সময়ও অনেকে ব্যবহার করেন। ডায়াবেটিস বা পায়ে ঘা থাকলে এই ট্রিক করবেন না।
৩. মেহেদি-চন্দন প্যাক - ২ ঘণ্টার এসি:
- আমাদের দাদি-নানিরা গরমে পায়ের তলায় মেহেদি দিতেন। এটা কুসংস্কার নয়। মেহেদি পাতায় লসোন নামের যৌগ থাকে যা স্কিনে লাগালে ঠান্ডা অনুভূতি দেয়।
- ২ চামচ মেহেদি বাটা + ১ চামচ চন্দন গুঁড়ো + গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট বানান।
- রাতে পায়ের তলায় লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। ২-৩ ঘণ্টা পর্যন্ত পা ঠান্ডা থাকবে।
৩: এই ৩টা ভুল করলে গরম আরও বাড়বে
১. বরফ জলে পা দেওয়া: বরফ জল দিলে শরীর ভাবে বাইরে খুব ঠান্ডা। তখন সে ইন্টারনাল হিট প্রোডাকশন বাড়িয়ে দেয়। ১০ মিনিট পর আরও বেশি গরম লাগবে। তাই কলের স্বাভাবিক জলই বেস্ট।
২. খালি পেটে করা: গরমে শরীর এমনিতেই ডিহাইড্রেটেড থাকে। খালি পেটে পা ঠান্ডা করলে ব্লাড প্রেসার ফল করতে পারে। মাথা ঘুরতে পারে। হালকা কিছু খেয়ে বা ১ গ্লাস জল খেয়ে তারপর করুন।
৩. এসি আর ফুট বাথ একসাথে: এসি চালিয়ে পা জলে দিলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। শরীরের উপরে ঠান্ডা, নিচে গরম—এই কনফ্লিক্টে জ্বর আসতে পারে। হয় এসি, নয় ফুট বাথ।
পা ঠান্ডা করা হল গরমে আরাম পাওয়ার উপায়। এটা হিট স্ট্রোকের চিকিৎসা নয়। নিচের লক্ষণ থাকলে সাথে সাথে ডাক্তার ডাকুন বা হাসপাতালে যান:
১. শরীরের তাপমাত্রা ১০৪°F বা ৪০°C এর বেশি।
২. মাথা ঘোরা, বমি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
৩. ঘাম বন্ধ হয়ে গিয়ে চামড়া শুকনো ও লাল হয়ে যাওয়া।
৪. খুব দ্রুত হার্টবিট বা শ্বাসকষ্ট।
মনে রাখবেন, হিট স্ট্রোক মেডিকেল এমার্জেন্সি। ঘরোয়া টোটকায় সময় নষ্ট করবেন না।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News