Kolkata Antipode : কলকাতার ঠিক বিপরীত প্রান্তে কী? সেখানে কেমন জীবন কাটান মানুষ

Published : Sep 20, 2026, 03:27 PM IST
Kolkata Antipode

সংক্ষিপ্ত

Kolkata Antipode সাদৃশ্যের চেয়ে বৈপরীত্যের ওপর মানুষের টান একটু বেশিই থাকে। আসলে সাদৃশ্য আমাদের স্বস্তি দেয়, কিন্তু বৈপরীত্য আমাদের থমকে দেয়। হয়তো সেই কারণেই পৃথিবীর এক প্রান্তের ঠিক বিপরীতে কী আছে, তা জানার কৌতূহল মানুষের বরাবরই।

Kolkata Antipode সাদৃশ্যের চেয়ে বৈপরীত্যের ওপর মানুষের টান একটু বেশিই থাকে। আসলে সাদৃশ্য আমাদের স্বস্তি দেয়, কিন্তু বৈপরীত্য আমাদের থমকে দেয়। হয়তো সেই কারণেই পৃথিবীর এক প্রান্তের ঠিক বিপরীতে কী আছে, তা জানার কৌতূহল মানুষের বরাবরই। এই প্রতিবেদন সেই বৈপরীত্যের হদিশ নিয়েই। আপনি যদি পৃথিবীর যেকোনও জায়গা থেকে সোজা নিচের দিকে, পৃথিবীর কেন্দ্র পেরিয়ে অন্য প্রান্তে পৌঁছতে পারেন, ঠিক কোথায় গিয়ে উঠবেন? সেই কাল্পনিক বিন্দুকেই বলা হয় অ্যান্টিপোড (Antipode), পৃথিবীর এক জায়গার ঠিক বিপরীত প্রান্ত। ভাবতে ইচ্ছে করে, আমাদের শহর কলকাতা বা রাজ্যের ঠিক উল্টো দিকের জায়গাটা ঠিক কী? আপনি এই মুহূর্তে যে জায়গায় বসে এই লেখাটি পড়ছেন, তারও পৃথিবীর ঠিক উল্টো দিকে রয়েছে একটি জায়গা। সেই জায়গাটা কোথায়? আর সেখানে থাকা মানুষগুলোর জীবনই বা কেমন?

চলুন, খুঁজে দেখা যাক কলকাতার সেই 'উল্টো দিক'কে।

কলকাতার অ্যান্টিপোড বা ঠিক বিপরীত প্রান্তে জনবসতি থাকা অঞ্চল

ভৌগোলিক দিক থেকে কলকাতার অ্যান্টিপোড হল দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে, দক্ষিণ আমেরিকার চিলির উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত। কলকাতার ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক হল 22.57° N, 88.36° E, সেই অঙ্কে কলকাতার Antipode প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর জলে। কলকাতার ঠিক অ্যান্টিপোড আসলে মহাসাগরের মধ্যে পড়ে। অর্থাৎ, কলকাতা থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পেরিয়ে সোজা বিপরীত দিকে গেলে কোনও স্থলভাগে নয়, পৌঁছনো যাবে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর জলে। সেখানে তো কোনও মানুষের সন্ধান মিলবে না। তাই মানুষের খোঁজে আরও একচু যাওয়া যাক। কলকাতার অ্যান্টিপোডের সবচেয়ে কাছাকাছি জনবসতিপূর্ণ স্থলভাগগুলির একটি হল দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলির Robinson Crusoe Island-এর সান হুয়ান বাউতিস্তা (San Juan Bautista)। অনেকেরই হয়তো জানতে ইচ্ছে করবে, কলকাতার ঠিক বিপরীত প্রান্তের মানুষরা তাদের জীবন কেমনভাবে কাটায়। কলকাতার সঙ্গে কতটা মিল চিলির সেই সান হুয়ান বাউতিস্তার মানুষদের?

কেন অ্যান্টিপোড নিয়ে দুনিয়ার এত আগ্রহ

প্রশ্ন হল, অ্যান্টিপোড নিয়ে দুনিয়ার এক শ্রেণির মানুষের এত আগ্রহ কেন? তার আগে বলে নেওয়া যাক, অ্যান্টিপোড ফ্যান ক্লাব, কমিউনিটির কথা। গত দুই দশকে দুনিয়া জুড়ে অ্যান্টিপোড বা তাদের অবস্থানের বিপরীত প্রান্তকে নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেই আগ্রহ থেকে নিউ জিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে তৈরি হয়েছে 'অ্যান্টিপোড কমিউনিটি'। চিলিতে তৈরি হয়েছে 'অ্যান্টিপোড কিউরিওসিটি ক্লাব'। অ্যান্টিপোড ট্যুরিজম নিয়েও বাড়ছে আগ্রহ। কিন্তু কেন এই আগ্রহ! মনস্তত্ত্ববিদরা বলেন, মানুষের মনে অজানা এবং বিপরীত জিনিসের প্রতি স্বাভাবিক কৌতূহল রয়েছে। যে জায়গাটি মানচিত্রে আমাদের থেকে সবচেয়ে দূরে, অথচ পৃথিবীর গোলকের হিসাবে ঠিক আমাদের পায়ের নীচে অন্য প্রান্তে, তার প্রতি আকর্ষণ তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। নিজের পরিচিত পৃথিবীর ঠিক উল্টো দিকে কী রয়েছে, সেখানে দাঁড়ালে কেমন লাগবে, সেখানকার মানুষ এখন কী করছেন, এই প্রশ্নগুলিই কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়।

কলকাতার বিপরীত প্রান্তের মানুষের জীবনযাত্রা

কলকাতার উল্টোদিকের অঞ্চল 'সান হুয়ান বাউতিস্তা' হল চিলির রবিনসন ক্রুসো দ্বীপের প্রধান এবং একমাত্র জনবহুল শহর। জনবহুল মানে, সরকারি হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জে মাত্র ৯২৬ জন মানুষের বসবাস। একদিকে কয়েক কোটি মানুষের কলকাতা, হর্ন, ভিড়, ট্রাফিক আর ব্যস্ততার শহর। অন্যদিকে পৃথিবীর ঠিক উল্টো প্রান্তের ছোট্ট জনপদ, যেখানে সমুদ্রই জীবিকার অন্যতম ভরসা, আর সময় যেন একটু ধীর গতিতে চলে। প্রশান্ত মহাসাগরে মাছ ধরে জীবন কাটান এখানকার বাসিন্দারা। এখানকার মানুষদের বিনোদন বলতে ফুটবল আর স্থানীয় ভাষার লোকগীতি। বাইরের জগতের সঙ্গে সম্পর্ক বেশ কম। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই।

মহাসাগরের বুকের এই দ্বীপে জলপথ পরিবহণও তেমন নেই। মাসে দুটি ছোট জাহাজ নিয়ে আসে চিলির নৌসেনা। মাত্র কয়েকজন পর্যটক আসতে পারে সেই জাহাজে। সেই জাহাজেই দ্বীপের মানুষের দৈনিক জীবনের চাহিদার সরঞ্জাম। ছোট একটা বিমানবন্দর আছে, তবে সেটিতে খুবই ছোটমাপের কপ্টার ওঠানামা করতে পারে। বিদেশি পর্যটকরাই প্রধানত এখানে ঘুরতে এসে বিমানের ব্যবহার করেন। এখানকার বাসিন্দাদের স্ট্যাটাস সিম্বল হল-রঙীন নৌকা।

দেখুন সান হুয়ান বাউতিস্তা-র ভিডিও

'সান হুয়ান বাউতিস্তা'-র কাহিনি

দ্য রিয়েল কাস্টঅ্যাওয়ে: আলেকজান্ডার সেলকার্ক

আজ যে দ্বীপের নাম রবিনসন ক্রুসো আইল্যান্ড, তার ইতিহাসে লুকিয়ে রয়েছে এক বাস্তব 'রবিনসন ক্রুসো'-র গল্প। ১৭০৪ সালে স্কটিশ নাবিক আলেকজান্ডার সেলকার্কের সঙ্গে তাঁর জাহাজের ক্যাপ্টেনের বিবাদ হয়। শেষ পর্যন্ত সেলকার্ক জনমানবহীন Más a Tierra দ্বীপে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তখন কি তিনি জানতেন, এই সিদ্ধান্তই একদিন তাঁকে ইতিহাসের অংশ করে তুলবে?

চার বছর চার মাস সম্পূর্ণ একা সেই দ্বীপে কাটান সেলকার্ক। খাবার জোগাড় করা, আশ্রয় তৈরি করা, বন্য পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা, সবকিছুই তাঁকে একাই করতে হয়েছিল। অবশেষে ১৭০৯ সালে একটি ব্রিটিশ জাহাজ তাঁকে উদ্ধার করে। কিন্তু সেলকার্কের গল্প সেখানেই শেষ হয়নি। তাঁর সেই নিঃসঙ্গ জীবন, প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই এবং বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতা পৌঁছে যায় লেখক ড্যানিয়েল ডিফোর কাছে। আর তার কয়েক বছর পর, ১৭১৯ সালে জন্ম নেয় বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত চরিত্র, রবিনসন ক্রুসো। বাস্তবের এক নাবিকের চার বছরের নিঃসঙ্গতা এভাবেই বদলে যায় কল্পকাহিনির অমর অভিযানে। পরে ১৯৬৬ সালে সেই বাস্তব দ্বীপটির নামই বদলে রাখা হয় Robinson Crusoe Island। সেই দ্বীপের শহরই হল কলকাতার অ্যান্টিপোড স্থান 'সান হুয়ান বাউতিস্তা'।

২০১০-র সুনামি: সান হুয়ান বাউতিস্তার ভয়াবহ দিন

২০১০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। ভোরের আলো ফোটার আগেই কেঁপে উঠেছিল চিলি। ৮.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হয় শক্তিশালী সুনামি। তার ঢেউ আছড়ে পড়ে রবিনসন ক্রুসো দ্বীপের সান হুয়ান বাউতিস্তাতেও। মুহূর্তের মধ্যে শান্ত উপকূলীয় জনপদ বদলে যায় আতঙ্কের ছবিতে। সমুদ্রের জল আচমকা সরে যেতে দেখে বিপদের আঁচ পেয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপরই বিশাল ঢেউ ধেয়ে আসে উপকূলের দিকে। বহু বাড়িঘর এবং নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এই দ্বীপের অনেক মানুষ মারা যান, ভেঙে যায় সেখানকার গর্ব ও ঐতিহ্যের দুই দুর্গ। সেই দিন দ্বীপের মানুষ বুঝেছিলেন, চারদিকের এই বিশাল সমুদ্র শুধু তাঁদের জীবন-জীবিকার ভরসা নয়, মুহূর্তে হয়ে উঠতে পারে ভয়ঙ্কর শক্তির উৎস। ২০১০-এর সুনামি তাই আজও সান হুয়ান বাউতিস্তার স্মৃতিতে এক গভীর ক্ষত। আজও সেখানে সেই সুনামির ভয়াবহ ক্ষত দেখতে পাওয়া যায়।

কলকাতার মানুষদের সঙ্গে মিল

কলকাতাবাসীর গলদা চিংড়ির প্রেমের কথা কারও অজানা নয়। সেই তিলোত্তমা শহরের অ্যান্টিপোড অঞ্চলে মানুষরা আবার তাদের পেট চালায় প্রশান্ত মহাসাগরের বিশেষ ধরনের দামি গলদা চিংড়ি ধরে। এই গলদা চিংড়ির আসল নাম হল 'Juan Fernández spiny lobster'। সমুদ্রের এই বিশেষ লবস্টারই বহু স্থানীয় পরিবারের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 'সান হুয়ান বাউতিস্তা'-র বাসিন্দারা একটা বড় নৌকা নিয়ে চলে প্রশান্ত মহাসাগরে নেমে পড়েন। আর ধরে আনেন সাইজে বেশ বড় আর স্বাদে অমৃত 'গলদা চিংড়ি'। এই দ্বীপের গলদা চিংড়ি গোটা চিলিতে বিখ্যাত। বছর কয়েক আগে 'সান হুয়ান বাউতিস্তা'-তে ঘুরতে গিয়ে এক মার্কিন ইউটিউবার সেখান থেকে গলদা চিংড়ি ও সেখানকার কিছু খাবার দেশে নিয়ে যান। এবং তা নিয়ে ভিডিও করেন। তারপর থেকে 'সান হুয়ান বাউতিস্তা'-র গলদা চিংড়ি ও মাছ আমেরিকার কিছু রেস্তোরাঁয় জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছে। তার মানে দাঁড়াল, গলদা চিংড়ি খেয়ে নাম করছে বাঙালি, আর তা খাইয়ে 'সান হুয়ান বাউতিস্তা'।

কলকাতা থেকে কীভাবে যাবেন 'অ্যান্টিপোড' রবিনসন ক্রুসো আইল্যান্ডে

কলকাতা থেকে সরাসরি সান হুয়ান বাউতিস্তা যাওয়ার কোনও বিমানপথ নেই। প্রথমে বিমানপথে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোয় পৌঁছতে হবে। সেটা করতে হলে কলকাতা থেকে দুবাইয়ে যাওয়ার পর, সেখান থেকে সান্তিয়াগোর ২২ ঘণ্টার দীর্ঘ কানেকটিং ফ্লাইট ধরতে হবে। সেখান থেকে রবিনসন ক্রুসো দ্বীপের এয়ারস্ট্রিপে যাওয়ার জন্য চার্টার বিমান বুক করতে হয়। এই বিমানযাত্রায় সময় লাগে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। তবে এখানেই যাত্রা শেষ নয়। দ্বীপের এক প্রান্তে থাকা এয়ারস্ট্রিপ থেকে সান হুয়ান বাউতিস্তা শহরে পৌঁছতে বাধ্যতামূলকভাবে প্রায় এক ঘণ্টার নৌযাত্রা বা ছোট জাহাজে সফর করতে হবে। অর্থাৎ কলকাতা থেকে পৃথিবীর এই 'উল্টো প্রান্তে' পৌঁছতে বিমান, চার্টার ফ্লাইট এবং নৌকা—তিন ধরনের যাত্রার প্রস্তুতি রাখতে হবে। আর নিজের শহরের অ্যান্টিপোড জনবসতি অঞ্চলে শুধু যেতে খরচ হতে পারে আড়াই লক্ষ টাকার মতো।

অ্যান্টিপোডে বিয়ে

অ্যান্টিপোডের গল্প যে কখনও কখনও সত্যিই জীবনের গল্প হয়ে ওঠে, তার একটি মজার উদাহরণ রয়েছে। ২০১২ সালে নিউ জিল্যান্ডের অকল্যান্ডের এক ব্যক্তি কৌতূহলবশত নিজের শহরের ঠিক বিপরীত প্রান্তের অ্যান্টিপোড অঞ্চল দেখতে স্পেনের মালাগায় পাড়ি দেন। কিন্তু পর্যটনের সেই সফর যে তাঁর জীবনটাই বদলে দেবে, তা হয়তো তিনি নিজেও ভাবেননি। মালাগায় গিয়ে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে গড়ায় প্রেমে, আর শেষ পর্যন্ত তাঁরা বিয়ে করেন। পৃথিবীর দুই প্রান্তের দুই মানুষ এভাবেই এসে মিলিত হন এক সম্পর্কে। অ্যান্টিপোডের এই গল্প যেন প্রমাণ করে, মানচিত্রে যতই দূরত্ব থাক, মানুষের মধ্যে দূরত্ব সবসময় ততটা থাকে না।

অ্যান্টিপোড পর্যটন

পৃথিবীর ঠিক বিপরীত প্রান্তে দাঁড়ানোর কৌতূহল থেকেই ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে নতুন ধরনের পর্যটনের ধারণা, 'অ্যান্টিপোড ট্যুরিজম'। সাধারণ দর্শনীয় স্থান দেখার বদলে পর্যটকদের কাছে এখানে আকর্ষণ হল, পৃথিবীর গোলকের হিসাবে নিজের পরিচিত জায়গার ঠিক উল্টো দিকে পৌঁছে যাওয়া। অনেকেই অনলাইন অ্যান্টিপোড ম্যাপ ব্যবহার করে নিজের শহরের বিপরীত বিন্দু খুঁজে বের করেন, তারপর সেই অঞ্চলকে ভ্রমণের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেন।

তবে বাস্তবে অ্যান্টিপোডে পৌঁছনো সবসময় সহজ নয়। পৃথিবীর অধিকাংশ অ্যান্টিপোড সমুদ্রের মধ্যে পড়ে। ফলে স্থলভাগে থাকা অ্যান্টিপোড অঞ্চলে পৌঁছতেও অনেক সময় একাধিক বিমান, নৌপথ বা দুর্গম যাত্রার প্রয়োজন হয়। এই কারণেই অ্যান্টিপোড পর্যটন শুধু ভ্রমণ নয়, অনেকের কাছে হয়ে ওঠে এক অভিনব ভৌগোলিক অভিযান, নিজের চেনা পৃথিবীর ঠিক উল্টো প্রান্তকে চোখের সামনে দেখার অভিজ্ঞতা।

দুনিয়ার কিছু বিখ্যাত অ্যান্টিপোড অঞ্চল

স্পেনের মাদ্রিদ = নিউ জিল্যান্ডের ওয়েবার (মাদ্রিদের অ্যান্টিপোড নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপের কাছে।)

চিনের বেজিং = আর্জেন্টিনার প্যাটাগোনিয়া (বেজিংয়ের বিপরীত বিন্দু দক্ষিণ আমেরিকার স্থলভাগের কাছে।)

নিউ জিল্যান্ডের ওয়েলিংটন = স্পেনের কাছে (ওয়েলিংটনের অ্যান্টিপোড স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কাছাকাছি)।

চিলির সান্তিয়াগো = চিনের কাছাকাছি (সান্তিয়াগোর ঠিক বিপরীত প্রান্ত এশিয়ার দিকে।)

নিউ জিল্যান্ডের অকল্যান্ড = স্পেনের কাছে (অকল্যান্ডের অ্যান্টিপোড স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কাছাকাছি।)

আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ার্স = চিনের সাংহাই অঞ্চলের কাছে (দুই শহর পৃথিবীর প্রায় বিপরীত প্রান্তে অবস্থিত।)

ইকুয়েডরের কুইটো = ইন্দোনেশিয়ার কাছে (কুইটোর অ্যান্টিপোড ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপপুঞ্জের দিকে পড়ে।)

মজার তথ্য: পৃথিবীর বেশিরভাগ জায়গার অ্যান্টিপোড সমুদ্রের মধ্যে পড়ে। তাই একেবারে এক জায়গার ঠিক উল্টো দিকে আরেকটি শহর বা জনবসতি পাওয়া অত্যন্ত বিরল।

(বিশেষ কৃতজ্ঞতা: রশিকা সাউ, ভৌগোলিক বিশেষজ্ঞ। Samaritan Mission School (High)-এর ভুগোলের শিক্ষিকা। অ্যান্টিপোড বিষয়ক তথ্য ও ভূগোলভিত্তিক ইনপুটের জন্য।)

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

ভদকা মানেই হালকা নেশা? এই ভুল ধারণাই বিপদ ডাকছে! জানুন কোন মদে হ্যাংওভার সবচেয়ে বেশি
Yawning: ঘুম নয়, তবে অন্য কাউকে এমনটা করতে দেখলেও কেন হাই তুলি আমরা? লুকিয়ে আছে কোন রহস্য?