লিভার ক্যানসার চুপ করে আসে না! শরীরের এই ৫টা সিগন্যাল অবহেলা করলেই বিপদ

Published : Jun 23, 2026, 04:37 PM IST
liver cancer

সংক্ষিপ্ত

টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের ডাক্তাররা বলছেন, লিভার ক্যানসারের শুরুর দিকে ৭০% রোগীর কোনো ব্যথা থাকে না। তাই "সাইলেন্ট কিলার" বলা হয়। কিন্তু শরীর ৫টা উপায়ে সতর্ক করে। এই লক্ষণ ২ সপ্তাহের বেশি থাকলে USG + AFP টেস্ট মাস্ট।

পেটের ডান দিকে একটা ভার লাগছে। ভাবলে "গ্যাস হয়েছে"। খিদে কম, ২ কেজি ওজন কমেছে। ভাবলে "স্ট্রেস"। রাতে ঘুম আসে না, সারা গা চুলকায়। ভাবলে "অ্যালার্জি"। এই "ভাবা-ভাবি" করতে করতে ৬ মাস কেটে যায়। তারপর USG রিপোর্টে আসে "Liver Mass"। ডাক্তার বলেন "স্টেজ ৩"। লিভার ক্যানসার H.C এর সমস্যা এটাই। ও চিৎকার করে না। ফিসফিস করে সিগন্যাল দেয়। সেই ফিসফিসানি শুনতে পেলেই বাঁচার চান্স ৭০%।

শরীর যে ৫টা সিগন্যাল দেয়, সেটা মিস করো না:

প্রথম সিগন্যাল হলো ওজন কমা আর খিদে মরে যাওয়া। তুমি ডায়েট করছো না, জিম করছো না, তবুও মাসে ৩-৪ কেজি কমে যাচ্ছে। ভাত দেখলেই গা গুলোচ্ছে। লিভারে টিউমার হলে ওর মেটাবলিজম নষ্ট হয়। খাবার হজম হয় না, শরীর নিজেই নিজেকে খেতে থাকে। একে বলে "Cancer Cachexia"। ২ সপ্তাহের বেশি খিদে না থাকলে এটাকে নরমাল ভেবো না।

দ্বিতীয় সিগন্যাল পেটের ডান দিকে উপর দিকে চাপ বা ব্যথা। লিভার থাকে পাঁজরের নিচে ডান দিকে। টিউমার বড় হলে লিভার ফুলে যায়। তখন মনে হয় বেল্ট টাইট, বা কেউ চেপে ধরেছে। শুতে গেলে অস্বস্তি। অনেকে ভাবে মাসল পেইন। কিন্তু এই ব্যথা ২৪ ঘণ্টা থাকে, শুয়ে-বসে কমে না।

তৃতীয় সিগন্যাল হলো জন্ডিস ছাড়াই সারা গা চুলকানি। রাতে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে চুলকানিতে। চামড়া-চোখ হলুদ হয়নি। অনেকে ভাবে ড্রাই স্কিন। আসলে লিভার ঠিকমতো বাইল ফ্লুশ করতে পারছে না। বাইল অ্যাসিড রক্তে মিশে গিয়ে চামড়ার নার্ভকে জ্বালায়। এটা লিভার ক্যানসারের খুব আর্লি কিন্তু ইগনোর করা সিগন্যাল।

চতুর্থ সিগন্যাল পা ফুলে যাওয়া বা পেট ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়া। লিভার খারাপ হলে প্রোটিন "অ্যালবুমিন" বানাতে পারে না। প্রোটিন কমলে জল রক্তে থাকে না, টিস্যুতে জমে যায়। তাই পা, গোড়ালি ফুলে ঢোল। পেটে জল জমলে পেট ঢাকের মতো শক্ত হয়। প্যান্ট লুজ হয়ে যাচ্ছে অথচ পেট বড় লাগছে - এটা বিপদ সিগন্যাল।

পঞ্চম সিগন্যাল হলো অকারণ ক্লান্তি আর লো-গ্রেড জ্বর। সকালেও ঘুম থেকে উঠে মনে হয় "কাল রাত জেগেছি"। ৯-১০ ডিগ্রি জ্বর আসছে-যাচ্ছে, কিন্তু সর্দি-কাশি নেই। লিভার টিউমার শরীরে ইনফ্লেমেশন তৈরি করে। শরীর ২৪ ঘণ্টা যুদ্ধ করে, তাই তুমি ক্লান্ত।

কারা বেশি রিস্কে আছে? যাদের হেপাটাইটিস B বা C আছে, যাদের ফ্যাটি লিভার ১০ বছর ধরে, যারা রোজ মদ খায়, ডায়াবেটিস আছে, ওবেসিটি আছে। এই গ্রুপের লোক প্রতি ৬ মাসে একবার USG + AFP ব্লাড টেস্ট করাও। খরচ ১৫০ টাকা। দেরিতে ধরা পড়লে চিকিৎসার খরচ ১৫ লাখ।

কখন ডাক্তার দেখাবে? উপরের ৫টার মধ্যে ২টো লক্ষণ যদি টানা ২ সপ্তাহ থাকে, আর প্যারাসিটামল-গ্যাসের ওষুধে না কমে, তাহলে কালকেই ডাক্তার দেখাও। USG পেট + AFP টেস্ট করাও। ১৫ মিনিটের টেস্ট, জীবন বাঁচাতে পারে।

শেষ কথা: লিভার ক্যানসার ভয়ের রোগ, কিন্তু "সাইলেন্ট" রোগ না। ও ডাকে। আমরা শুনি না। স্টেজ ১-এ ধরা পড়লে অপারেশন, রেডিওফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে ৭০% লোক ৫ বছর সুস্থ থাকে। স্টেজ ৪-এ গেলে কেমোতেও কাজ হয় না। তাই "গ্যাসের ওষুধ খেয়ে নিচ্ছি" বলে ৩ মাস চালিও না। শরীরের কথা শোনো।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Diabetic Diet: ডায়াবেটিস থাকলে পাতে রাখুন, ফাইবার ঠাসা এই ৫ খাবার, জানুন এক ঝলকে
হাইপারটেনশনের এই ৭টি লক্ষণ ভুলেও অবহেলা করবেন না, হতে পারে বিপদ