কলকাতার ১৫০ কিমি দূরে স্বর্গ! বর্ষায় দোলাডাঙ্গা - সোনাঝুরি , লেক সঙ্গে পাহাড়, এক প্যাকেজে সবটা

Published : Jun 23, 2026, 01:56 PM IST
FareArena Reveals the Most Popular Travel Destinations Worldwide

সংক্ষিপ্ত

বাঁকুড়ার দোলাডাঙ্গা কলকাতা থেকে ১৫০ কিমি, ৩-৩.৫ ঘণ্টা ড্রাইভ। বর্ষায় পুরো এলাকা সবুজ গালিচা। মূল আকর্ষণ: ঘন শাল-সেগুনের জঙ্গল, লালমাটির পথ, পায়ে হাঁটা ট্রেইল, আর মাঝখানে দোলাডাঙ্গা লেক। 

শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাটে ভিড় আর পার্কিংয়ের ঝামেলা? বাদ দাও। বাঁকুড়ার জয়পুর জঙ্গল পেরিয়ে আরও ৩০ কিমি গেলেই দোলাডাঙ্গা। জায়গাটা এখনও "টুরিস্ট ম্যাপে" ওঠেনি। মানে ভিড় নেই, ইনস্টা-ভিড় নেই, শুধু তুমি আর জঙ্গল।

বর্ষায় দোলাডাঙ্গা কেন ম্যাজিক?

১. সোনাঝুরির ছোট ভাই - লালমাটির জঙ্গল এখানেও লালমাটি, এখানেও শাল-মহুয়া-সেগুনের জঙ্গল। ফারাক একটাই - এখানে টোটো-ভ্যানের লাইন নেই। বর্ষার জলে লালমাটি কাদা-কাদা হয়ে যায়। খালি পায়ে হাঁটলে মনে হবে প্রকৃতি পা টিপে দিচ্ছে। জঙ্গলের ভেতর দিয়ে সরু রাস্তা - দু'পাশে বাঁশঝাড় মাথা নুইয়ে আছে। ফোনের ক্যামেরা বন্ধ করতে পারবে না।

২. জঙ্গলের মাঝখানে লেক - দোলাডাঙ্গা লেক জঙ্গল হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ সামনে টলটলে নীল জল। এটা দোলাডাঙ্গা লেক। বর্ষায় লেক ভর্তি, চারপাশে কাশফুল আর বুনো ফুল। লেকের পাড়ে বসে চা খাও, মাছরাঙা মাছ ধরছে দেখো। বোটিং নেই, কোলাহল নেই। শুধু জলের শব্দ আর পাখির ডাক। সন্ধ্যায় লেকের জলে আকাশের প্রতিবিম্ব - ছবি তুলতে ভুলবে না।

৩. পাহাড় না, কিন্তু টিলা আছে দোলাডাঙ্গা মানে "দোল খাওয়া ডাঙা"। ছোট ছোট টিলা আছে চারপাশে। ভোর ৫টায় টিলার মাথায় উঠে যাও। নিচে কুয়াশায় ঢাকা জঙ্গল, দূরে বাঁকুড়ার টিলা। সূর্য উঠছে, লাল আলোয় লালমাটি আগুন। এ ভিউয়ের জন্য দার্জিলিং যেতে হবে না।

৪. আদিবাসী গ্রাম + কালচার জঙ্গলের পাশেই সাঁওতাল গ্রাম। বর্ষায় ওদের "বাহা পরব" হয়। ঢোল-মাদল বাজে। হোমস্টেতে থাকলে ওদের হাতের রান্না পাবে - দেশি মুরগির ঝোল, পোস্ত বাটা, হাঁসের ডিম ভুজিয়া। আর রাতে জঙ্গলের পাশে বসে গল্প - কারেন্ট চলে গেলেও মোমবাতির আলোয় আড্ডা জমবে।

কীভাবে যাবে কলকাতা থেকে? 

রোড: কলকাতা > ডানকুনি > আরামবাগ > কোতুলপুর > জয়পুর জঙ্গল > দোলাডাঙ্গা। ১৫০ কিমি, ৩-৩.৫ ঘণ্টা। রাস্তা দারুণ। ট্রেন: হাওড়া থেকে বাঁকুড়া লোকাল ধরে বাঁকুড়া স্টেশন। ওখান থেকে অটো/টোটো ৪৫ মিনিট। টিপ: নিজের গাড়ি থাকলে বেস্ট। জঙ্গলের ভেতর ঘুরতে সুবিধা।

কোথায় থাকবে? বাজেট প্ল্যান ১. ইকো রিসোর্ট: দোলাডাঙ্গা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার। মাটির কটেজ, সামনে লেক। ১২০০-১৮০০ টাকা/রাত। ২. হোমস্টে: আদিবাসী গ্রামের বাড়িতে থাকো। ৮০-১০০ টাকা/রাত, খাওয়া সহ। আসল আদিবাসী এক্সপেরিয়েন্স। বুকিং: WBFDC সাইট বা সরাসরি ফোন। বর্ষায় ভিড় কম, স্পট বুকিং হয়ে যায়।

বর্ষায় যাওয়ার আগে ৩টে সাবধান: ১. জোঁক আছে: লম্বা মোজা + নুন-হলুদ প্যাকেট রাখো। জোঁক ধরলে নুন দিলেই ছেড়ে দেবে। ২. জল-কাদা: ভালো গ্রিপের জুতো পরো। স্লিপার বাদ। ৩. নেটওয়ার্ক: Jio মোটামুটি চলে, Airtel টাওয়ার কম। অফলাইন ম্যাপ ডাউনলোড করে নাও।

১ রাত ২ দিনের প্ল্যান: দিন ১: কলকাতা থেকে সকাল ৭টায় বেরোও। ১১টায় দোলাডাঙ্গা। চেক-ইন করে লেকের পাড়ে লাঞ্চ। বিকেলে জঙ্গল ট্রেক + আদিবাসী গ্রাম। রাতে মাটির কটেজে দেশি মুরগি। দিন ২: ভোরে টিলায় সূর্যোদয়। ব্রেকফাস্ট করে লেকের ধারে বসে আড্ডা। ১২টায় চেক-আউট। ফেরার পথে জয়পুর জঙ্গল ঘুরে আসো।

খরচ কত? ২ জন গেলে ট্রেন+হোমস্টে+খাওয়া = ৩০০০-৩৫০০ টাকা টোটাল। গাড়ি নিয়ে গেলে খরচ কম। দার্জিলিং-এর ১ দিনের খরচে ২ দিন শান্তি।

শেষ কথা: বর্ষায় কলকাতার লোকে দীঘা-মন্দারমনি ছোটে। তুমি ভিড় এড়িয়ে দোলাডাঙ্গা যাও। সোনাঝুরির রূপ এখানে, কিন্তু সেলফি-লাইন নেই। জঙ্গল, লেক, লালমাটি - প্রকৃতি পুরোটা তোমার।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

বর্ষার চা সঙ্গে প্যাকেট বিস্কুট একটু বোরিং! তাহলে বাড়িতেই বানিয়ে নিন এই ৫টা ১০ মিনিটের স্ন্যাকস
Depression: ডিপ্রেশনের এই ৭টি লক্ষণ ভুলেও এড়িয়ে যাবেন না