Food Tips: আমের বোঁটা কেটে জলে ভেজানোর সিক্রেট! কেন ঠাকুমার এই টোটকা না মানলে আম খেয়ে পেট খারাপ-গলা জ্বালা হবেই

Published : Jun 02, 2026, 07:25 PM IST
Mango utsav bengaluru

সংক্ষিপ্ত

বাজার থেকে আম এনেই কামড়? দাঁড়ান। মা ঠাকুমা সবসময় বলত, ‘বোঁটা কেটে বালতির জলে ডুবিয়ে রাখ, ২ ঘণ্টা’। এটা শুধু ঠান্ডা করার জন্য না। আমের বোঁটার কাছে থাকে ‘কষ’ বা ল্যাটেক্স, আর পুরো আমের গায়ে থাকে ‘ফাইটিক অ্যাসিড’। এই দুটোই ভিলেন। কষ লাগলে ঠোঁট-মুখ চুলকায়, গলা জ্বলে, কারও কারও ব্রণ বেরোয়। 

Food Tips: গরমকাল মানেই আম। হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি দেখলেই জিভে জল। কিন্তু আম খেয়েই অনেকে বলে—‘উফ, শরীর গরম হয়ে গেল’, ‘মুখে ব্রণ বেরোল’, ‘পায়খানা কষা’। দোষটা আমের না, খাওয়ার পদ্ধতির। আমাদের মা-ঠাকুমারা বিজ্ঞান না জেনেও জানতেন কীভাবে আমের ‘গরম’ কাটাতে হয়। সেই জন্যই বোঁটা কেটে জলে ডোবানোর নিয়ম। চলুন, এই টোটকার পিছনের সায়েন্সটা জেনে নিই।

কষা বা ল্যাটেক্স বের করা – অ্যালার্জি আর জ্বালা বন্ধ :

আম পাড়ার পর বোঁটার কাছে সাদা আঠালো কষ থাকে। এটাকে বলে ‘ম্যাঙ্গো ল্যাটেক্স’। এর মধ্যে থাকে ‘ইউরুশিওল’ নামের কেমিক্যাল। পয়জন আইভিতেও একই জিনিস থাকে।

কী ক্ষতি করে: এই কষ স্কিনে লাগলে চুলকানি, র‍্যাশ, ঠোঁট ফুলে যাওয়া হয়। একে বলে ‘ম্যাঙ্গো মাউথ’। গলায় গেলে জ্বালা, পেটে গেলে ডায়েরিয়া।

জলে ভেজালে কী হয়: বোঁটা কেটে উল্টো করে জলে ডুবিয়ে রাখলে সব কষ আস্তে আস্তে জলে বেরিয়ে যায়। ১-২ ঘণ্টায় আম ‘কষ-ফ্রি’ হয়ে যায়। তখন নিশ্চিন্তে খান, মুখ জ্বলবে না।

ফাইটিক অ্যাসিড কমানো – শরীর ঠান্ডা রাখা:

আমের খোসায় ও শাঁসে ‘ফাইটিক অ্যাসিড’ থাকে। এটা অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্ট। শরীরের জরুরি মিনারেল—আয়রন, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম—শুষে নেয়।

কী ক্ষতি করে: আয়ুর্বেদে আমকে ‘উষ্ণ’ ফল বলে। ফাইটিক অ্যাসিড বডির হিট বাড়ায়। তাই বেশি আম খেলে পেট গরম, কোষ্ঠকাঠিন্য, নাক দিয়ে রক্ত, ব্রণ, মাথাধরা হয়।

জলে ভেজালে কী হয়: জলে ২-৩ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে ফাইটিক অ্যাসিডের ৩০-৫০% ধুয়ে বেরিয়ে যায়। আম ‘তাসির’ এ ঠান্ডা হয়ে যায়। তখন ২-৩টে খেলেও শরীর গরম হয় না।

পেস্টিসাইড ও ধুলো পরিষ্কার:

গাছে থাকার সময় আমে কীটনাশক, ফাঙ্গিসাইড স্প্রে করা হয়। বাজারে ধুলো, মাছি বসে।

জলে ভেজালে কী হয়: ২ ঘণ্টা জলে ডুবিয়ে রাখলে খোসার উপরের ৯০% পেস্টিসাইড ও ময়লা আলগা হয়ে যায়। তারপর ভালো করে ধুয়ে নিলে আম অনেক সেফ। শুধু মুছে নিলে এই ময়লা পেটে যায়।

আম ঠান্ডা করা ও মিষ্টি বাড়ানো:

গরমে গাছ থেকে পাড়া আমের টেম্পারেচার ৩৫-৪০°C থাকে। গরম আম খেলে শরীর আরও গরম লাগে।

জলে ভেজালে কী হয়: নরমাল জল বা ঠান্ডা জলে ভেজালে আমের ভিতরের তাপমাত্রা কমে। খেতে আরাম লাগে। অনেকে বলে, ভেজানোর পর আম নাকি আরও মিষ্টি লাগে। কারণ কষের হালকা তেতো ভাবটা চলে যায়।

[কীভাবে ভেজাবেন]

এক, আম বাজার থেকে এনে প্রথমে একবার ধুয়ে নিন।

দুই, বোঁটাটা ছুরি দিয়ে কেটে ফেলুন। কাটা দিকটা নিচের দিকে করে বড় গামলা বা বালতির জলে ডুবিয়ে দিন।

তিন, নরমাল কলের জল দিন। ফ্রিজের বরফ জল না। বেশি ঠান্ডা হলে টেস্ট নষ্ট হয়।

চার, মিনিমাম ১ ঘণ্টা, বেস্ট ২-৩ ঘণ্টা ভেজান। ৪-৫ ঘণ্টার বেশি না, পচে যেতে পারে।

পাঁচ, জল থেকে তুলে আবার একবার ধুয়ে মুছে নিন। এবার কেটে খান।

ছয়, কাঁচা আম আচারের জন্য হলে ৬-৮ ঘণ্টাও ভেজাতে পারেন। কষ পুরো চলে যাবে।

তাই নেক্সট টাইম আম আনলে লোভ সামলান। বোঁটা কেটে জলে ডুবিয়ে দিন। এই ২ ঘণ্টা অপেক্ষা আপনাকে পেট খারাপ, মুখের ব্রণ, গলার জ্বালা থেকে বাঁচাবে। ঠাকুমার টোটকা + মডার্ন সায়েন্স—দুটোই বলছে, এই পদ্ধতি ১০০% কাজের।

ডিসক্লেইমার: ডায়াবেটিস রোগীরা দিনে ১টা ছোট আমের বেশি খাবেন না। আমে ন্যাচারাল সুগার বেশি। কিডনির রোগ থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খান। অতিরিক্ত আম খেলে ওজন বাড়তে পারে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Blood Sugar Prevent Tips: বিকেল ৫টার পর কোন কোন খাবার খেলে ব্লাড সুগার থাকবে নিয়ন্ত্রণে? জানুন এক ক্লিকে
রিং ফিঙ্গার না মিডল ফিঙ্গার? আঙুল দিয়ে সিঁদুর পরার নিয়ম জানলে দাম্পত্য হবে সুখের, বলছে শাস্ত্র