
Health News: ‘Hustle Culture’ দেখে জেন জি ক্লান্ত। সারাদিন Zoom কল, ডেডলাইন, নোটিফিকেশন। ব্রেন ওভারলোডেড। তাই ওরা আনছে ‘মাইক্রো ডিটাচমেন্ট’। এটা মেডিটেশন না, থেরাপিও না। এটা হল কাজের মাঝে নিজেকে ‘লগ আউট’ করা। ফোন সুইচ অফ না করেও মেন্টালি অফলাইন হওয়া।
১. সাইকোলজিক্যাল ডিটাচমেন্টের বাচ্চা ভার্সন: সাইকোলজিতে একটা টার্ম আছে ‘Psychological Detachment’। মানে অফিসের পর কাজের চিন্তা পুরো ভুলে যাওয়া। জেন জি সেটাই দিনের মধ্যে ৫ মিনিট করে ভেঙে নিচ্ছে। কারণ ওরা জানে, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওয়েট করলে ব্রেন ফ্রাই হয়ে যাবে।
২. ‘ফাঁকি’ না, ‘রিচার্জ’: এটা YouTube স্ক্রল করা না। এটা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো টাস্ক, স্ক্রিন, মানুষ থেকে ৫ মিনিটের জন্য সরে আসা। গোল হল নার্ভাস সিস্টেমকে ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ মোড থেকে ‘রেস্ট-অ্যান্ড-ডাইজেস্ট’ মোডে আনা।
৩. ৯০ মিনিটের রুল: স্ট্যানফোর্ডের নিউরোসায়েন্টিস্ট অ্যান্ড্রু হুবারম্যান বলেন, ব্রেন ৯০ মিনিটের Ultradian Rhythm-এ চলে। ৯০ মিনিট ফোকাস, তারপর ১০-২০ মিনিট রিকভারি লাগবেই। না নিলে কর্টিসল বাড়বে, পারফরম্যান্স পড়বে।
স্ট্রেস কমায় কীভাবে? সায়েন্সটা কী
১. কর্টিসল রিসেট: টানা কাজ করলে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল বাড়তে থাকে। ৫ মিনিটের ডিটাচমেন্টে চোখ বন্ধ করে শ্বাস নিলে প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম অ্যাক্টিভ হয়। হার্টরেট কমে, কর্টিসল ড্রপ করে। রিসার্চ বলছে ৬ মিনিটের ব্রেক স্ট্রেস ৬৮% কমাতে পারে।
২. অ্যাটেনশন রিস্টোরেশন: একে বলে ‘Attention Restoration Theory’। ব্রেনের ফোকাস করার ‘মাসল’ ক্লান্ত হয়। জানলা দিয়ে গাছ দেখা, আকাশ দেখা হল ‘Soft Fascination’। এতে ব্রেনকে জোর করতে হয় না। ফলে অ্যাটেনশন মাসল রেস্ট পায়।
৩. রুমিনেশন ব্রেক: স্ট্রেসের বড় কারণ ‘রুমিনেশন’ মানে একই চিন্তা বারবার চিবানো। ‘ক্লায়েন্ট কী বলবে, বস বকবে’। মাইক্রো ডিটাচমেন্ট এই লুপটা ভেঙে দেয়। ব্রেনকে বলে ‘ভাই, ৫ মিনিট অন্য কিছু ভাব’।
অফিসে বসে কীভাবে করবে? ৫টা জেন জি হ্যাক
১. ৯০/৫ রুল: ৯০ মিনিট কাজ, ৫ মিনিট ডিটাচ। ফোনে টাইমার সেট করো। ৫ মিনিটে কোনো স্ক্রিন না। শুধু জানলা দিয়ে বাইরে তাকাও। গাছ, পাখি, মানুষ দেখো।
২. ‘ডেস্ক ডুডল’: মিটিং-এর ফাঁকে বা কল ওয়েটিং-এ খাতায় আঁকিবুঁকি কাটো। গোল, লাইন, ফুল। হাত চলবে, ব্রেন ভাববে না। এটা স্ট্রেস বলের মতো কাজ করে।
৩. ‘সেন্সরি রিসেট’: চোখ বন্ধ করে ৩টে গভীর শ্বাস নাও। তারপর ৩টে জিনিস শোনো যেগুলো শুনতে পাচ্ছো। AC-র শব্দ, কিবোর্ড, পাখি। তারপর ৩টে জিনিস ছোঁও। টেবিল, চেয়ার, নিজের হাত। গ্রাউন্ডিং টেকনিক। ২ মিনিটে অ্যাংজাইটি কমে।
৪. ‘টয়লেট ব্রেক’ হ্যাক: ওয়াশরুম যাওয়ার সময় ফোন নিও না। আয়নার সামনে ৩০ সেকেন্ড নিজের চোখের দিকে তাকাও। মুখে জল দাও। এটা ফিজিক্যাল + মেন্টাল রিসেট।
৫. ১ গানের রুল: হেডফোনে শুধু ১টা গান চালাও। লিরিক্স ছাড়া, লো-ফাই বা ইনস্ট্রুমেন্টাল। গান শেষ, ব্রেক শেষ। কাজে ফেরো।
এটা ‘Quiet Quitting’ নয় তো?
না। Quiet Quitting মানে কাজের প্রতি ডেডিকেশন কমানো। মাইক্রো ডিটাচমেন্ট মানে কাজটা বেটার করার জন্য ব্রেনকে রেস্ট দেওয়া। অ্যাথলিটরা যেমন সেটের মাঝে ৩০ সেকেন্ড রেস্ট নেয়, এটাও সেরকম। রেস্ট নিলে পরের সেটে বেশি ওয়েট তোলা যায়। এখানেও সেম। ৫ মিনিট ব্রেক নিলে পরের ১ ঘণ্টা প্রোডাক্টিভিটি ৪০% বাড়ে।
তাই জেন জি বুঝে গেছে, বার্নআউট ব্যাজ অফ অনার না। রেস্ট ইজ প্রোডাক্টিভ। তুমি যদি দিনে ৮ ঘণ্টা ল্যাপটপে মুখ গুঁজে থাকো, আজ থেকে ৯০/৫ রুল ট্রাই করো।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News