
Health News: বর্ষা এলেই অফিসের পরিবেশটা কেমন বদলে যায়। জানলা বন্ধ, AC চলছে ফুল স্পিডে। তার মধ্যেই এক কোণ থেকে ভেসে আসছে হাঁচি-কাশির আওয়াজ। আজ একজনের জ্বর, কাল দেখবেন গোটা টিম ছুটিতে। চিকিৎসকরা বলছেন এটা কাকতালীয় নয়। বর্ষায় বন্ধ ঘর, ভিড় আর ভেজা পরিবেশের কারণে অফিসই হয়ে উঠছে সংক্রমণের সবচেয়ে বড় ‘হটস্পট’।
বর্ষায় গরম আর বৃষ্টির জন্য আমরা জানলা বন্ধ করে দিই। ফলে ঘরের বাতাস বাইরে বের হতে পারে না। একজনের হাঁচি-কাশির ড্রপলেট ঘরের মধ্যেই ঘুরপাক খায়। এর সাথে যোগ হয় লিফটের বোতাম, অফিসের মেইন গেটের হাতল, প্যান্ট্রির ফ্রিজের হাতল, মাইক্রোওভেনের সুইচ, প্রিন্টারের বোতাম। দিনে শত শত মানুষ এগুলো ছোঁয়। তারপর সেই হাত দিয়েই আমরা চোখ মুখে হাত দিই। ব্যস, জীবাণু শরীরে। সাথে ভেজা ছাতা, ভেজা জুতো থেকে ঘরে জন্মায় ফাঙ্গাস। বসার জায়গাও স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যায়।
এই ৫টা জায়গা সবচেয়ে বিপজ্জনক:
প্রথমেই আসে লিফট আর দরজার হাতল। এখানে জীবাণুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় বিপদজনক জায়গা হল প্যান্ট্রি। চায়ের কাপ, জলের বোতল, ফ্রিজের হাতল কেউ পরিষ্কার করে না। তৃতীয়ত, আপনার নিজের ডেস্ক, কিবোর্ড, মাউস আর ল্যান্ডলাইন ফোন। এগুলো আমরা সারাদিন ছুঁই কিন্তু মাসে একবারও মোছা হয় না। চতুর্থ হল অফিসের টয়লেট।কলের মুখ, ফ্ল্যাশের বোতাম, দরজার ছিটকিনি সবই ইনফেকশনের আখড়া। আর পঞ্চম হল AC-র ভেন্ট। মাসের পর মাস ফিল্টার না পরিষ্কার করলে সেখান থেকে ধুলো আর ব্যাকটেরিয়া বেরিয়ে অ্যালার্জি, অ্যাজমা আর সাইনাস বাড়ায়।
সবচেয়ে জরুরি হল হাতের পরিচ্ছন্নতা। অফিসে ঢুকে, খাওয়ার আগে, টয়লেটের পর সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধুতেই হবে। ব্যাগে ছোট স্যানিটাইজার রাখুন। দ্বিতীয় কাজ, নিজের ডেস্ক পরিষ্কার রাখুন। সপ্তাহে দুইবার জীবাণুনাশক ওয়াইপ দিয়ে কিবোর্ড, মাউস, ফোন মুছুন। তৃতীয়ত, ইমিউনিটি বাড়ান। বর্ষায় জল কম খেলে শরীর দুর্বল হয়। তাই দিনে ৮-১০ গ্লাস জল, সাথে কমলা, আমলকি, পেয়ারার মতো ভিটামিন C যুক্ত ফল খান। চতুর্থত, ভেজা পোশাকে বসবেন না। অফিসে এক জোড়া এক্সট্রা মোজা আর জুতো রাখুন। ভিজে গেলে পাল্টে নিন। আর সবশেষে, শরীর খারাপ লাগলে জোর করে অফিসে যাবেন না। WFH করুন। আপনার এক দিনের ছুটি বাঁচাতে পারে গোটা টিমকে।
শুধু কর্মীরা সাবধান হলেই হবে না। HR আর অ্যাডমিনকেও উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতি মাসে AC-র ফিল্টার পরিষ্কার করাতে হবে। লিফট, টয়লেট, প্যান্ট্রির মতো কমন জায়গা রোজ জীবাণুমুক্ত করতে হবে। সব জায়গায় হ্যান্ডওয়াশ আর স্যানিটাইজার রাখতে হবে। সম্ভব হলে বর্ষার ২-৩ মাস হাইব্রিড বা রোটেশনাল ওয়ার্ক চালু করা যায়। এতে ভিড়ও কমবে, সংক্রমণও।
বর্ষা মানেই কফি আর বৃষ্টির মজা। কিন্তু অফিসে গিয়ে অসুস্থ হয়ে সেই মজা মাটি করবেন না। অফিস এখন আর শুধু কাজের জায়গা নয়, বর্ষায় এটা সংক্রমণেরও বড় জায়গা। একটু সচেতনতা, একটু পরিচ্ছন্নতাই আপনাকে আর আপনার টিমকে রাখবে সুস্থ।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News