
কারো সাথে 10 মিনিট কথা বলার পর হঠাৎ ক্লান্ত লাগে? মন খারাপ হয়ে যায়? নিজের উপর ডাউট আসে? হয়তো তার নেগেটিভ এনার্জি তোমাকে খেয়ে ফেলছে। আমরা ভাবি ভূত-প্রেত মানেই নেগেটিভ এনার্জি। আসল ভূত হল কিছু মানুষের কথাবার্তা, ভাইব, আর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। অফিস, বন্ধুমহল, এমনকি পরিবারেও এমন লোক থাকে। চিনবে কী করে? আর বাঁচবেই বা কীভাবে? 5টা সাইন আর সলিউশন জানুন বিস্তারিত।
নেগেটিভ এনার্জি মানে কী? ভূত না মানুষের ভাইব: ফিজিক্স বলে, এনার্জি ট্রান্সফার হয়। হিট যেমন গরম বস্তু থেকে ঠান্ডায় যায়, ইমোশনও সেম। কারো ব্রেনে যখন স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল হাই থাকে, সে কথা বললেই তোমার ব্রেনও কর্টিসল রিলিজ করা শুরু করে। একে বলে ‘ইমোশনাল কন্টাজিয়ন’। তাই অফিসের সেই কলিগ যে সারাদিন বসের গুষ্টি উদ্ধার করে, তার সাথে লাঞ্চ করার পর তোমারও মনে হবে ‘ধুর চাকরিটাই বাজে’। এটাই নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সফার। এদের বলে এনার্জি ভ্যাম্পায়ার। এরা ইচ্ছা করে করে না, এদের নিজের লাইফে এত পেইন যে সেটা ছড়িয়ে হালকা হতে চায়। সমস্যা হল, তুমি হালকা না হয়ে ভারী হয়ে যাও।
দ্বিতীয় সাইন: মেন্টাল ফগ। কথা বলার পর নিজের গোল, নিজের প্ল্যান সব মিনিংলেস লাগবে। ‘আমাকে দিয়ে হবে না’, ‘আমি লাকি না’ — এই থটগুলো হঠাৎ মাথায় আসবে। অথচ 10 মিনিট আগে তুমি মোটিভেটেড ছিলে। তার মানে ওর সেলফ-ডাউট তোমার মাথায় ঢুকে গেছে।
তৃতীয় সাইন: ড্রামা আর কমপ্লেন। নেগেটিভ মানুষের টপিক ঘুরেফিরে 3টা — তার প্রবলেম, অন্যের দোষ, আর দুনিয়া কত খারাপ। কোনো সলিউশন চায় না, শুধু তোমাকে ডাস্টবিন বানিয়ে নেগেটিভিটি ঢালতে চায়। খেয়াল করো, তুমি সলিউশন দিলে সে রেগে যাবে।
চতুর্থ সাইন: গিল্ট ট্রিপ। তুমি না বললেই বলবে ‘তুই পাল্টে গেছিস’, ‘আমার জন্য তোর টাইম নেই’। তোমাকে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করে ওর পাশে বসিয়ে রাখবে যাতে ওর এনার্জি খেতে পারে।
পঞ্চম সাইন: তোমার উইন-এ জেলাসি। তুমি ভালো কিছু শেয়ার করলে সে খুশি হবে না। বলবে ‘লাক ভালো’, ‘তেল মেরে পেয়েছিস’, বা টপিক ঘুরিয়ে দেবে। পজিটিভ মানুষ তোমার সাকসেস সেলিব্রেট করে। নেগেটিভ মানুষ কম্পিটিশন ভাবে।
বাউন্ডারি, ডিটক্স, রিচার্জ প্রথম উপায়: বাউন্ডারি সেট করো। সব কথা শুনতে হবে না। ভদ্রভাবে বলো ‘দোস্ত, 5 মিনিট কমপ্লেন শুনলাম। এখন সলিউশন নিয়ে ভাবি? নাহলে টপিক চেঞ্জ করি’। ফোনে হলে ‘পরে কথা বলছি’ বলে কেটে দাও। এদেরকে 24x7 অ্যাভেলেবল থাকা বন্ধ করো। গিল্টি ফিল করো না। নিজের মেন্টাল হেলথ ফার্স্ট।
দ্বিতীয় উপায়: এনার্জি ডিটক্স। নেগেটিভ কারো সাথে দেখা করার পর সাথে সাথে হাত-মুখ ধুয়ে নাও। পারলে স্নান। জল নেগেটিভ এনার্জি টানে। 5 মিনিট ছাদে বা বারান্দায় গিয়ে জোরে শ্বাস নাও। নাক দিয়ে 4 সেকেন্ড শ্বাস নাও, 7 সেকেন্ড ধরে রাখো, 8 সেকেন্ডে মুখ দিয়ে ছাড়ো। 3 বার করো। ব্রেন থেকে কর্টিসল ফ্লাশ হয়ে যাবে।
তৃতীয় উপায়: রিচার্জ করো। নেগেটিভ মানুষের সাথে 1 ঘণ্টা কাটালে পজিটিভ কাজে 2 ঘণ্টা দাও। পছন্দের গান, বই, মেডিটেশন, জিম, গাছে জল দেওয়া — যা তোমাকে শান্তি দেয়। বাড়িতে সন্ধ্যায় সন্ধ্যা মালতি, কপূর বা ধূপ জ্বালাও। স্মেল ব্রেনের মুড সেন্টার চেঞ্জ করে দেয়। আর সবচেয়ে বড় অস্ত্র — ‘না’ বলতে শেখো। ‘না’ হল কমপ্লিট সেন্টেন্স।
সবাইকে কাট করা যায় না, তখন কী করবে? গ্রে রক মেথড অফিসের বস, শাশুড়ি, বা ব্লাড রিলেটিভকে তো ব্লক করা যায় না। তখন ইউজ করো ‘গ্রে রক মেথড’। নিজেকে একটা বোরিং, ইমোশনলেস পাথর বানিয়ে ফেলো। সে ড্রামা করলে তুমি ‘হুম’, ‘আচ্ছা’, ‘ওকে’ বলে রিয়্যাকশন দেবে না। ডিটেইল শেয়ার করবে না। এনার্জি ভ্যাম্পায়ার রিয়্যাকশন খায়। তুমি রিয়্যাকশন না দিলে সে বোর হয়ে অন্য টার্গেট খুঁজবে। আর নিজের উইন, প্ল্যান, সিক্রেট এদেরকে কখনো বলবে না। ‘লো লাইফ’ মেইনটেইন করো। যত কম জানবে, তত কম জেলাস হবে।
মনে রেখো, তুমি কারো ডাস্টবিন না। তোমার এনার্জি তোমার সবচেয়ে দামি অ্যাসেট। টাকা গেলে কামানো যায়, এনার্জি গেলে ডিপ্রেশন আসে। তাই আজ থেকে মানুষ চিনে মেশো। যে তোমাকে দেখে হাসে, তোমার গ্রোথ চায়, তার পাশে থাকো। আর যে তোমাকে দেখে নিভে যাও, তাকে দূরে রাখো।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News