
Travel Tips: জুলাই মাস পড়লেই বাঙালির বেড়ানোর প্ল্যানে জল ঢেলে দেয় বর্ষা। দার্জিলিং থেকে গোয়া, সব জায়গায় তখন শুধু বৃষ্টি আর ধসের খবর। কিন্তু আবহাওয়া দপ্তরের ম্যাপ বলছে, ভারতের কিছু অংশে জুলাই মাসেও মেঘের ছিটেফোঁটা পড়ে না। এগুলোকে বলে ‘রেইন শ্যাডো জোন’। পাহাড় বা মালভূমি বৃষ্টির মেঘকে আটকে দেয়, ফলে উল্টো দিকটা শুকনোই থেকে যায়। পরিবার নিয়ে বা বন্ধুদের সাথে নিশ্চিন্তে ঘুরতে চাইলে জুলাই মাসে এই ৬টা জায়গা আপনার জন্য পারফেক্ট।
প্রথমেই বলি রাজস্থানের কথা। জয়সলমের আর বিকানের। জুলাই মাসে গোটা দেশ যখন জলে ভাসছে, তখন থর মরুভূমি থাকে একদম খটখটে। দিনের বেলা তাপমাত্রা ৩৮-৪০ ডিগ্রি হলেও আদ্রতা নেই বলে কষ্ট কম। আর বিকেলের পর মরুভূমির হাওয়া দিলে দারুণ আরাম। সোনার কেল্লা, স্যাম ডিউন্সে উট সাফারি, রাতে মরুভূমির মাঝে টেন্টে থাকা আর লোকগান শোনা - বৃষ্টির ভয় ছাড়াই পুরো এক্সপেরিয়েন্স পাবেন। জুলাই অফ-সিজন বলে ফাইভ স্টার টেন্টও হাফ দামে পেয়ে যাবেন।
দ্বিতীয় নামটা হল লাদাখ। শ্রীনগর বা মানালি হয়ে লাদাখ ঢোকার রাস্তা জুলাই মাসে সবচেয়ে সুন্দর থাকে। হিমালয় পেরিয়ে আসা মেঘ লাদাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না, তাই লেহ, নুব্রা ভ্যালি, প্যাংগং লেকের আকাশ থাকে ঘন নীল। দিনের বেলা টি-শার্ট পরে ঘোরা যায়, ঠান্ডাও গায়ে লাগে না। এই সময় প্যাংগং লেকের জল একদম নীল থাকে, ছবি তুললে পোস্টকার্ডের মতো লাগে। খারদুংলা পাসও বরফমুক্ত থাকে, বাইক ট্রিপের জন্য এটাই বেস্ট সময়।
তিন নম্বরে রাখুন হিমাচলের স্পিতি ভ্যালি ও লাহুল। সিমলা-মানালিতে যখন ধস নামছে, তখন কুঞ্জুম পাস পেরোলেই অন্য জগৎ। কাজা, টাবো, কি মনাস্ট্রি, চন্দ্রতাল লেক - সব জায়গা জুলাইতে শুকনো আর পরিষ্কার। স্পিতির রুক্ষ পাহাড়ের যে আসল রং, সেটা এই সময়েই বোঝা যায়। রাস্তা খোলা থাকে, আপেল বাগানে ফল ধরতে শুরু করে। বৃষ্টি নেই বলে ফটোগ্রাফির জন্য আদর্শ।
চার নম্বর ডেস্টিনেশন হল গুজরাটের কচ্ছের রান। সাদা নুনের মরুভূমি দেখার আসল সময় কিন্তু শীতকাল নয়, বর্ষাকাল। কারণ জুন মাসে বৃষ্টির জল সরে গিয়ে জুলাইতে রান একদম শুকিয়ে ধবধবে সাদা হয়ে যায়। দিগন্ত বিস্তৃত সাদা জমি, উপরে নীল আকাশ - এই দৃশ্য দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যাবে। ভুজ থেকে গাড়ি নিয়ে একদিনেই ঘুরে আসা যায়। পর্যটক প্রায় থাকে না, তাই নিরিবিলিতে ছবি তুলতে পারবেন।
পাঁচে আছে হিমাচলের কিন্নর কৈলাশ রেঞ্জের কল্পা, সাংলা, ছিটকুল। রিকংপিওর পর থেকেই বৃষ্টি কমতে শুরু করে। জুলাই মাসে ছিটকুল ভ্যালি থাকে সবুজ, বাসপা নদীর জল থাকে পান্নার মতো। আপেল আর অ্যাপ্রিকট গাছে তখন ফল এসে যায়। বৃষ্টি নেই বলে কিন্নর কৈলাশের বরফঢাকা চূড়া কল্পা থেকে পরিষ্কার দেখা যায়। হাতে সময় কম থাকলে সাংলা ভ্যালিই আপনার উইকেন্ড ডেস্টিনেশন হতে পারে।
শেষ নামটা চমকে দেবে, কর্ণাটকের হাম্পি। বর্ষাকালে হাম্পির রূপ অন্যরকম। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের পাথরের মন্দির আর বিশাল বোল্ডারগুলো বৃষ্টিতে ভিজে আরও রহস্যময় লাগে। কিন্তু হাম্পি ‘রেইন শ্যাডো’ এলাকায় পড়ায় জুলাই মাসে ভারী বৃষ্টি হয়ই না। হালকা মেঘলা আকাশ আর ঠান্ডা হাওয়া থাকে, যা পাথরের শহর ঘোরার জন্য আদর্শ। তুঙ্গভদ্রা নদীতে তখন জলও থাকে, কোরাকল বোট রাইড করতে পারবেন। ভিড় আর গরম দুটোই কম।
তাহলে জুলাই মাসে ট্যুর ক্যানসেল করার দরকার নেই। ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। শুধু মনে রাখবেন, এই জায়গাগুলো শুকনো হলেও জুলাইতে দুপুরের রোদ বেশ চড়া। তাই সানস্ক্রিন, টুপি, সানগ্লাস আর জলের বোতল অবশ্যই নেবেন। লাদাখ-স্পিতির জন্য AMS বা উচ্চতাজনিত অসুস্থতা এড়াতে প্রথম দিন রেস্ট নিন আর প্রচুর জল খান। হোটেল আর গাড়ি আগে থেকে বুক করে গেলে অফ-সিজন ডিসকাউন্ট পাবেন। বৃষ্টি নেই মানে এই নয় যে ওয়েদার দেখবেন না, যাওয়ার আগে ১০ দিনের ফোরকাস্ট একবার চেক করে নেবেন।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News