Weekend Tour: দিঘা যেতে হবে না! মালদার বুকেই লুকিয়ে আছে ‘উত্তরবঙ্গের দিঘা’

Published : Aug 10, 2026, 10:11 PM IST
Digha

সংক্ষিপ্ত

সমুদ্রের টান কিন্তু ছুটি নেই? চিন্তা নেই। মালদার ভাটরা বিলে পাবেন জল, হাওয়া, নৌকা আর সূর্যাস্তের সেই একই আমেজ। জেনে নিন পুরো গাইড।

ছুটি মানেই ব্যাগ গুছিয়ে দিঘা-পুরী। কিন্তু ট্রেনের টিকিট, হোটেল, খরচ ভেবে প্ল্যান ক্যানসেল? এবার আর দূরে যেতে হবে না। মালদা শহর থেকে মাত্র 1 ঘণ্টার দূরত্বে আছে এমন একটা জায়গা, যেখানে গেলেই মনে হবে সমুদ্রের ধারে বসে আছেন। স্থানীয়রা নাম দিয়েছে "উত্তরবঙ্গের দিঘা"। নাম তার ভাটরা বিল। বিশাল জলরাশি, ঠান্ডা হাওয়া আর বিকেলের আগুন রঙের আকাশ - সব মিলিয়ে একদিনের জন্য পারফেক্ট উইকেন্ড ডেস্টিনেশন।

কেন ভাটরা বিলকে ‘উত্তরবঙ্গের দিঘা’ বলা হয়?

কারণটা খুব সোজা। যতদূর চোখ যায় শুধু জল আর জল। পাড়ে দাঁড়ালে হাওয়ায় ছোট ছোট ঢেউ এসে পায়ে লাগে। চারপাশে সবুজ মাঠ আর দূরে গ্রামের ঘরবাড়ি। এখানে সমুদ্রের মতো কোলাহল নেই, ভিড় নেই। আছে শুধু নির্জনতা আর প্রকৃতি। সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত হল বিকেল। সূর্য যখন ধীরে ধীরে জলের মধ্যে ডুবে যায়, আকাশটা লাল-কমলা-বেগুনি হয়ে ওঠে। সেই দৃশ্য দেখার পর দিঘার কথা মনেও পড়বে না। শীতকালে আবার বোনাস হিসেবে পাবেন অতিথি পাখি। হাজার হাজার পাখি এসে বিলের জলে বসে, উড়ে বেড়ায়। ফটোগ্রাফারদের জন্য এটা স্বর্গ।

ভাটরা বিলে গিয়ে কী করবেন? একদিনের ফুল প্ল্যান জানুন

1. নৌকা ভ্রমণ করে বিলের মাঝখানে যান: পাড়ে দাঁড়িয়ে দেখলে যা বোঝা যায় না, নৌকায় চড়লে সেটাই বোঝা যায়। স্থানীয় মাঝিরা 30 থেকে 45 মিনিটের জন্য নৌকা ভাড়া দেন। 200 থেকে 300 টাকায় 4-5 জন চড়তে পারবেন। জলের মাঝখানে গিয়ে যখন চারপাশে শুধু জল আর আকাশ দেখবেন, মনে হবে দুনিয়া থেকে আলাদা হয়ে গেছেন। মোবাইলের নেটওয়ার্কও মাঝে মাঝে চলে যায়, আর এটাই শান্তির আসল কারণ।

2. সানসেটের জন্য বিকেলটা রাখুন: সকালেও ভালো লাগবে কিন্তু আসল খেলা বিকেলে। 4টে নাগাদ পৌঁছে যান। পাড়ে বসে চা আর মুড়ি নিয়ে গল্প করুন। 5টা 20 থেকে 5টা 50 পর্যন্ত সূর্য ডোবে। জলের উপর সোনালি আলো পড়ে। এই সময়ের ছবি Instagram-এ দিলে সবাই জিজ্ঞেস করবে "এটা কোথায়?"

3. পরিবার নিয়ে পিকনিক করুন: শীতকাল মানেই ভাটরা বিলে পিকনিকের সিজন। স্কুল, কলেজ, অফিস সবাই আসে। চট বিছিয়ে, গান চালিয়ে সারাদিন আড্ডা। তবে মনে রাখবেন, এখানে কোনও দোকান নেই। খাবার, জল সব বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে হবে। আর প্লাস্টিক ফেলে জায়গাটা নোংরা করবেন না।

4. পাখি আর প্রকৃতি উপভোগ করুন: নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিল ভরে যায় পরিযায়ী পাখিতে। পাতিহাঁস, সরালি, রাজহাঁস। দূরবিন বা জুম লেন্স থাকলে দারুণ শট পাবেন। পাখি না থাকলেও বিলের চারপাশের গ্রাম্য জীবন দেখতেই ভালো লাগবে।

কীভাবে যাবেন আর কখন যাবেন? মালদার ইংরেজবাজার থেকে ভাটরা বিল 25-30 কিমি। নিজের গাড়ি বা বাইক থাকলে NH-34 ধরে কালিয়াচকের দিকে যান। তারপর লোকালকে জিজ্ঞেস করলেই রাস্তা দেখিয়ে দেবে। সময় লাগবে 45 মিনিট থেকে 1 ঘণ্টা। বাসে গেলে কালিয়াচক বা সুলতানগঞ্জের বাস ধরে ভাটরা মোড়ে নামতে হবে। সেখান থেকে টোটো। যাওয়ার বেস্ট সময় অক্টোবর থেকে মার্চ। ওয়েদার ঠান্ডা, আকাশ পরিষ্কার। এপ্রিল-মে তে গেলে সকাল 9 টার মধ্যে ফিরে আসুন। বর্ষায় জল বাড়ে কিন্তু রাস্তা খারাপ হয়।

থাকা-খাওয়া আর খরচ : ভাটরা বিলের একদম পাশে কোনও হোটেল বা রিসোর্ট নেই। তাই সকালে গিয়ে বিকেলে মালদায় ফিরে আসাই প্ল্যান। খাবারের জন্য 2-3টে চায়ের দোকান আছে। তবে পিকনিক করলে সব নিয়ে যাওয়াই ভালো। মাথাপিছু খরচ 300 থেকে 400 টাকার মধ্যে হয়ে যাবে। নৌকা + গাড়ি ভাড়া + খাবার। আমরা সবসময় ভাবি ভালো জায়গা মানেই অনেক দূরে। কিন্তু ভাটরা বিল প্রমাণ করে দেয়, সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে একদম কাছেই। একটা দিন, একটু সময় আর প্রিয় মানুষগুলো থাকলেই যথেষ্ট।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Height Check: ডায়েট করেও ওজন কমছে না? দোষটা উচ্চতারই, দেখুন আপনার মেনু
Monsoon Health: বর্ষায় হজমের সমস্যা? স্বস্তি দেবে এই ৬ ভেষজ চা, জানুন এক ক্লিকে