
Restaurant Rules: আপনি রেস্তোরাঁয় গিয়েছেন পরিবারের সঙ্গে ডিনার করতে। খাবার টেবিলে এসে গেছে, কিন্তু সবার চোখ মোবাইলে। কেউ রিল দেখছে, কেউ ছবি তুলছে, কেউ অফিসের মেল করছে। কথা বলার কেউ নেই। এই ছবিটা কি চেনা লাগছে? এই বিরক্তিকর ছবিটা বদলাতেই এবার কোমর বেঁধে নেমেছে রেস্তোরাঁ মালিকরা।
সম্প্রতি মুম্বই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু এবং কলকাতার কিছু প্রিমিয়াম রেস্তোরাঁয় নতুন নিয়ম চালু হয়েছে—
১. ঢোকার মুখে একটি বাক্সে নিজের মোবাইল জমা রাখতে হবে। ২. টেবিলে বসে মোবাইল ঘাঁটা যাবে না, ভিডিও কল, রিল বানানো একদম নিষিদ্ধ। ৩. জরুরি কল এলে বাইরে গিয়ে কথা বলতে হবে। ৪. অনেক জায়গায় নিয়ম ভাঙলে ১০% সার্ভিস চার্জ বেশি নেওয়া হচ্ছে বা ডিসকাউন্ট বাতিল করা হচ্ছে। শুনতে কড়া লাগলেও, কাস্টমাররা নাকি এই নিয়মকে সাদরে গ্রহণ করছেন!
১. মাইন্ডফুল ইটিং-এর জন্য: আমরা যখন মোবাইল দেখতে দেখতে খাই, তখন মস্তিষ্ক বুঝতেই পারে না আমরা কতটা খেলাম। ফলে বেশি খাওয়া হয়ে যায়, হজমের সমস্যা হয়। মোবাইল ছাড়া খেলে খাবারের স্বাদ, গন্ধ ভালোভাবে অনুভব করা যায়।
২. সম্পর্ক বাঁচাতে: গবেষণা বলছে, টেবিলে মোবাইল থাকলে কথোপকথন ৪০% কমে যায়। রেস্তোরাঁ চায় আপনি পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান, মোবাইলের সঙ্গে নয়।
৩. অন্য কাস্টমারের বিরক্তি: আপনার জোরে রিলের আওয়াজ, ভিডিও কলে চিৎকার পাশের টেবিলের মানুষের বিরক্তির কারণ হয়। ৪. রেস্তোরাঁর ব্যবসার কারণ: একটা টেবিলে বসে ২ ঘণ্টা ধরে একজন কাস্টমার যদি শুধু মোবাইল ঘাঁটে আর একটা কফি নিয়ে বসে থাকে, তাহলে রেস্তোরাঁর লোকসান। টেবিল ঘোরানো (Table Turnover) কমে যায়।
এই ট্রেন্ড নতুন নয়। ২০২২ সালে নিউ ইয়র্কের একটি বিখ্যাত রেস্তোরাঁ প্রথম এই নিয়ম চালু করে। তারপর লন্ডন, দুবাইয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতে এই ট্রেন্ড ঢোকে ২০২৪ সালের শেষ দিকে। পুনের একটি ক্যাফে প্রথম লেখে— "We don't have WiFi, talk to each other." পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই ভারতের বড় বড় শহরের ফাইন ডাইন রেস্তোরাঁগুলো এই পথে হাঁটছে। এখন কলকাতার পার্ক স্ট্রিট, সল্টলেকের কিছু ক্যাফেতেও দেখা যাচ্ছে বোর্ড— "No Phone Zone: Eat, Talk, Connect."
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News