
দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব উষ্ণায়ন বিজ্ঞানীদের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দূষণ যেমন বাড়ছে, তেমনই দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে পৃথিবী। এর প্রভাব পড়ছে জলবায়ু ও আবহাওয়ার ওপর। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা জানাচ্ছে, এই উষ্ণায়নের পেছনে সমুদ্রের ভূমিকাও অনেক বড়—বিশেষ করে মিথেন গ্যাস নিঃসরণের মাধ্যমে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের University of Rochester-এর বিজ্ঞানীরা সমুদ্রে মিথেনের উৎস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন। তাঁদের এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে প্রসেডিং অফ দি ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সাইন্স (Proceedings of the National Academy of Sciences-)
এ। গবেষণায় উঠে এসেছে, সমুদ্রে একটি বিশেষ জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মিথেন উৎপন্ন হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও তীব্র হতে পারে।
মিথেন একটি অত্যন্ত শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস। সাধারণত এটি অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে তৈরি হয়, যেমন জলাভূমি বা বদ্ধ জলাশয়ে। কিন্তু বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধাঁধা ছিল—সমুদ্রের উপরিতলের অক্সিজেনসমৃদ্ধ জল থেকেও কীভাবে মিথেন নির্গত হচ্ছে?
এই রহস্যেরই সমাধান খুঁজেছেন গবেষকরা। তাঁরা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ডেটাবেস ও কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে দেখেছেন, সমুদ্রে উপস্থিত কিছু নির্দিষ্ট জীবাণু জৈব পদার্থ ভাঙার সময় মিথেন উৎপন্ন করে। আর এই প্রক্রিয়ার মূল নিয়ন্ত্রক হলো ফসফেটের অভাব।
গবেষণায় বলা হয়েছে, যখন সমুদ্রের জলে ফসফেটের ঘাটতি দেখা দেয়, তখন ওই জীবাণুগুলি বিকল্প জৈব উপাদান ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে এবং তার ফলেই মিথেন গ্যাস তৈরি হয়—even অক্সিজেন থাকা সত্ত্বেও। ফলে এতদিনের ধারণা ভেঙে দিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, অক্সিজেনসমৃদ্ধ জলেও মিথেন উৎপাদন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হতে পারে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই প্রক্রিয়া বিশ্ব উষ্ণায়নের সঙ্গে এক ধরনের চক্র তৈরি করছে। একদিকে উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের স্তরগুলির মধ্যে মিশ্রণ কমে যাচ্ছে, যার ফলে উপরিতলে ফসফেটের অভাব দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে, সেই অভাবই মিথেন উৎপাদন বাড়াচ্ছে, যা আবার উষ্ণায়নকে ত্বরান্বিত করছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা বাড়লে উপরিতল ও গভীর স্তরের জলের ঘনত্বে পার্থক্য তৈরি হয়। এর ফলে পুষ্টি উপাদানগুলির স্বাভাবিক মিশ্রণ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং উপরিতলে ফসফেট পৌঁছাতে পারে না। এই অবস্থাই মিথেন উৎপাদনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
গবেষকরা মনে করছেন, সমুদ্রে মিথেন উৎপাদনের এই নতুন ধারণা জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে এই বিষয়ে আরও বিশদ গবেষণা প্রয়োজন। তাঁদের আশা, ভবিষ্যতে এই গবেষণা জলবায়ু মডেলের ফাঁকফোকর পূরণে সাহায্য করবে এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন মোকাবিলায় নতুন দিশা দেখাবে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News