
মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে মনে হচ্ছে দম বন্ধ হয়ে আসছে, বুকের ভেতর হাতুড়ি পিটছে, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। আবার জিমে ট্রেডমিলে একটু জোরে হাঁটলেই বুক ধড়ফড়। আমরা বেশিরভাগ সময়ই ভাবি এটা স্ট্রেস, প্যানিক অ্যাটাক বা ব্যায়ামের জন্য স্বাভাবিক। কিন্তু কার্ডিওলজিস্টরা বলছেন, এই পরিচিত লক্ষণগুলোর আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে হৃদরোগের নীরব সঙ্কেত।
প্যানিক অ্যাটাকের শ্বাসকষ্ট সাধারণত হঠাৎ শুরু হয়, সঙ্গে তীব্র মৃত্যুভয়, বুকে চাপ, হাত ঝিনঝিন করে এবং ১০ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে নিজে থেকেই কমে যায়। কিন্তু হার্টের সমস্যার শ্বাসকষ্টটা আলাদা। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে, অল্প হাঁটতে বা রাতে শুয়ে থাকলেও যদি দম নিতে কষ্ট হয়, শোয়ার জন্য দুটো বালিশ লাগে, পা ফুলে যায় এবং অল্পতেই ভীষণ ক্লান্ত লাগে, তাহলে সেটা হার্ট ফেইলিওর বা ভালভের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
একইভাবে শরীরচর্চার সময় হার্টবিট বাড়া স্বাভাবিক, কিন্তু কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। ব্যায়াম থামানোর পাঁচ থেকে সাত মিনিট পরেও যদি হার্টবিট স্বাভাবিক না হয়, বুক ধড়ফড়ের সঙ্গে বুকে চাপ বা ব্যথা, মাথা ঘোরা বা চোখে অন্ধকার দেখার মতো অনুভূতি হয়, তাহলে সতর্ক হতে হবে। আগে যে কাজে অল্প হার্টবিট বাড়ত, এখন একই কাজে অনেক বেশি বাড়ছে বা মাঝে মাঝে বিট মিস হচ্ছে মনে হলে, সেটা অ্যারিথমিয়া বা করোনারি আর্টারিতে ব্লকের লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষ করে যাদের পরিবারে কম বয়সে হৃদরোগের ইতিহাস আছে, যাদের ডায়াবেটিস, হাই প্রেশার, কোলেস্টেরল আছে বা ধূমপানের অভ্যাস আছে, তাদের এই লক্ষণগুলোকে কখনোই গ্যাস বা অ্যাংজাইটি ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। প্রথমবার প্যানিকের মতো কিছু হলে বা ব্যায়ামের সময় বুকের ব্যথা বাঁ হাত বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়লে অবশ্যই একজন কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নিন এবং ECG, Echo বা TMT এর মতো প্রাথমিক পরীক্ষাগুলো করিয়ে নিন।
ব্যায়াম করার সময়ে হৃদস্পন্দনের হার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং ব্যায়াম থামানোর পরে আবার তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে — আর এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু হার্টবিট বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে যদি বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট হওয়া কিংবা অস্বাভাবিক ক্লান্তি থাকে — সেটা অ্যারিদমিয়ার লক্ষণ হতে পারে।
অ্যারিদমিয়া অর্থাৎ অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের পিছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। আর এক্সারসাইজ়ের সময়ে অ্যারিদমিয়া হচ্ছে কি না, তা চট করে বোঝা বেশ কঠিন। যদি মনে হয় কোনও কারণ ছাড়া হার্টবিট বেড়ে গিয়েছে বা স্পন্দনটা ছন্দে নেই, তা হলে বুঝতে হবে কিছু গোলমাল রয়েছে। তবে এটা বোঝার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারব যে, এটা কি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নাকি অ্যারিদমিয়ার জেরে ঘটেছে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News