
Parenting Tips: আমার বাচ্চাটা ভীষণ লাজুক। বাড়িতে সারাক্ষণ বকবক করে মাথা খারাপ করে দেয়, কিন্তু স্কুলে গেলেই বা বাইরের কেউ এলে একদম চুপ। শিক্ষকরা বলেন ক্লাসে কোনও প্রশ্নের উত্তর দেয় না। অনেক বাবা-মায়ের মুখেই এই অভিযোগ শোনা যায়। আমরা সাধারণত ভাবি, বাচ্চাটা হয়তো একটু লাজুক প্রকৃতির, বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই চুপ হয়ে যাওয়া শুধু লাজুকতা নাও হতে পারে, এর পেছনে থাকতে পারে একটি বিশেষ মানসিক অবস্থা, যার নাম সিলেকটিভ মিউটিজম।
সিলেকটিভ মিউটিজম কী? এটি এক ধরনের অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার। এই সমস্যায় শিশুটি সব জায়গায় কথা বলতে পারে না। সে বাড়িতে, বাবা-মা বা খুব কাছের মানুষের সাথে খুব স্বাভাবিকভাবে কথা বলবে, খেলবে, কিন্তু স্কুলে, আত্মীয়ের বাড়িতে বা অচেনা পরিবেশে গেলেই তার মুখে যেন তালা পড়ে যায়। সে কথা বলতে চায়, কিন্তু তার ভেতরের উদ্বেগ তাকে বলতে দেয় না। অনেক সময় দেখা যায়, শিশুটি ইশারায় কথা বলে, ঘাড় নেড়ে উত্তর দেয়, কিন্তু মুখে শব্দ বের করে না।
কেন হয় এই সমস্যা? এর প্রধান কারণ হল অতিরিক্ত উদ্বেগ এবং নিরাপত্তাহীনতা। নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষের সামনে কথা বলার ভয় থেকেই এই সমস্যা তৈরি হয়। অনেক সময় অতিরিক্ত শাসন, বকাঝকা বা ছোটবেলায় কোনও খারাপ অভিজ্ঞতাও এর কারণ হতে পারে। জেনেটিক কারণেও হতে পারে, যদি পরিবারে কারও অ্যাংজাইটির সমস্যা থাকে।
কীভাবে বুঝবেন? যদি আপনার শিশু টানা এক মাসের বেশি সময় ধরে স্কুলে বা বাড়ির বাইরে কথা বলা বন্ধ করে দেয়, অথচ বাড়িতে স্বাভাবিক থাকে, তাহলে সতর্ক হন। সে যদি চোখে চোখ রেখে কথা বলতে ভয় পায়, ক্লাসে উত্তর দিতে গিয়ে কাঁদে বা জড়োসড়ো হয়ে যায়, তাহলে এটি সাধারণ লাজুকতা নয়।
এই সময়ে বাচ্চাকে জোর করে কথা বলানোর চেষ্টা করবেন না বা বকাঝকা করবেন না। এতে তার ভয় আরও বেড়ে যাবে। তার সাথে বন্ধুর মতো মিশুন, তার আত্মবিশ্বাস বাড়ান। ছোট ছোট সাফল্যের জন্য প্রশংসা করুন। স্কুলের শিক্ষকদের সাথে কথা বলুন যাতে তারা ক্লাসে শিশুটির উপর কথা বলার জন্য চাপ সৃষ্টি না করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিহেভিয়ার থেরাপি এবং প্লে থেরাপির মাধ্যমে এই সমস্যা পুরোপুরি ঠিক হয়ে যায়। তাই দেরি না করে শিশু মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নিন।
একেবারেই নয়। ‘কথা বলছ না কেন?’, ‘উত্তর দাও’, ‘এত লজ্জা কিসের?’— এই ধরনের কথা বলে চাপ দিলে সমস্যা কমার বদলে উদ্বেগ আরও বেড়ে যেতে পারে। বরং শিশুকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ দেওয়া জরুরি। তাকে সময় দিতে হবে। কথা বলার জন্য বারবার চাপ না দিয়ে ধীরে ধীরে নিজের মতো করে প্রকাশ করার সুযোগ দিতে হবে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News