বাবা-মায়ের ফোন স্ক্রলিং 'ফাবিং' কেড়ে নিচ্ছে সন্তানের শৈশব - একা হয়ে যাচ্ছে আজকের প্রজন্ম

Published : Jun 25, 2026, 12:03 PM IST
Phone Overheating

সংক্ষিপ্ত

মনোবিদরা বলছেন "Phubbing = Phone + Snubbing"। মানে কারও সাথে কথা বলার সময় ফোনে ব্যস্ত হয়ে তাকে অপমান করা। গবেষণা বলছে, বাবা-মা দিনে গড়ে ৩-৪ ঘণ্টা ফোনে থাকে। বাচ্চা ৩ বার ডাকলে ২ বারই উত্তর পায় না। 

সন্ধ্যা ৭টা। ড্রয়িং রুমে বাবা সোফায়, মা বিছানায়। মাঝে ৬ বছরের ছেলে রিয়ান। রিয়ান: "বাবা দেখো আমি টাওয়ার বানিয়েছি"। বাবা: "হুম খুব ভালো" - চোখ মোবাইলের রিলে। ২ মিনিট পর রিয়ান আবার: "মা দেখো"। মা: "একটু পরে সোনা, মা একটা মেসেজ করছে"। রিয়ান চুপ করে টাওয়ারটা ভেঙে দিলো।

এটাই "ফাবিং"। Phone + Snubbing। যাকে ভালোবাসো তার সামনেই ফোনে ডুবে থেকে তাকে এড়িয়ে যাওয়া।

বাবা-মায়ের ১ মিনিটের ফোন = বাচ্চার ১ ঘণ্টার একাকীত্ব:

১. "আমি গুরুত্বপূর্ণ না" - এই বিশ্বাসটা তৈরি হয় ৫ বছরের বাচ্চা বোঝে না WhatsApp কেন জরুরি। ও বোঝে - যখন আমি ডাকি, মা-বাবা তাকায় না। ৩-৪ বার এরকম হলে বাচ্চার মাথায় ঢুকে যায়: "আমার কথা শোনার মতো কেউ নেই"। তারপর ও নিজেই ফোন/টিভি/গেমের দিকে ঝুঁকে পড়ে। একা একা বড় হয়।

২. রাগ + জেদ বাড়ে মনোযোগ না পেলে বাচ্চা ২টো রাস্তা নেয়। হয় একদম চুপ হয়ে যায়, নয়তো ভাঙচুর-চিৎকার করে। প্যারেন্টস ভাবে "বাচ্চাটা জেদি হয়ে যাচ্ছে"। আসলে ও বলছে: "আমাকে একটু দেখো"।

৩. ভাষা আর ইমোশন শেখা আটকে যায় বাচ্চা কথা বলতে শেখে মা-বাবার মুখ দেখে। হাসি, রাগ, কান্না - চোখে চোখ রেখে শেখে। বাবা-মা যদি সারাদিন স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকে, বাচ্চা "ইমোশন" পড়তে শেখে না। বড় হয়ে ও-ও মানুষের সাথে কানেক্ট করতে পারে না।

৪. বাবা-মা-ও একা হয়ে যায় মজার ব্যাপার হলো, বাবা-মা ফোন ঘাঁটছে "স্ট্রেস কমাতে"। কিন্তু বাচ্চার সাথে কানেকশন না থাকলে বাড়িতেই অশান্তি বাড়ে। বাচ্চা জেদ করে, বাবা-মা রেগে যায়। তারপর বাবা-মা আরও ফোনে ডুবে যায় শান্তির জন্য। দুষ্টচক্র।

তাহলে সমাধান কী? ৩টে "নো ফোন রুল" :

১. ২০ মিনিটের "ফুল অ্যাটেনশন টাইম" দিনে শুধু ২০ মিনিট। ফোন অন্য ঘরে রেখে দাও। বাচ্চা যা দেখাতে চায় দেখো, যা বলতে চায় শোনো। চোখে চোখ রাখো। ২০ মিনিটের কোয়ালিটি টাইম > ৩ ঘণ্টা পাশে বসে ফোন ঘাঁটা।

২. খাওয়ার টেবিল = নো ফোন জোন সকালে-রাতে খাওয়ার সময় সবার ফোন বন্ধ। শুধু গল্প। "আজ স্কুলে কী হলো?" এই ১০ মিনিটের গল্পই বাচ্চার মানসিক স্বাস্থ্যের ভিত।

৩. নিজে উদাহরণ হও বাচ্চাকে "ফোন কম চালাও" বলার আগে নিজে কম চালাও। বাচ্চা কপি করে, কথা শোনে না। তুমি রিল দেখা বন্ধ করলে ও-ও কার্টুন কম দেখবে।

শেষ কথা: বাবা-মা খারাপ না। আমরাও ক্লান্ত, স্ট্রেসড। ফোনটা ৫ মিনিটের এস্কেপ। কিন্তু বাচ্চার কাছে ওই ৫ মিনিট = সারাজীবনের অভাব।

মোবাইল ছাড়া ১ ঘণ্টা থাকলে দুনিয়া থেমে যাবে না। কিন্তু বাচ্চার সাথে ১ ঘণ্টা না থাকলে ওর শৈশবটা থেমে যাবে।

ফোনটা হাতে না, মনটা বাচ্চার কাছে রাখো। ও বড় হয়ে যাবে একদিন। তখন ফোন দেখানোর জন্য ও আর থাকবে না।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

ঝাড়খণ্ডের সৌন্দর্য "সাতশো পাহাড়ের জঙ্গল" সারান্ডা: যেখানে হাতি-চিতার সমাহার
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন? নিয়মিত খান এই ৬টি পানীয়, মিলবে আরাম