Travel News: দিঘা থেকে মাত্র ৭০ কিমি দূরে ওড়িশার জঙ্গলে লুকিয়ে আছে মাছা কান্দানা জলপ্রপাত। নাম শোনেনি ৯০% টুরিস্ট। পাথরের উপর দিয়ে নেমে আসা ঠান্ডা জল আর চারপাশের নিস্তব্ধতা - উইকেন্ড ট্রিপের জন্য পারফেক্ট।
Tourism News: দিঘা গেলেই আমরা সবাই সমুদ্র আর মার্কেটেই আটকে যাই। কিন্তু দিঘা থেকে মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার দূরত্বে ওড়িশার বালেশ্বর জেলায় লুকিয়ে আছে এমন একটা জায়গা, যার কথা বেশিরভাগ মানুষই জানে না। জায়গাটার নাম মাছা কান্দানা জলপ্রপাত। এখানে গেলে বুঝবেন দিঘা শুধু সমুদ্রের জন্য নয়, পাশেই প্রকৃতির আরেকটা রূপও লুকিয়ে আছে। মাছা কান্দানা এখনও একদম অফবিট। চারপাশে শুধু ঘন জঙ্গল আর উঁচু উঁচু গাছ। তার মাঝখান দিয়ে কালো পাথর বেয়ে নেমে আসছে ঠান্ডা জল। কোনো ভিড় নেই, দোকান নেই, চিৎকার নেই। শুধু পাখির ডাক আর জল পড়ার শব্দ। শহরের ব্যস্ততা থেকে দুদণ্ড শান্তি পেতে চাইলে এর থেকে ভালো জায়গা হয় না।
দিঘার কাছে অফবিট ভ্রমণ
দিঘা থেকে দূরত্ব প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ কিলোমিটার। নিজের গাড়ি বা বাইক থাকলে সবচেয়ে ভালো। নীলগিরি-বস্তা রোড ধরে যেতে হবে। শেষের ৭-৮ কিলোমিটার রাস্তা একদম জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে গেছে। রাস্তা কাঁচা, তাই ফোর হুইলার হলে সুবিধা। আর যদি পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যান, তাহলে প্রথমে নীলগিরি পর্যন্ত বাসে যেতে হবে। তারপর সেখান থেকে অটো বা টোটো রিজার্ভ করে নিতে হবে। জলপ্রপাতটা উচ্চতায় খুব বেশি নয়, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট। কিন্তু জলের ধারাটা সরু হয়ে কালো পাথরের গা বেয়ে নিচে নামছে। নিচে ছোট একটা প্রাকৃতিক পুলের মতো তৈরি হয়েছে। জল এতটাই ঠান্ডা যে পা ডুবিয়ে বেশিক্ষণ বসে থাকা যায় না। বর্ষা থেকে শীতকাল পর্যন্ত এখানে জলের পরিমাণ সবচেয়ে ভালো থাকে। তবে পাথরগুলো খুব পিছল, তাই নামার সময় একটু সাবধানে পা ফেলতে হবে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জায়গা
এখানে গিয়ে করার মতো আলাদা কিছু নেই। শুধু বসে প্রকৃতিটা দেখা, ছবি তোলা আর নিস্তব্ধতা উপভোগ করা। পাশেই একটা ছোট আদিবাসী গ্রাম আছে। ওরা মাঝে মাঝে টাটকা ফল নিয়ে আসে। তবে খাবার বা জলের জন্য কোনো দোকান পাবেন না। তাই বাড়ি থেকে খাবার জল, শুকনো খাবার, ওষুধ আর পাওয়ার ব্যাঙ্ক সঙ্গে নিয়ে যাওয়া মাস্ট। আর হ্যাঁ, গ্রিপওয়ালা জুতো পরতে ভুলবেন না। সবচেয়ে বড় কথা, জায়গাটা নোংরা করবেন না। নিজের আবর্জনা নিজেই ফিরিয়ে আনুন।
যাওয়ার সেরা সময় কখন?
মাছা কান্দানা যাওয়ার সেরা সময় হল অক্টোবর থেকে মার্চ। এই সময় আবহাওয়া ঠান্ডা থাকে আর জলের ফ্লোও ঠিকঠাক থাকে। হাতে একটা সারা দিন সময় রাখলেই হবে। সকাল সাতটায় দিঘা থেকে বেরিয়ে পড়লে দুপুরের মধ্যে পৌঁছে তিন-চার ঘণ্টা কাটিয়ে বিকেলের মধ্যে আবার দিঘা ফিরে আসা যায়। তাই পরেরবার দিঘা গেলে শুধু সমুদ্র দেখেই ফিরে আসবেন না। একটা দিন সময় করে "মাছা কান্দানা" ঘুরে আসুন। কথা দিচ্ছি, দিঘার এই তিন ঘণ্টার জার্নিটাই আপনার কাছে সবচেয়ে স্পেশাল হয়ে থাকবে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


