PCOS থেকে PMOS: ডাক্তাররা কেন নাম পাল্টালেন? আপনার জন্য কতটা বিপদ?

Published : May 14, 2026, 02:01 PM IST
pcos

সংক্ষিপ্ত

PCOS শব্দটা ভুলে যান। ডাক্তাররা এখন বলছেন Polycystic Metabolic Ovarian Syndrome। কারণটা শুধু ওভারি নয়, পুরো শরীরের মেটাবলিজম। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ওবেসিটি, ফ্যাটি লিভার, ডায়াবেটিস– সব একসূত্রে গাঁথা। তাই নাম বদলে রোগটাকে বোঝানো হচ্ছে আরও ভালোভাবে। 

Heading : 

URL: 

Keywords: 

সারাংশ: 

প্রেসক্রিপশনে এতদিন লেখা হত PCOS। এবার থেকে ডাক্তার লিখবেন PMOS। আচমকা নাম বদলে ঘাবড়ে যাচ্ছেন মহিলারা। ভাবছেন, এটা কি নতুন কোনও রোগ? না। রোগ একই, বোঝার ধরনটা পাল্টেছে।

১. কেন PCOS থেকে PMOS? এতদিন ভাবা হত, Polycystic Ovary Syndrome মানে শুধু ওভারিতে সিস্ট আর হরমোনের গণ্ডগোল। কিন্তু ৮০% PCOS রোগীর শরীরে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করে না। ওজন বাড়ে, পেটে মেদ জমে, ফ্যাটি লিভার হয়, সুগার বর্ডারলাইনে চলে যায়।

অর্থাৎ সমস্যাটা শুধু ‘ওভারি’ কেন্দ্রিক নয়, ‘মেটাবলিক’। তাই ইন্টারন্যাশনাল PCOS গাইডলাইনে এক্সপার্টরা নাম বদলের প্রস্তাব দেন – Polycystic Metabolic Ovarian Syndrome বা PMOS। ভারতের এন্ডোক্রিনোলজি সোসাইটিও এটা মেনে নিয়েছে।

২. PCOS আর PMOS-এর তফাৎ কী? - PCOS: ফোকাস ছিল ৩টে জিনিসে – অনিয়মিত পিরিয়ড, ওভারিতে ছোট সিস্ট, আর পুরুষ হরমোন বাড়ানো। - PMOS: এই ৩টে প্লাস মেটাবলিক সমস্যা। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ওবেসিটি, হাই কোলেস্টেরল, ফ্যাটি লিভার, হাই BP – এগুলোকেও রোগের অংশ ধরা হচ্ছে। নামেই বোঝা যাচ্ছে, ‘M’ মানে Metabolic।

৩. PMOS-এর ১০টা কমন লক্ষণ: ১. ২-৩ মাস অন্তর পিরিয়ড বা একদম বন্ধ ২. মুখে, বুকে, পেটে অবাঞ্ছিত লোম ৩. মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়া ৪. ব্রণ, তেলতেলে ত্বক ৫. খিদে পেলেও খাবার পর ঝিমুনি – ইনসুলিনের খেলা ৬. ঘাড়ের পিছনে, বগলে কালো ছোপ – Acanthosis Nigricans ৭. পেটের মেদ কিছুতেই কমে না ৮. সারাক্ষণ ক্লান্তি, মুড সুইং ৯. প্রেগন্যান্সিতে সমস্যা ১০. ফ্যাটি লিভার, কোলেস্টেরল হাই

৪. নাম বদলে লাভ কী? ডাক্তাররা বলছেন, PCOS শুনলে রোগীরা শুধু গাইনির কাছে যেত। ওভারির চিকিৎসা হত, কিন্তু আসল শত্রু – ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স – থেকে যেত। ফলে ১০ বছর পর ডায়াবেটিস, ২০ বছর পর হার্টের অসুখ।

PMOS নামটা শুনলেই বোঝা যাবে, এটা লাইফস্টাইল ডিজিজ। গাইনি + এন্ডোক্রিনোলজিস্ট + ডায়েটিশিয়ান – তিনজনের টিম লাগবে। শুধু ওষুধ নয়, ওজন কমানো, হাঁটা, সুগার কন্ট্রোল মাস্ট।

৫. চিকিৎসা কি পাল্টে গেল? মূল থেরাপি একই – লাইফস্টাইল মডিফিকেশন। ৫-১০% ওজন কমলেই ৭০% কেসে পিরিয়ড রেগুলার হয়। সঙ্গে দরকারে মেটফর্মিন, ইনোসিটল, হরমোন পিল।

নতুন সংযোজন: এখন থেকে PMOS ডায়াগনোসিস হলে সুগার, লিপিড প্রোফাইল, লিভার ফাংশন, BP – সব রুটিন চেকআপে রাখতে হবে। কারণ এটা শুধু ‘বাচ্চা না হওয়ার’ রোগ নয়, ‘ভবিষ্যতে হার্ট-সুগারের’ রোগ।

৬. কাদের রিস্ক বেশি? মা-মাসির PCOS থাকলে, ছোট থেকে ওজন বেশি, জাঙ্ক ফুড-কোল্ড ড্রিংকসে আসক্তি, এক্সারসাইজ জিরো – এদের PMOS-এর চান্স ৬০% বেশি। ভারতে প্রতি ৫ জন মেয়ের ১ জন এখন PMOS-এ আক্রান্ত।

শেষ কথা: নাম বদলেছে, কিন্তু আতঙ্কের কিছু নেই। বরং ভালো। আগে রোগটাকে আন্ডারএস্টিমেট করা হত। এখন ডাক্তার-রোগী দু’পক্ষই বুঝবে, এটা ফুল বডি ডিজঅর্ডার। তাই পিরিয়ড অনিয়ম হলেই শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে চুপ থাকবেন না। টেস্ট করান, লাইফস্টাইল পাল্টান।

মনে রাখবেন, PMOS কন্ট্রোলেবল। ডায়াবেটিসের মতোই। যত তাড়াতাড়ি ধরবেন, তত তাড়াতাড়ি জিতবেন।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Skin Care Tips: গরমে ত্বক থাকবে ফ্রেশ! কাঁচা দুধের ক্লিনজারে ঘাম-ময়লা ভ্যানিশ, শিখে নিন ২ মিনিটের রূপটান
Diabetes Diet: ডায়াবেটিস থাকলে কোন কোন খাবার একেবারেই খাবেন না? তালিকা দেখে নিন