শরীরের প্রায় সব কাজেই প্রোটিনের একটা বড় ভূমিকা আছে। মেটাবলিজম, হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা থেকে শুরু করে পেশির গঠন এবং ত্বকের স্বাস্থ্য—সবকিছুই প্রোটিনের ওপর নির্ভরশীল।
শরীরের মেটাবলিজম, হরমোনের ভারসাম্য, পেশির স্বাস্থ্য এবং ত্বকের যত্ন—সবকিছুর জন্যই প্রোটিন খুব জরুরি। গবেষণা বলছে, অনেকেই, বিশেষ করে মহিলা এবং বয়স্করা, প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করেন না। শরীরে প্রোটিনের অভাব হলে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা যায়, যা জানা দরকার।
27
প্রোটিনের অভাবের প্রথম লক্ষণ হল মারাত্মক ক্লান্তি।
পর্যাপ্ত ঘুমিয়েও যদি আপনার সারাদিন খুব ক্লান্ত লাগে বা দুর্বল মনে হয়, তাহলে বুঝতে হবে শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি থাকতে পারে। শরীরে প্রোটিন না থাকলে, শরীর সারাদিনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ধরে রাখতে পারে না। এর ফলে আপনার সবসময় ঝিমুনি ভাব বা ক্লান্তি লাগতে পারে।
37
মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ হল আরেকটি লক্ষণ।
আপনার যদি মিষ্টি বা প্রসেসড কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারের প্রতি খুব বেশি লোভ হয়, তবে এটি আপনার ডায়েটে প্রোটিনের অভাবের লক্ষণ হতে পারে। প্রোটিন আমাদের খিদে নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বাড়তে দেয় না।
47
অতিরিক্ত চুল পড়া, নখ ভেঙে যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে।
শরীরে প্রোটিনের মাত্রা কমে গেলে চুল পড়া বেড়ে যায় এবং নখ সহজেই ভেঙে যেতে পারে। প্রোটিনের অভাবের প্রভাব প্রথম ত্বক, চুল এবং নখে দেখা যায়। ত্বকে লালচে ভাব, ভঙ্গুর নখ এবং চুল পাতলা হয়ে যাওয়া—এগুলো সবই প্রোটিনের অভাবের লক্ষণ হতে পারে।
57
প্রোটিন কমলে রক্তে শর্করার মাত্রাও কমে যায়।
শরীরে প্রোটিন কম থাকলে রক্তে শর্করার পরিমাণও কমে যায়। এই কারণেই আমাদের মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা জাগে। কিন্তু মিষ্টি খাবার যতই খান, তাতে পেট ভরে না। অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে স্বাস্থ্যের আরও ক্ষতি হতে পারে।
67
চিন্তাভাবনায় অস্পষ্টতা, মনোযোগে অসুবিধা এবং মেজাজের পরিবর্তন হতে পারে।
শরীরে প্রোটিনের মাত্রা কমে গেলে চিন্তাভাবনায় স্বচ্ছতা কমে, মনোযোগ দিতে অসুবিধা হয় এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। কারণ, আমাদের মস্তিষ্কের অ্যামাইনো অ্যাসিড প্রয়োজন হয় ডোপামিন এবং সেরোটোনিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটার তৈরির জন্য, যা মেজাজ, উৎসাহ এবং সতর্কতা নিয়ন্ত্রণ করে।
77
সবসময় খিদে লাগা আরেকটি লক্ষণ।
সবসময় খিদে পাওয়া প্রোটিনের অভাবের আরেকটি বড় লক্ষণ। পেট ভরে খাওয়ার পরেও যদি আপনার খিদে পায়, তবে তা উপেক্ষা করবেন না। এর কারণ হতে পারে আপনার খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ কম। প্রোটিন খিদে কমায়, রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে এবং অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।