
Travel Tips: ছুটি মানেই দিঘা-দার্জিলিং নয়। পলাশের টানে পুরুলিয়া গেলেও ভিড়ের ঠেলায় অযোধ্যা পাহাড়ে শান্তি মেলে না। এবার বাঙালির উইকেন্ড গন্তব্যের তালিকায় নতুন নাম যোগ হচ্ছে — সেঁওয়াতি পাহাড়।
পুরুলিয়া জেলার বাঘমুন্ডি ব্লকের একেবারে কোলে, অযোধ্যা পাহাড় থেকে মাত্র ১৮ কিমি দূরে অবস্থিত এই সবুজ পাহাড় এখনও পর্যন্ত অনেকের কাছেই অজানা। কিন্তু রাজ্য পর্যটন দফতর এটিকে "ইকো-ট্যুরিজম হাব" হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করতেই ধীরে ধীরে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে।
১. ঘন শাল-মহুয়ার জঙ্গল ও ট্রেকিং ট্রেল
চারপাশে শুধু সবুজ আর সবুজ। শাল, পিয়াল, মহুয়া, কেন্দ আর সেগুন গাছের জঙ্গল। ভোরবেলা পাখির ডাক আর রাতে ঝিঁঝির শব্দ — শহরের কোলাহল থেকে ১০% ছুটি। ট্রেকিং প্রেমীদের জন্য জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ৩ কিমি ও ৫ কিমির দুটি পায়ে চলা পথ তৈরি করেছে বন দফতর। গাইড নিয়ে গেলে হরিণ, খরগোশ এমনকি ময়ূরের দেখাও মিলতে পারে।
২. আদিবাসী গ্রাম ও সংস্কৃতি
পাহাড়ের পাদদেশে মুন্ডা ও সাঁওতাল জনপদ। এখানে গেলে দেখতে পাবেন মাটির বাড়ি, আলপনা দেওয়া উঠোন, হাতে বোনা শাড়ি আর ঢোল-মাদলের ছন্দে সাঁওতালি নাচ। পর্যটন দফতর "গ্রামীণ হোমস্টে" চালু করেছে। সেখানে থাকলে পাবেন হাতে গড়া মহুয়া রুটি, পোস্ত-বড়া আর লাল চা। স্থানীয় মহিলারা ডোকরা ও বেতের জিনিস বিক্রি করেন।
৩. গুপ্ত ঝর্ণা ও প্রাকৃতিক জলাশয়
বর্ষায় সেঁওয়াতির বুক চিরে নেমে আসে ছোট ছোট ঝর্ণা। সবচেয়ে বিখ্যাত "সেঁওয়াতি ঝোরা"। জলের রং কাঁচের মতো স্বচ্ছ। পাথরের ওপর বসে পা ডোবানো যায়। পিকনিক ও ফটোগ্রাফির জন্য আদর্শ জায়গা। শীতে ঝর্ণা ছোট হলেও চারপাশের কুয়াশা দারুণ লাগে।
৪. সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের ভিউ পয়েন্ট
পাহাড়ের মাথায় ছোট একটি ভিউ পয়েন্ট ও ওয়াচ টাওয়ার তৈরি হয়েছে। এখান থেকে পুরো পুরুলিয়ার উপত্যকা, দূরের অযোধ্যা রেঞ্জ এমনকি ঝাড়খণ্ডের পাহাড়ও দেখা যায়। সূর্যোদয়ের সময় কুয়াশা ভেদ করে লাল সূর্য আর সন্ধ্যায় কমলা আকাশ — ক্যামেরা হাতে না থাকলে আফসোস হবে।
৫. তাঁরা মায়ের ছোট মন্দির
পাহাড়ের নীচে একটি প্রাচীন তাঁরা মায়ের মন্দির আছে। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন এই মন্দিরে মানত করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়। প্রতি অমাবস্যায় এখানে ছোট মেলা বসে।
কীভাবে যাবেন ও কোথায় থাকবেন?
রাস্তা: কলকাতা থেকে রূপসী বাংলা/চক্রধরপুর এক্সপ্রেসে পুরুলিয়া স্টেশন। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে বাঘমুন্ডি হয়ে সেঁওয়াতি — প্রায় ২.৫ ঘণ্টা। বাঘমুন্ডি থেকে টোটোও পেয়ে যাবেন।
থাকা: রাজ্য পর্যটনের "সেঁওয়াতি ইকো-রিসর্ট", ৩টি বেসরকারি হোমস্টে ও ১০টি টেন্ট। ভাড়া ১২০০ টাকা থেকে শুরু। উইকেন্ডে অগ্রিম বুকিং মাস্ট।
খাওয়া: হোমস্টেতেই দেশি মুরগি, দেশি মদ আর মহুয়ার চাটনি পাবেন।
সেরা সময়: অক্টোবর থেকে মার্চ। পলাশের সময় ফেব্রুয়ারি-মার্চ সেরা। বর্ষায় ঝর্ণা সুন্দর হলেও রাস্তা পিচ্ছিল।
কেন যাবেন সেঁওয়াতি?
১. ভিড় নেই: অযোধ্যা পাহাড়ে এখন ট্যুরিস্টের লাইন। সেঁওয়াতি এখনও "আনটাচড"।
২. সস্তা: হোটেল, খাওয়া, ঘোরা সব মিলিয়ে ২ দিনে জনপ্রতি ৩৫০-৪০০ টাকায় হয়ে যাবে।
৩. প্রকৃতি + সংস্কৃতি: শুধু পাহাড় নয়, আদিবাসী জীবনও দেখতে পাবেন।
৪. সরকারি উদ্যোগ: রাজ্য সরকার এখানে ট্রেকিং ট্রেল, ওয়াচ টাওয়ার, সোলার লাইট ও স্থানীয় হস্তশিল্পের বাজার বানোর কাজ শুরু করেছে।
স্থানীয়দের কথা: "আগে কেউ আসত না। এখন বাবুরা আসছে, আমাদের হাতের জিনিস বিক্রি হচ্ছে। জঙ্গলও বাঁচছে" বললেন সেঁওয়াতি গ্রামের প্রধান সুখলাল মুর্মু।
পুরুলিয়া মানেই শুধু পলাশ নয়। সেঁওয়াতি প্রমাণ করে দেয় বাংলার জঙ্গলেও লুকিয়ে আছে হিমালয়ের মতো শান্তি। ২ দিনের জন্য মোবাইল-নেটওয়ার্ক ভুলে সবুজে ডুব দিতে চাইলে ঘুরে আসুন সেঁওয়াতি।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News